বিশ্ব সন্মেলনে সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইনের অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৯:০৬, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বিশ্ব সন্মেলনে সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইনের অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৫ ৮:১৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৫ ৮:১৪ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
আগামী ১৮-২০ ফেব্রুয়ারি মরক্কোতে মন্ত্রী পর্যায়ের চতুর্থ বিশ্ব সড়ক নিরাপত্তা সন্মেলনে একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে এবং একটি সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে রোড সেফটি কোয়ালিশন অব বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘৪র্থ বিশ্ব সড়ক নিরাপত্তা সন্মেলন: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিকট প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংবাদ সন্মেলনে এ আহবান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় মরক্কোতে মন্ত্রী পর্যায়ের এই সম্মেলনে সরকারের শিল্প উপদেষ্টার নেতৃত্বে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেবে। এসময় অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার জন্য মরক্কোর মারাকেশে চতুর্থ মিনিস্ট্রিয়াল সম্মেলনে অঙ্গীকার করার দাবি জানানো হয়। সড়ক নিরাপত্তা আইনের খসড়া প্রণয়নে সরকার কমিটি গঠন করলেও পৃথক একটি সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নে সরকারের কাছে দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

সংবাদ সন্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইনের দীর্ঘদিনের দাবি দেশের তরুণ কিশোর সহ আপামর জনসাধারনের। ২০১৮ সালের জুলাই মাসে, দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর দেশব্যাপী একটি শক্তিশালী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে এই দাবি আরও জোরালো হয়। এরপর সরকার “সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮” পাস করে। আইন পাশ করা হলেও তাতে সড়ক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট অনেক বিষয়ের ঘাটতি ছিল যার সিংহভাগ ছিল পরিবহন বা যানবাহন কেন্দ্রিক। ফলশ্রুতিতে সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের এবং প্রাণহানির ঘটনা নৈমত্তিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা চাই, বিশ্ব সন্মেলনে কিছু বিষয়ে সরকারের প্রতিনিধি প্রাধ্যান্য দেক। দেশে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন আইন বা বিধি নেই তাই সরকারের উচিত একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করা; যা হতে হবে প্রমাণ-ভিত্তিক সাফল্য এবং সেইফ সিস্টেম এপ্রোচের আলোকে। পাশাপাশি বৈশ্বিক পরিকল্পনায় সুপারিশকৃত পাঁচটি ক্ষেত্রকেও (বহুমুখী পরিবহন ব্যবস্থা ও যথাযথ ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা, নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো, নিরাপদ যানবাহন, নিরাপদ সড়ক ব্যবহারকারী, দুর্ঘটনা-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা) এর আওতাভূক্ত করতে হবে।

এছাড়াও বাংলাদেশে রোড ক্র্যাশ এবং তাতে হতাহতের পরিসংখ্যান জানার লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহের জন্য কোন কাঠামোগত ব্যবস্থা যেমন নেই তেমনি নেই সুনির্দিষ্ট তথ্য। রোড ক্র্যাশের প্রকৃত চিত্র উপস্থাপনের জন্য সরকারকে একটি কেন্দ্রীয় তথ্য ব্যবস্থা বা একটি কেন্দ্রীভূত ডাটাবেস তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। যেখানে রোড ক্র্যাশ সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য অর্ন্তভূক্ত থাকবে এবং যা বিশ্লেষণের মাধ্যমে রোড ক্র্যাশ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালে সরকার মোটরযানের গতিসীমা নির্দেশিকা জারি করলেও তা বাস্তবায়ন এবং প্রয়োগের নির্দেশনার না থাকায় তার সুফল মিলছে না। অতএব, সরকারের উচিত দ্রুততম সময়ের মধ্যে গতিসীমা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি নির্দেশিকা তৈরি করা। একইসাথে সরকারের উচিত মোটর সাইকেল চালকদের জন্য স্ট্যান্ডার্ড হেলমেট নির্দেশিকা তৈরি করা।

ইলয়াস কাঞ্চন বলেন, বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি সড়ক নিরাপত্তা সন্মেলনে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে। অতএব, কনফারেন্সের খসড়া ঘোষণাপত্রের প্রতিপাদ্য “জীবনের প্রতি অঙ্গীকার’ বিষয়ে সরকারকে যেমন গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে হবে তেমনি খসড়া ঘোষণাপত্রে দেশের অঙ্গীকারসমূহকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন রোড সেফটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার (ব্র‍্যাক) খালিদ মাহমুদ, সিআইপিআরবি এর এসোসিয়েট ডিরেক্টর ড. জাহাঙ্গীর হোসাইন, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রকল্প কর্মকর্তা মো. শারাফাত-ই-আলম, রোড সেফটি প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক কাজী রোরহান উদ্দিন প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ