বৃহত্তর ময়মনসিংহে আওয়ামী রাজনীতির অগ্নিপুরুষ ভাষা সৈনিক শামসুল হকের ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ২:১১, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বৃহত্তর ময়মনসিংহে আওয়ামী রাজনীতির অগ্নিপুরুষ ভাষা সৈনিক শামসুল হকের ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, মে ২৬, ২০২৪ ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, মে ২৬, ২০২৪ ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ

 

আনিসুর রহমান ফারুক, ময়মনসিংহ :

বৃহত্তর ময়মনসিংহে আওয়ামী রাজনীতির অগ্নি পুরুষ আজীবন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে সকল আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে নিজেকে বিলিয়ে দেয়া নেতৃত্ব দানকারী প্রাণপুরুষ ফুলপর ও তারাকান্দার গণমানুষের কাছে অবিসংবাদিত জনতার জননেতা বর্ষিয়ান রাজনীতিক একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাষা সৈনিক মরহুম শামসুল হকের আজ ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী সোমবার (২৭ মে) ২০২৪ ইং তারিখ।

এ উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ময়মনসিংহ জেলা শাখা ও তারাকান্দা ও ফুলপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে।

পৃথিবীতে বাঙালি একমাত্র জাতি যারা নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির দাবিতে নিজের প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছে। ১৯৫২ সালে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে রাষ্ট্রভাষা বাংলা ভাষার দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলন এবং জীবন উৎসর্গ করা পৃথিবীর ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। ইতিহাসের এই বিরল ঘটনার একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন ভাষা সৈনিক এম শামসুল হক।

তৃণমূল থেকে উঠে আসা ব্যাপক জনপ্রিয় এই নেতার স্থানীয় জনগণের প্রতি ছিল অকৃত্রিম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। অবিসংবাদিত এই নেতা বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সকল আন্দোলন সংগ্রামে সম্মুখ সারির একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। সাধারণ মানুষকে অতি সহজেই আপন করে নেওয়ার এক মোহনী ক্ষমতা ছিল তার মধ্যে।

১৯৩০ সালের ২৯ জানুয়ারি রাজনীতিবিদ এম শামসুল হকের জন্ম হয়। ৭৫ বছর বয়সে ২০০৫ সালের এই দিনে (২৭ মে) তিনি ইন্তেকাল করেন। তিনি ছিলেন বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সহচর। ১৯৪৬ সালে তিনি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে ময়মনসিংহ শহরে মিছিল শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ওই মিছিলে শামসুল হকের পাশে থাকা তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু অমলেন্দু বাবু পুলিশের গুলিতে মৃত্যুবরণ করেন।

পরবর্তী সময়ে ৫২’র ভাষা আন্দোলনের অংশ হিসেবে ময়মনসিংহ শহরে বিশাল মিছিল নিয়ে বের হওয়ায় তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের হাতে গ্রেফতার হন ও কারাবরণ করেন শামসুল হক। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আন্দোলন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্কুল, কলেজে মিছিল মিটিং, পথসভা, পোস্টারিং ও লিফলেট বিতরণসহ নানামুখী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন তিনি।

কখনো পায়ে হেঁটে, কখনোবা রিকশায় চড়ে এসব আন্দোলনে যোগদান করেন শামসুল হক। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সময় ময়মনসিংহ আনন্দ মোহন কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র ছিলেন তিনি। আন্দোলনে যোগ দেওয়ায় ময়মনসিংহ স্টেশন রোড থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছিল। পরে ৬ মাস কারাগারে থাকার পর তিনি মুক্তি লাভ করেন।

ময়মনসিংহ শহরে প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণের সাথে যুক্ত ছিলেন তিনি। শামসুল হক ৬ দফা আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণসহ তৎকালীন সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

১৯৭০ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন ময়মনসিংহ-১৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৮৬ সালের তৃতীয়, ১৯৯১ সালের পঞ্চম ও ১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ময়মনসিংহ-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

এর আগে, ১৯৮৮ সালে তিনি ফুলপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে তিনি পাট মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি ছিলেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি ৩ ছেলে ও ৩ মেয়ের জনক।

তার পঞ্চম সন্তান শরীফ আহমেদ ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসন থেকে দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এলাকার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের একজন সৈনিক হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে ফুলপুর ও তারাকান্দার আসনে হ্যাট্রিক বিজয়ী গণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় এ নেতা গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ