বিজয়ের মাসেই আরেকটি বিজয়ের সুখবর পাবে: রিজভী
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, ডিসেম্বর ১, ২০২৩ ১১:৩৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, ডিসেম্বর ১, ২০২৩ ১১:৩৪ অপরাহ্ণ

নিউজ ডেস্ক
অগণতান্ত্রিক কার্যকারিতা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি ভারতীয় সমর্থন বিস্ময়কর এবং বেমানান বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ভারতের সরকার বাংলাদেশের জনগণকে তার প্রতিপক্ষ করেছে কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ ভারতের জনগণকে বন্ধুসূলভ বলে মনে করে। কর্তৃত্ববাদী দেশ রাশিয়া শেখ হাসিনাকে সমর্থন করতে পারে। কারণ রাশিয়াতে কোন গণতন্ত্রের ছিটেফুটোও নেই। কিন্তু ভারতের সরকার বাংলাদেশের শেখ হাসিনা সমর্থন করাটা গভীর রহস্যজনক এবং সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি ভারতের উদ্দেশ্যে বলতে চাই বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আপনি বাংলাদেশে জনগণের বন্ধু হতে পারবেন না।
তিনি বলেন, বিশ্বের সমস্ত গণতান্ত্রিক শক্তি এবং দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের প্রত্যাশিত একটি অবাধ নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবর্তে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের মতো আরেকটি ভোট ডাকাতির উৎসবের পথ বেঁছে নিয়েছেন। বাংলাদেশে যে তথাকথিত নির্বাচনের পায়তারা চলছে তা ভোটারদের নয়, জনগণের জন্য নয়, এটা হতে চলেছে শেখ হাসিনার আরেকটি কদর্য রাজ্যাভিষেকের উৎসব।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশ্যে বিএনপির মুখপাত্র বলেন, আজ তিনি বলেছেন, তাদের নির্বাচনের ট্রেন চলতে শুরু করছে। কিন্তু তাদের ট্রেনের সব যাত্রীতো নৌকা আর আওয়ামী লীগের গণবিচ্ছিন্ন লোকজন। নগদ টাকায় ক্রয় করা কতিপয় উচ্ছিস্টভোগী বেইমান গণশত্রুকে ছলে বলে কৌশলে ভাগিয়ে নিয়ে সাথে ট্রেনে তুলেছে। ৫৭ সেকেন্ডে ৪৩ ভোটের খোয়াবে তারা এলাকায় গেলে ভোটবঞ্ছিত মানুষের গণধোলাইয়ের শিকার হতে পারে। ইতোমধ্যে জাতিসংঘসহ ইউরোপ-আমেরিকা নিশ্চিত হয়েছে যে, আরেকটি তামাশার পাতানো নির্বাচনরঙ্গ মঞ্চস্ত করতে চলেছে নিশিরাতের অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
‘এ কারণে জাতিসংঘ ঘোষনা করেছে এই ভূয়া নির্বাচনে তারা কোন পর্যবেক্ষক পাঠাবেন না। অন্য সব গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রও আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। দেশ-বিদেশের সবাই শেখ হাসিনার আসন্ন অভিনব ভোট ডাকাতির ফর্মুলা আগেভাগেই জেনে গেছে। ফ্যাসিবাদ সহযোগী নির্বাচন কমিশন রকিব ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৪ জনকে বিজয়ী করে রেকর্ড গড়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, হুদা কমিশন ২০১৮ সালে রাতের আধারে ব্যালটে সিল দিয়ে ভোট ডাকাতির অভূতপূর্ব রেকর্ড তৈরি করেছে বিশ্বে আর এবার ফ্যাসিবাদের দোসর কাজী হাবিবুল আওয়াল শেখ হাসিনার পিক অ্যান্ড চুজ করা হবে ভোটের রাতে ফলাফল ঘোষণার মাধ্যমে। তবে ওবায়দুল কাদের সাহেবরা যেসব কুইন্সপার্টি-তৃণভোজী পার্টি-ডামি পার্টি-খুদ-কুঁড়ো পার্টি এবং বিভিন্ন দল থেকে অচ্ছুত লোকজন হায়ার করে লোকজন নিয়ে এসে সমেত ডাকাতির নির্বাচনী ট্রেনে চড়েছেন সেই ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছাতে দেবেনা মুক্তিকামী জনতা। সুমতি হলে তার আগেই শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদ মডেলের নির্বাচনী মডেল থামিয়ে জনগণের দাবি মেনে নিন। অন্যথায় এক্সিডেন্ট অথবা পতন অনিবার্য।
রিজভী বলেন, গোটা বিশ্ব যখন বাংলাদেশের ভোটাধিকার বঞ্চিত, গণতন্ত্রকামী মানুষের পক্ষে সরব তখন গত ১৫ বছর ধরে বিনা ভোটে বন্দুকের নলের মুখে ক্ষমতা দখল করে থাকা নাৎসীবাদী মাফিয়া শাসক শেখ হাসিনার পক্ষে বক্তব্য-বিবৃতি দিচ্ছে রাশিয়া, চীন ও ভারত। রাশিয়া-চীনেতো গণতন্ত্র নেই। আমাদের কাছের প্রতিবেশী ভারত, যে রাষ্ট্রটি গণতান্ত্রিক। যেখানে গণতন্ত্রের ঐতিহ্য আছে। সেই ভারত সরকার সরাসরি কীভাবে একটি অগণতান্ত্রিক মনস্টার স্বৈরাচারের পক্ষে অবস্থান নেয়?
‘তারা মুখে বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে আছে বললেও তারা ১৮ কোটি জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। যা অতীব দুঃখজনক। এই ভারতের সমর্থন শক্তিতে আওয়ামী লীগ লুটেরা লীগ দেশটাকে গিলে ফেলেছে। ১৫টা বছর ধরে কেউ ভোট দিতে পারছেনা- লক্ষ মানুষ কারাবন্দি- কোটি কোটি মানুষ ঘরে থাকতে পারে না- প্রতি বছর কমপক্ষে ১০ বিলিয়ন ডলার লুটে নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, খ্যাতিমান দ্য ডিপ্লোমেটের এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্র এবং বৈচিত্র্যের মর্যাদা তুলে ধরেছিলেন, এমনকি নিজের দেশকে ‘গণতন্ত্রের জননী’ বলে অভিহিত করেছিলেন। কিন্তু ভারতের পূর্বের প্রতিবেশী বাংলাদেশে মোদি সরকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী শাসনকে সমর্থন করছে।
‘ভারত বাংলাদেশে নিজের ফেবারিট নিয়ে খেলেছে এবং কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে তার ফেবারিট হলো আওয়ামী লীগ। এই সরকারের প্রতি ভারতের দৃঢ় সমর্থন দলটিকে মানবাধিকার লঙ্ঘন করতে এবং মানবাধিকার কর্মীদের (দায়মুক্তি সহ কঠোর) আইনের অধীনে জেলে নিতে উৎসাহিত করেছে। যে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তরের নিশ্চয়তা দিয়ে থাকে সেগুলোকে আওয়ামী লীগ ধ্বংস করে দিয়েছে।’
রিজভী বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছেন, বিএনপিসহ গণতন্ত্রের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলো দেশের ১২ কোটি মানুষের লুন্ঠিত ভোটের অধিকার আদায় করে ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাইরে রেখে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবে। আমরা যদি সিদ্ধান্তে অটল থাকি, ঐক্যবদ্ধ থাকি, এই বিজয়ের মাসেই হয়তো আমরা আরেকটি বিজয়ের সুখবর পাবো, ইনশাআল্লাহ্।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আপনারা দেখেছেন, সরকার বিএনপিকে ভাঙার এবং বিএনপি জোট থেকে কিছু দলকে লোভ দেখিয়ে প্রহসনের নির্বাচনে নেয়ার চেষ্টা করেছে। কিছু নিকৃষ্ট লোভী ছাড়া কেউ সরকারের এই হীন কর্মের সঙ্গী হয়নি। সরকার ভূইফোঁড় দলগুলোকে জোড়াতালি দিয়ে নির্বাচনে আনার চেষ্টায় প্রমাণ হয়েছে তারা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে ব্যর্থ হয়েছে। এই একতরফা নির্বাচন তাদের বাঁচাতে পারবে না, তাদের নির্বাসনে পাঠাবে। যারা লোভে পড়ে সরকারের পাতানো নির্বাচনে অংশ নেবেন তারা রাজনীতির আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হবেন। সাধারণ মানুষ ইতোমধ্যে তাদের বেইমান হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপি এবং গণতন্ত্রের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ ছাড়া দেশে বিদেশে কোথাও জাতীয় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য এবং অংশগ্রহণমূলক হিসেবে বিবেচিত হবেনা। বিএনপিকে জাতীয় নির্বাচনকে দূরে রাখতে বিএনপির নেতাকর্মীদের পেছনে সুকৌশলে পুলিশের ইউনিফর্ম পরিয়ে চিহ্নিত মাফিয়া চক্রকে লেলিয়ে দেয়া হয়েছে।
‘ফ্যাসিবাদী সরকার গত একযুগে সারাদেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেড় লাখেরও বেশি মামলা দিয়েছে। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এসব ভুয়া মামলায় ৫০ লাখের বেশি মানুষকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ ধরণের অনাচার বিশ্বের ইতিহাসে নজিরবিহীন। ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদারবাহিনী এবং তাদের সহযোগী সঙ্গী রাজাকার বাহিনীর চরিত্রে গড়ে ওঠা আওয়ামী হানাদার বাহিনীর নির্যাতন নিপীড়নে সারাদেশে বিএনপির দুই কোটির বেশি নেতাকর্মী দিনের পর দিন ঘরছাড়া।’
বিচার বিভাগের সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, নির্বাচন কমিশনের চেয়েও বিচার বিভাগের অবস্থা আরো ভয়ঙ্কর। মিথ্যা কিংবা গায়েবি মামলা দিয়ে পুলিশ যেভাবে বিএনপি নেতাকর্মীদের ফাঁসাচ্ছে একইভাবে কতিপয় বিচারকও বিরোধী দলকে ফাঁসাতে আদালতকে ব্যবহার করছে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে এখন শুধু গায়েবি মামলাই নয়, গায়েবি বিচারও চলছে। বিএনপি নেতাকর্মী যারা কয়েকবছর আগে ইন্তেকাল করেছেন তাদেরকেও কারাদণ্ড দেয়া হচ্ছে। এর মানে, গায়েবি মামলার যেমন কোনো তদন্ত হচ্ছে না অপরদিকে আদালতে মামলার কোনো শুনানিও হচ্ছে না
জনতার আওয়াজ/আ আ