বৃটিশ রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের আভাস - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৩:২৬, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বৃটিশ রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের আভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, মে ১১, ২০২৬ ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, মে ১১, ২০২৬ ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

 

ঐতিহাসিকভাবে বৃটেনে দ্বিদলীয় ব্যবস্থা চলে আসছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে হয় লেবার পার্টি, না হয় কনজারভেটিভ পার্টি পরপর বা পালাক্রমে দেশ শাসন করে আসছে। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (লিবডেম) নামে মূল ধারার তৃতীয় একটি রাজনৈতিক দল আছে যারা সব নির্বাচনেই কয়েক শতাংশ ভোট ও বেশ কিছু আসন পায়। মাঝে মধ্যে তারা আবার বেশ সাফল্য দেখিয়ে সংসদে ৬০টির কাছাকাছি আসন পায়। তবে তারা কখনো এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক বা তার কাছাকাছি সংখ্যক আসন সংসদে কখনোই পায়নি। নিকট অতীতে কনজারভেটিভ পার্টির সাথে কোয়ালিশন করে প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরুনের নেতৃত্বে গঠিত সরকারে যোগ দিয়ে প্রথমবারের মতো লিবডেম ক্ষমতায় যায়। কিছু আঞ্চলিক পার্টি (যেমন: স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি – এসএনপি) আছে যাদের প্রভাব শুধুমাত্র ওই নির্দিষ্ট অঞ্চলে। জাতীয়ভাবে তাদের প্রভাব বা প্রাসঙ্গিকতা নেই।

সম্প্রতি জাতীয়ভাবে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ফলাফল অনেককে অবাক ও আশ্চর্যান্বিত করে তুলেছে। মূলধারার প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে পেছনে ফেলে রিফর্ম ইউকে পার্টির অভাবনীয় উত্থান ঘটেছে। উক্ত নির্বাচনে রিফর্ম ইউকে পার্টি একাই পেয়েছে ১৪৫৩ জন কাউন্সিলর যেখানে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি পেয়েছে ১০৬৮ জন কাউন্সিলর এবং বৃটেনে প্রধান বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টি পেয়েছে ৮০১ জন কাউন্সিলর। যেখানে পুরো বৃটেনে মাত্র ২ জন কাউন্সিলর ছিল রিফর্ম ইউকে পার্টির, সাম্প্রতিক নির্বাচনে ১৪৫১ জন বেড়ে এখন তাদের মোট কাউন্সিলরের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৫৩ জনে। নতুন এই পার্টির ব্যাপারে বোদ্ধাদের অভিমত হলো “Reform UK is Britain’s fastest growing political party” (অর্থাৎ “রিফর্ম ইউকে হলো বৃটেনের দ্রুততম ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক দল”)।
শুধু তাই নয়, লিবডেমও এবারের নির্বাচনে জাতীয়ভাবে অনেক ভালো করেছে। বরাবর তারা প্রধান দুটি দল লেবার পার্টি ও কনজারভেটিভ পার্টি থেকে বহু পিছিয়ে তৃতীয় স্থানে অবস্থান করলেও এবার তারা কনজারভেটিভ পার্টিকে টপকিয়ে এগিয়ে চলে গেছে। কনজারভেটিভ পার্টি পুরো দেশে পেয়েছে মোট ৮০১ জন কাউন্সিলর, কিন্তু লিবডেম পেয়েছে ৮৪৪ জন কাউন্সিলর। জাতীয়ভাবে বেশ কয়েকটি কাউন্সিলের কর্তৃত্বও তারা নিয়েছে। যদিও বাঙালি অধ্যুষিত বারা টাওয়ার হ্যামলেটস ও নিউহ্যাম কাউন্সিলে তারা মোটেই ভালো করেনি। রাজনৈতিক সংবাদ

টাওয়ার হ্যামলেটসে ৪৫ জন কাউন্সিলরের মধ্যে মাত্র একজন কাউন্সিলর পেয়েছে। অপরদিকে ৬৬ কাউন্সিলরসম্পন্ন নিউহ্যামে লিবডেম কোনো কাউন্সিলর পায়নি। মেয়র পজিশনেও এই দুটি বারায় লিবডেমের প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা খুবই নগণ্য। টাওয়ার হ্যামলেটস-এ লিবডেমের প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র ৩১০০ ভোট। অপরদিকে, নিউহ্যামে লিবডেমের প্রার্থী পেয়েছেন ৩৭৬৬ ভোট।

গ্রীন পার্টিরও অস্বাভাবিক উত্থান ঘটেছে। তারা পঞ্চম বৃহৎ পার্টি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তারা জাতীয়ভাবে ৫৮৭ জন কাউন্সিলর পেয়েছে। জাতীয়ভাবে পঞ্চম হলেও স্থানীয়ভাবে অনেক কাউন্সিলে তারা চমৎকার ফলাফল করেছে। গ্রেটার লন্ডনে মোট পাঁচটি বারা কাউন্সিলে নির্বাহী মেয়র (জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত) পদ্ধতি বলবৎ আছে। এই পাঁচটি বারা কাউন্সিলের মধ্যে দুটিতে অর্থাৎ হ্যাকনি কাউন্সিল ও লুইশাম কাউন্সিলে নির্বাহী মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন গ্রীন পার্টি থেকে। বাঙালি অধ্যুষিত বারা টাওয়ার হ্যামলেটস ও নিউহ্যাম কাউন্সিলে অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে তারা তৃতীয় অবস্থানে এসে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। অল্পের জন্য (মাত্র ২৩৩ ভোটের জন্য) টাওয়ার হ্যামলেটসে গ্রীন পার্টি লেবার পার্টিকে টপকিয়ে গিয়েছিল। টাওয়ার হ্যামলেটসে গ্রীন পার্টির মেয়র প্রার্থী পেয়েছেন ১৯,২২৩ ভোট এবং নিউহ্যামে পেয়েছেন ১৮,৯৯৯ ভোট। টাওয়ার হ্যামলেটসে গ্রীন পার্টির প্রাপ্ত কাউন্সিলর সংখ্যা ৫ জন, লেবার পার্টির সমান! অপরদিকে নিউহ্যামে গ্রীন পার্টি পেয়েছে ১৪ জন কাউন্সিলর।

রিফর্ম ইউকে পার্টি জাতীয়ভাবে যে পারফরম্যান্স করেছে এটা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা সরকার গঠন করতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, একা সরকার গঠন করতে না পারলেও আগামী সাধারণ নির্বাচনের পর ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হতে পারে যেখানে রিফর্ম ইউকে পার্টি বৃহৎ দল হিসেবে আবির্ভূত হবে। উপরের দুটির যেটিই হোক না কেন তা ইমিগ্রান্ট কমিউনিটির উপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এমনটাও কেউ কেউ বলছেন। রিফর্ম ইউকে পার্টি নীতিগতভাবে ও আদর্শিকভাবে ইমিগ্রেশন ও ইমিগ্র্যান্ট বিরোধী। কিছু কিছু নীতি ও পলিসি শেতাঙ্গ ভোটারদের কাছে আকর্ষণীয় ও জনপ্রিয় হলেও তা মুসলমান, কৃষ্ণাঙ্গ ও ইমিগ্র্যান্ট কমিউনিটির জন্য ভিন্ন পরিণতি বয়ে নিয়ে আসতে পারে বলেও মনে করা হয়।

ক্রমাগতভাবে লেবার পার্টি ও কনজারভেটিভ পার্টির ব্যর্থতার কারণেই মূলতঃ রিফর্ম ইউকে ও গ্রীন পার্টির এই অস্বাভাবিক উত্থান ঘটেছে। গত কয়েক দশকের যথাক্রমে লেবার পার্টির সরকার ও কনজারভেটিভ পার্টির সরকারের পারফরম্যান্স রিভিউ ও মূল্যায়ন করলে দেখা যাবে তারা ইমিগ্রেশন, হাউজিং, ক্রাইম, হেলথ সার্ভিস ও অর্থনীতি সংক্রান্ত ইস্যুগুলো ভালোভাবে ডিল করতে পারেনি বা জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী তারা পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি। বরং কোনো কোনো ইস্যুতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, চলমান সমস্যার মাত্রা আরো বেড়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ও মধ্যপ্রাচ্যের ইস্যুতে প্রধান দল দুটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ফলে বিকল্প খুঁজতে মোটাদাগে কনজারভেটিভ পার্টির ভোটাররা ও সমর্থকরা রিফর্ম ইউকে পার্টির দিকে ঝুঁকছে। অপরদিকে, লেবার পার্টির ভোটার ও সমর্থকরা গ্রীন পার্টি ও বিভিন্ন নামে আবির্ভূত ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্টিগুলোর দিকেই আকৃষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ফলাফল বর্তমান ক্ষমতাসীন দল লেবার পার্টি ও লেবার প্রধানমন্ত্রীর জন্য অনেকটা হতাশাজনক, অপমানজনকও বটে। কেননা লেবার পার্টি পুরো দেশে ১১০০ জনের এর উপর কাউন্সিলর হারিয়েছে এবং ২৮ কাউন্সিলের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। এই ব্যর্থতার জন্য অনেকে প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করছেন যদিও প্রধানমন্ত্রী স্টারমার ইতিমধ্যে নির্বাচনে লেবারের ফলাফল খারাপ হওয়ার দায় নিজের কাঁধে নিয়েছেন, কিন্তু পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন যে, তিনি পদত্যাগ করেছেন না।

দ্বিতীয় বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা নিউহ্যাম বারা (যার মধ্যে বর্তমানে আড়াই জন এমপির নির্বাচনি এলাকা অন্তর্ভুক্ত) ছিল এক সময় লেবার পার্টির ঘাঁটি। পুরো বৃটেনের মধ্যে যদি সবচেয়ে ৫-৭টি সেইফ নির্বাচনি এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয় তাহলে নিউহ্যাম হবে ঐগুলোর মধ্যে অন্যতম। কিন্তু লেবার পার্টির দ্বিমুখী নীতি, দৃশ্যত গোঁয়ার্তুমি , নিজ পার্টির ব্রাঞ্চ ও সিএলপি এবং তার নিজ সদস্যদের প্রতি দীর্ঘদিনের অবিচার এবং আন্তর্জাতিক ও মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে স্পষ্টত দ্বিচারিতার অভিযোগের কারণে আস্তে আস্তে ধরাশায়ী হতে চলেছে। পাঁচ বছর ধরে তাদের দুটি সিএলপি (কন্সটিটুয়েন্সি লেবার পার্টি) সাসপেন্ডেড। ২০১৮ সালে ৫৩,২১৪ ভোট পেয়ে লেবার পার্টি থেকে নির্বাহী মেয়র নির্বাচিত হয়েছিল। এটা নেমে এসেছে ২০২২ সালে ৩৫,৬৯৬ ভোটে! আর এবার মাত্র ২৫,৫২৮ ভোটে মেয়র নির্বাচিত হয়েছে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া নিউহ্যাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্টির প্রার্থী পেয়েছে ২০,২৩৪ ভোট। অর্থাৎ এই ট্রেন্ড বজায় থাকলে আগামী চার বছর পর নিউহ্যামে লেবার পার্টি থেকে মেয়র নির্বাচিত হতে পারবে না। যদি নিউহ্যাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট অধিকতর দক্ষ ও আকর্ষণীয় প্রার্থী দিতো তাহলে এবারই লেবারের প্রার্থী ধরাশায়ী হয়ে যেতো।

আর কাউন্সিলর! এক সময় নিউহ্যামে সবাই ছিল লেবার পার্টির কাউন্সিলর। অন্য কোনো দল থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হতে পারতেন না, চিন্তাই করা যেতো না। এবার নিউহ্যাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট ও গ্রীন পার্টি মিলে পেয়েছে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটি কাউন্সিলর। লেবার পার্টি পেয়েছে মাত্র ২৬ জন কাউন্সিলর, নিউহ্যাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট পেয়েছে ২৪ জন কাউন্সিলর এবং গ্রীন পার্টি পেয়েছে ১৬ জন কাউন্সিলর। অর্থাৎ লেবার পার্টি মাইনোরিটি। কাউন্সিলের সব কটি ইলেক্টেড (যেমন: স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, প্ল্যানিং ও ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান, স্ট্র্যাটিজিক ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান, ওভারভিউ ও স্ক্রুটিনি কমিটির চেয়ারম্যান, স্ক্রুটিনি কমিশনগুলোর চেয়ারম্যান ইত্যাদি) পজিশনগুলো নিউহ্যাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট ও গ্রীন পার্টি মিলে নিয়ে যাবে। কাউন্সিলে মোশন পাস করাও লেবারের নির্বাহী মেয়রের জন্য কঠিন হবে। উল্লেখ্য, নিউহ্যাম ইন্ডিপেন্ডেন্টের ২৪ জন কাউন্সিলরের প্রায় সবাই অতীতে লেবার পার্টির সাথে জড়িত ছিলেন। কিন্তু লেবার পার্টির তাদের প্রতি করা অন্যায়, অবিচার ও নীতিতে দ্বিচারিতা দেখে লেবার পার্টি ছেড়ে চলে এসে তারা নতুন পার্টি গঠন করেছেন।

প্রধান বাঙালি অধ্যুষিত বারা টাওয়ার হ্যামলেটসে লেবার পার্টি অনেকটা নিশ্চিহ্ন হওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছেছে। অবশ্য এটা আগ থেকেই আঁচ করা যাচ্ছিল। অনেক দিন ধরে লেবার পার্টি এই কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। ২০২২ সালের নির্বাচনে এস্পায়ার পার্টির নেতা লুৎফুর রহমান বিপুল ভোটের ব্যবধানে লেবার পার্টির প্রার্থী জন বিগসকে হারিয়ে তৃতীয় বারের মতো মেয়র হয়ে কাউন্সিলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রন নেন। ৪৫ জন কাউন্সিলরের মধ্যে অধিকাংশ তার পার্টি থেকেই ছিল। ফলে আড়াই জন এমপির নির্বাচনী এলাকা নিয়ে গঠিত ১.৫ বিলিয়ন পাউন্ডের বাজেটের কাউন্সিল দাপটের সাথে চালিয়েছেন।

২০২৬ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে টাওয়ার হ্যামলেটসে লেবার পার্টির অবস্থা খুবই শোচনীয়। ৪৫ জন কাউন্সিলরের মধ্যে মাত্র পেয়েছে ৫ জন কাউন্সিলর, বারাতে এককালে অপরিচিত গ্রীন পার্টির সমান! অপরদিকে, এস্পায়ারের মেয়র প্রার্থী বর্তমান মেয়র লুৎফর রহমান ৩৫,৬৭৯ ভোট পেয়ে পুনর্বার (চতুর্থ বারের মতো) মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। লেবার পার্টির প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম পেয়েছেন ১৯,৪৫৪ ভোট। গ্রীন পার্টির প্রার্থী পেয়েছেন ১৯,২২৩। অর্থাৎ আরো ২৩৪ ভোট কম পেলে এক সময়ে পুরো বৃটেনের অন্যতম সেইফ নির্বাচনী এলাকা বলে খ্যাত টাওয়ার হ্যামলেটসে লেবারের প্রার্থী তৃতীয় অবস্থানে চলে যেতেন!

লেবারের মেয়র প্রার্থী ব্যক্তি হিসেবে খুব ভাল, শান্তশিষ্ট ও ভদ্র। চমৎকার ইংরেজি বলেন। আমার এলাকার কৃতি সন্তান। প্রায় ২৫ বছর কাউন্সিলে কাউন্সিলর হিসেবে সার্ভ করেছেন। তবে তার ক্যাম্পেইনে বিতর্কিতরা তার সঙ্গে থাকায় ভোট তার দিন দিন কমেছে- এমন অভিযোগও আছে। নির্বাচনী ক্যাম্পেইনও ছিল তার গতানুগতিক ধারার।

ব্রিটিশ রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের প্রতি ভোটারদের বিতৃষ্ণা স্পষ্ট। লেবার ও কনজারভেটিভ পার্টিই ঘুরে ফিরে বারবার দেশ শাসন করছে। কিন্তু তারা জনগণকে তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী ডেলিভারি দিতে পারেনি। কখনও কখনও বিতর্কিত ইস্যু সমাধান করতে গিয়ে আগুনে ঘি ঢালার মতো সমস্যা আরো প্রকট ও ব্যাপক করেছে। ফলে ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে চরম ডানপন্থি দল বা একসময়ের একবারে ছোট বা অখ্যাত দলের প্রতি। আর এটাই বৃটিশ রাজনীতিতে ঐতিহাসিকভাবে চলে আসা দ্বিদলীয় ব্যবস্থার অবসান হওয়ার ইঙ্গিত। গণতন্ত্রে দ্বিদলীয় ব্যবস্থা হোক বা বহুদলীয় ব্যবস্থা হোক তাতে কোনো অসুবিধা নেই। তাতে জনগণের পছন্দে বরং বৈচিত্র্যতা আসবে।Politics

নাজির আহমদ: বিশিষ্ট আইনজীবী, রাষ্ট্রচিন্তক, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী এবং ইংল্যান্ডের প্র্যাকটিসিং ব্যারিস্টার।
email: ahmedlaw2002@yahoo.co.uk

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ