বিশ্বের দৃষ্টি এখন বাংলাদেশের দিকে - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১:৫৬, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বিশ্বের দৃষ্টি এখন বাংলাদেশের দিকে

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, জুলাই ২৮, ২০২৪ ৩:২১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, জুলাই ২৮, ২০২৪ ৩:২১ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, সারাবিশ্বের গণমাধ্যম, মানবাধিকার কর্মী সবার দৃষ্টি এখন বাংলাদেশের দিকে। এতোদিন ইসরাইলী বর্বর বাহিনীর হত্যাযজ্ঞে গাজার দিকে সবার দৃষ্টি থাকলেও সে লেন্স এখন ঘুরেছে ঢাকার দিকে।
ঢাকাসহ বাংলাদেশে কী হচ্ছে সে খবর গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থিমিত কিন্তু রাতে কারফিউ চলছে। ঢাকার রাস্তায় রাস্তায় সেনাবাহিনী প্রহরা দিচ্ছে; অথচ সন্ধ্যা নামলেই শুরু হয় গ্রেফতার আতঙ্ক। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ভাগ করে ‘ব্লক রেইড’ দেয়া হচ্ছে। প্রতি রাতেই গ্রেফতার করা হচ্ছে বিএনপি, জামায়াত এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের। প্রতিদিন নতুন নতুন মামলা দায়ের এবং গ্রেফতার চলছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সারাদেশে সাড়ে ৫শ’ মামলা এবং সাড়ে ৬ হাজার গ্রেফতারের তথ্য পাওয়া গেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ২১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও প্রতিদিন হাসপাতালে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। পুলিশের রাবার বুলেট ও গুলিতে কোটা আন্দোলনের বহু শিক্ষার্থী চোখ হারিয়েছেন। এখনো শরীরে গুলির আঘাত নিয়ে হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন হাজারো শিক্ষার্থী। ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরের স্ত্রী মারিয়া নূর বলেছেন, ‘আমি ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালোরাতের বর্বরতা দেখিনি, সেটা বইয়ে পড়েছি। কিন্তু এবার কালো রাতের বর্বরতা দেখলাম। রাজধানী ঢাকার মানুষের কাছে প্রতিটি রাত এখন ‘কালো রাত’।
রাজধানী ঢাকা এখন কার্যত আতঙ্কের নগরী। কখন কাকে গ্রেফতার করা হবে তা বলা দুষ্কর। কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নিয়ে গ্রেফতার ও পুলিশি হয়রানির আতঙ্কে বহু শিক্ষার্থী এখনো ঘরছাড়া। আন্দোলনে সরাসরি অংশ না নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থন জানানো শিক্ষার্থীরাও ভয়ে থাকেন। সূর্য্য ডোবার পর রাত নামলেই রাজধানীতে নেমে আসে ঘনঅন্ধকার। যাদের ঘরে ১০ থেকে ২৫ বছর বয়সী ছেলে রয়েছেন সে ঘরের বাবা-মায়েরা থাকেন চরম আতঙ্কে।
মন্ত্রীরা ‘কোমলমতি শিক্ষার্থী’দের হয়রানি করা হচ্ছে না দাবি করলেও বাস্তবতা হলো হয়নারি চলছে। প্রতিদিন আদালতে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে তোলার সময় দেখা যাচ্ছে রিমান্ডে নিয়ে তাদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা নিজে হাটতে পারছেন না, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সহায়তায় হাটছেন। এসব ঘটনার সচিত্র প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে প্রতিদিন প্রচার করা হচ্ছে। কাতারের আল জাজিরা, নিউইয়র্ক টাইমস, অষ্ট্রেলিয়ার এবিসি, ভারতের দ্য টেলিগ্রাফ, দ্য হিন্দু, পাকিস্তানের ডন, ইংল্যান্ডের বিবিসি, জার্মানির ডয়সে ভেলে, আমেরিকার ভয়েস অব আমেরিকা, ফরেন পলিসিসহ সুপরিচিত এবং কম পরিচিত সব গণমাধ্যম গুরুত্বসহকারে খবর প্রকাশ করছে। দেশের টিভিগুলোতে ভয়াবহ দৃশ্য প্রচার করা না হলেও বিদেশে গণমাধ্যমগুলোর খবর দেখে বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী শিক্ষার্থী ও শ্রমিকরা বিক্ষোভ করছেন। তারা বাংলাদেশে রেমিট্যান্স না পাঠানোর প্রচারণা চালাচ্ছেন। ঢাকায় অবস্থানরত বিদেশি দূতাবাসগুলো বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করছে। বিশেষ করে ১৮ থেকে ২৩ জুলাই ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখাকে আন্তর্জাতিক মহল সন্দেহের চোখে দেখছেন। আন্তর্জাতিক ‘ইন্টারনেট সোসাইটি’র বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো খবর প্রচার করেছে, বাংলাদেশে ১৮ থেকে ২৩ জুলাই ইন্টারনেট পুরোপুরি বন্ধ ছিল। পরে সীমিত ভাবে খুলে দেয়া হয়। সে সব দেশে গণতন্ত্র সুসংহত নয়, এমন দেশগুলোতে ইন্টারনেট বন্ধ রাখা সম্ভব। গত বৃহস্পতিবারও বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ১৪০ জন শিক্ষাবিদ, লেখক ও বুদ্ধিজীবীরা বাংলাদেশের কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সংঘটিত সহিংসতা ও বর্তমান ঘটনাপ্রবাহে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ফলকার টুর্ককে চিঠি দিয়েছেন। তারা বাংলাদেশের ঘটনায় একটি স্বাধীন তদন্ত পরিচালনার জন্য চাপ প্রয়োগের অনুরোধ জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানের নাজুক পরিস্থিতি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় হলেও এর একটি আন্তর্জাতিক প্রভাব রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তার নির্ধারিত স্পেন ও ব্রাজিল সফর বাতিল করতে হয়েছে। বিভিন্ন দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো জাতিসংঘ, জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন, জার্মানি, কানাডা, ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন দলের তিনজন এমপি, যুকরাষ্ট্রের একজন সিনেট সদস্যসহ বিশ্বের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি বর্তমান ঘটনাবলি নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বা মন্তব্যও করেছে। তাদের মতে, বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে এমন দেশগুলো বর্তমান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ওই দেশগুলো বাংলাদেশের গণতন্ত্র, সামাজিক কাঠামো, জটিল সমস্যা সমাধানে সরকারের সক্ষমতা, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, বিনিয়োগের নিশ্চয়তাসহ চ্যালেঞ্জগুলো বিচার-বিশ্লেষণ করছেন। তাদের বিচার-বিশ্লেষণ এই মুহূর্তে তেমনভাবে প্রকাশ না পেলেও ভবিষ্যৎ ভূ-রাজনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক পরিস্থিতির আলোকে তাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে ওইসব দেশের অবস্থান স্পষ্ট হবে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক বলেছেন, আমরা তো একটা অগণতান্ত্রিক ও কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার ভেতর আছি। এ ধরনের ব্যবস্থায় যারা ক্ষমতায় থাকে তারা সবসময় মানুষকে দমন-পীড়নের মাধ্যমে দমিয়ে রাখতে চায়। অগণতান্ত্রিক কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রের চরিত্র এমনই।সূত্রঃ ইনকিলাব

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ