বীরত্ব দেখাতে চাইলে অরক্ষিত সীমান্তে যান, সেনাবাহিনীকে তারেক রহমান - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ২:১৭, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বীরত্ব দেখাতে চাইলে অরক্ষিত সীমান্তে যান, সেনাবাহিনীকে তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১, ২০২৪ ১:১৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১, ২০২৪ ১:২০ অপরাহ্ণ

 

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট লন্ডন( ০১ আগস্ট ) :প্রিয় বাংলাদেশ এখন এক মৃত্যু উপত্যকা। জুলাই মাসে সংঘটিত গণহত্যায় একহাজারের বেশি ছাত্র ছাত্রীকে শহীদ করা হয়েছে। দেশের ছাত্রছাত্রী তরুণ যুবকদের বিরুদ্ধে গণহত্যায় এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৪০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। হাসপাতালে কিংবা বাসায় বাসায় মৃত্যু যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। রাজধানীর এমন একটি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা দেশের এমন একটি জেলা উপজেলাও খুঁজে পাওয়া যাবেনা যেখানে কেউ হতাহত হয়নি। ঘরে ঘরে চলছে সন্তান-স্বজন হারা পিতামাতা-আত্মীয়দের আর্তনাদ। এমন নিষ্ঠুর পরিস্থিতিতেও দেশে কারফিউ জারি করে চলছে গণ গ্রেফতার।
খুনি হাসিনা একদিকে কারফিউ জারি করে সেনাবাহিনী-বিজিবি-পুলিশের খুনি চক্রকে আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র গুলি করে হত্যার নির্দেশ দিয়েছে অপরদিকে গণহত্যায় শহীদদের স্মরণে কথিত শোক দিবস পালনের নাটক করেছে। হাজারো মানুষকে খুন করে প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষকে আহত করে লাখো কোটি পরিবারের শান্তি বিনষ্ট করেও খুনি হাসিনার কোনো অনুতাপ নেই অথচ রেলের ভাঙা কাঁচ দেখে গণহত্যাকারীর চোখে কুমিরের কান্না।
প্রিয় দেশবাসী ভাই ও বোনেরা
অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার অপচেষ্টায় খুনি হাসিনা জুলাইয়ের গণহত্যায় পুলিশ-বিজিবির পাশাপাশি এবার সেনাবাহিনীকেও ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে। গণহত্যাকারী খুনি শেখ হাসিনাকে বাঁচাতে সেনাবাহিনী এখন নিজ দেশের জনগণের বিরুদ্ধে ‘গোলাগুলি’ আর শত্রুর সঙ্গে ‘গলাগলি’ করছে।
সেনা পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে, আমি সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা এবং সদস্যবৃন্দকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলতে চাই, খুনি হাসিনার পৃষ্ঠপোষকতায় ২০০৯ সালে বিডিআর পিলখানায় সেনা হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল।
তখন নিজের সহকর্মীদের রক্ষা করতে আপনার চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছিলেন। অথচ, এখন সন্তানতুল্য ছাত্রছাত্রীদের বুকে গুলি চালিয়ে নিজেদের বীরত্ব জাহির করছেন। বীরত্ব দেখাতে চাইলে, অরক্ষিত সীমান্তে যান। জনগণ মনে করে, তাবেদারী করতে করতে আপনারা স্বাধীনতা, সম্মান, সাহস ও আত্মমর্যাদা হারিয়ে ফেলেছেন। সেনাবাহিনীকে বলবো, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর মতো নিজ দেশের জনগণের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হবেন না। এতে কোনো বাহাদুরি নেই। অবিলম্বে ব্যারাকে ফিরে যান।
প্রিয় দেশবাসী ভাই ও বোনেরা
খুনি হাসিনাকে পদত্যাগে বাধ্য করতে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে, একজন বাংলাদেশী হিসেবে, বাংলাদেশের পক্ষের শক্তি গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি প্রতিটি রাজনৈতিক দল, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী কৃষক, শ্রমিক, স্বল্প আয়ের মানুষ, শ্রমজীবী, পেশাজীবী তথা ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর প্রতি আমি উদাত্ত আহবান জানিয়ে বলতে চাই, আসুন,সবাই মিলে গণহত্যাকারী খুনি হাসিনার খুনি-সন্ত্রাসীবাহিনীর বিরুদ্ধে রাজপথে চূড়ান্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলি। যার যা কিছুই আছে, তাই নিয়ে ছাত্র জনতার বৃহত্তর এই ঐক্যের আন্দোলনকে সফল করি। খুনি হাসিনাকে বিদায় করি। বাংলাদেশকে স্বাধীন করি।
প্রিয় দেশবাসী ভাই ও বোনেরা
তারুণ্যের শক্তি জেগে উঠেছে। গণহত্যা-গণ গ্রেফতার চালিয়ে তারুণ্যের শক্তিকে আর রুখে দেয়া যাবেনা। নির্দ্ধিধায়- নিঃসংকোচে বুকে বুলেট আলিঙ্গন করে শহীদ আবু সাঈদ প্রমান করে দিয়েছে দিল্লির ক্রীতদাসী তাবেদার খুনি হাসিনার লেলিয়ে দেয়া সেনাবাহিনী-বিজিবি আর পুলিশের খুনি চক্রের ভয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের তারুণ্য আর পিছু হটতে রাজি নয়। ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন সমন্বয়ককে গ্রেফতার করে খুনি হাসিনা চলমান আন্দোলন দমন করে দিতে চেয়েছিলো। কিন্তু এখন সারাদেশে প্রতিটি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, পাড়া, মহল্লা, শহর, নগর, বন্দর কোথাও কোনো এলাকায় সমন্বয়কের অভাব নেই। একজন গ্রেফতার হলে সঙ্গে সঙ্গে আরেকজন ছাত্র কিংবা ছাত্রী সমন্বয়কের দায়িত্ব গ্রহণ করে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন। খুনি হাসিনা পতনের এ আন্দোলন এভাবে এখন সারাদেশে স্ফুলিঙ্গের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। হাসিনার পতন না হওয়া পর্যন্ত ছাত্র-জনতার ঐক্যের এ আন্দোলন আর থামবেনা।

প্রিয় দেশবাসী ভাই ও বোনেরা
হাসিনা একজন ঠান্ডা মাথার খুনি। খুনির কাছে খুনের বিচার সম্ভব নয়। গণহত্যাকারীকে বিদায় না করা পর্যন্ত গণহত্যার বিচার সম্ভব নয়।
সুতরাং, ছাত্র-ছাত্রী হত্যার সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে হলে
গণহত্যায় মারাত্মকভাবে আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হলে,
এবং আন্দোলনকারী সকল শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে শহীদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে হলে
গণহত্যাকারী, মাফিয়া খুনি হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করতেই হবে।
প্রিয় অভিভাবকবৃন্দ এবং সকল বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক সহকর্মীবৃন্দ
গত ১৫ বছর ধরে খুনি হাসিনা আমাদের অসংখ্য সহকর্মীদের গুম খুন অপহরণ করেছে। এখন রাজপথে আমাদের সন্তানদের পাখির মতো গুলি করে হত্যা করছে। এমনকি ঘরের ভেতর আমাদের শিশুরাও নিরাপদ নয়। আমাদের মা বোনরা নিরাপদ নয়। এ কারণেই, খুনি হাসিনাকে বিদায় করে আপনার-আমার-আমাদের সন্তান স্বজনদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত ও নিরাপদ করতেই চলমান ছাত্র-জনতার ঐক্যের এই আন্দোলন। গণতন্ত্রের পক্ষের একজন রাজনৈতিক কর্মী অথবা সন্তানের অভিভাবক হিসেবে/চলমান এই আন্দোলনে আপনি রাজপথে কিংবা আপনার নিজ নিজ এলাকায় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী এবং সেনা-বিজিবি-পুলিশের খুনিদের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। একজন গ্রেফতার হলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মতো সঙ্গে সঙ্গে আরেকজন দায়িত্ব নিন। নেতৃত্ব নিন-নেতৃত্ব দিন। কোনো নির্দেশনার জন্য অপেক্ষার প্রয়োজন নেই। নির্দেশনা একটাই। দাবি একটাই। দফা এক-দাবি এক-খুনি হাসিনার পদত্যাগ। খুনি হাসিনার বিদায় না হওয়া পর্যন্ত ছাত্র-জনতার ঐক্যের এই আন্দোলন চলবে।
আমাদের ছাত্রছাত্রীরা জীবন দিয়ে শিখিয়ে গিয়েছে
আমাদের সন্তানেরা জীবন দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে,
ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলে খুনি হাসিনার বিদায় সময়ের ব্যাপার মাত্র। ইনশাআল্লাহ
সবশেষে, খুনি হাসিনার বিরুদ্ধে তারুণ্যের এই চলমান আন্দোলনে কবি রকিব লিখনের একটি সাহসী পংক্তিমালা উচ্চারণ করতে চাই…
“যদি তুমি ভয় পাও
তবে তুমি শেষ
যদি তুমি রুখে দাঁড়াও
তবে তুমিই বাংলাদেশ”

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ