বিছানায় শুয়ে সন্তানের মুখ না দেখে চলে গেলেন রহুল আমিন চৌধুরী
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২৮, ২০২৩ ১১:২৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২৮, ২০২৩ ১১:২৪ অপরাহ্ণ

২৬ আগস্ট, ২০২১ রাতে শাহীনবাগের ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর গুম হওয়া এ এম আদনান চৌধুরীর অসুস্থ পিতা রুহুল আমিন চৌধুরীকে তার বাসায় দেখতে যান মায়ের ডাকের সমন্বয়কারী আফরোজা ইসলাম আঁখি, বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা, গুম হওয়া ড্রাইভার কাওছারের স্ত্রী মিনু এবং শিশু কন্যা লামিয়া মীম। এ সময় তিনি বিছানায় শুয়ে থেকেই কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার প্রিয় সন্তানের মুখ দেখে মৃত্যুবরণ করতে চাই। তাঁর শেষ ইচ্ছে পূরণ হলো না।আজ ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩ বৃহস্পতিবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন।তাঁর মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে আসে গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। মায়ের ডাক এর সমন্নয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি কাঁদতে কাঁদতে জানালো রুহুল আমিন চৌধুরী চাচা আর তার ছেলের ছবি নিয়ে কোথাও দাঁড়াবে না। সবাই তাঁর শাহীনবাগের বাসার দিকে ছুটে আসছে চাচাকে শেষবারের মতো দেখতে। আদনান চৌধুরী এর মা কনিজ কোন কথা বলতে পারছেনা। সন্তান গুম স্বামী না ফেরার দেশে। এখন কি করে তার দিন যাবে?কাঁদতে কাঁদতে চিৎকার করে বলছে হে আল্লাহ তুমি আমাকে নিলানা কেন?এর জবাব কারো কাছে নেই। সবার চোখে পানি।আফরোজা ইসলাম আঁখি কি করবে কি বলবে কিছুই বুঝতে পারছেনা।চারিদিকে শুধু শোকের মাতম।
এর আগে আমরা যখন চাচা কে দেখতে গিয়েছিলাম তখন তিনি বলেছিলেন,” আমি হাসপাতালের বিছানায় স্বপ্ন দেখেছিলাম, আমার ছেলে আদনান আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে আর কানের কাছে ফিসফিস করে বলছে, বাবা তুমি চিন্তা করো না। চোখ খুলে দেখি, আমার প্রিয় আদনান আমার পাশে নেই, তখন বুকটা হাহাকার করে উঠল।আমার ছেলে প্রায়ই বলত, বাবা তুমি চিন্তা করো না, আমি বিদেশে গিয়ে অনেক টাকা রোজগার করে, তোমার ও মায়ের সব দায় দায়িত্ব নেব।অথচ ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর সেই কালোরাতের রাত দুইটার সময় আমার সামনে র্যাব পরিচয় দিয়ে তুলে নিয়ে গেল।দেখতে দেখতে দশ বছর পার হল, আমার ছেলে সহ ওরা কেউ ফিরে এল না।আমার সোনার মানিক কি অপরাধ করেছিল,আজ ও তা আমি জানতে পারিনি। ঈদ যায়, রোজা যায়। কিন্তু ও কোনো উৎসবে ঘরে আসে না।
আমার খোকা কি কোনো দিনই ফিরবে না?প্রতিবছর প্রেসক্লাবে গিয়ে আমার ছেলে সহ গুম হওয়া সবাইকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে কথা বলেছি, এখন আমি হাটতে চলতে পারি না।
তবে আমার আত্মা চিৎকার করে বলবে, আমার সন্তান সহ সব সন্তানদের মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিন। এই সময় পাশে বসা আদনানের মা অঝোরে কাঁদছিল।”আজ সেই কান্না আরো বেড়ে গেলো।এভাবে ২০২১ সালের ১৪ জানুয়ারি গুম হওয়া ড্রাইভার কাওসার এর মা কমলা বেগম না ফেরার দেশে চলে গেছেন। গুম হওয়া সাজেদুল ইসলাম সুমন এর মা হাজেরা খাতুন তিঁনিও খুব অসুস্থ। তেমন হাঁটাচলা করতে পারেন না।এভাবেই সব স্বজনরা চলে যাবে? ওরা কেউ ফিরে আসবেনা। আল্লাহ তুমি ছাড়া আর কেউ নেই, তুমি বিচার করো।রুহুল আমিন চৌধুরী চাচাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের উচ্চ মাকামে স্থান দান করুন।
লেখক ঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা
চেয়ারম্যান, জাতীয় মানবাধিকার সমিতি
জনতার আওয়াজ/আ আ