বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষক সমাবেশ - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১০:৩৫, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষক সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৫ ৪:১৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৫ ৪:১৮ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কনসালটেশন কমিটির সুপারিশকৃত জাতীয়করণ বঞ্চিত অনধিক ৫ হাজার বঞ্চিত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষকরা।

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সকাল ১০ টা থেকে এই আন্দোলন শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সাধারণ শিক্ষক ঐক্য পরিষদ’র ব্যানারে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে শিক্ষক এখানে জমায়েত হয়েছেন। এসময় প্রায় হাজারখানেক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

এসময় আন্দোলনকারী শিক্ষকরা বলেন, “২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি তৎকালীন সরকার সারাদেশের সকল বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দেন। তখন সারাদেশে ৩০ হাজারের অধিক বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও সে সময় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কিছু সংখ্যক বিদ্যালয় জাতীয়করণ হতে বাদ রেখে ২৬১৯৩ টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়।”

তারা বলেন, “২০১৬ সালের ২৮ জুলাই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয় শাখা থেকে উপসচিব গোপাল চন্দ্র দাস স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ইস্যু করা হয়। স্মারক নং ৩৪৩৬/৯ এখানে বলা হয়েছে ৩য় ধাপে জাতীয়করণযোগ্য বিদ্যালয়সমূহ জেলা যাচাই-বাছাই করে ১৫ কর্ম দিবসের মধ্যে অবশ্যিকভাবে প্রেরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।”

“এরপরে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারীর ২০ তারিখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের জন্য একটি চিঠি ইস্যু করা হয়, যার স্মারক নং ০৩.০৭৪.৩৮.০৪৮.০০.০০১.২০১৮-৬৭। এখানে বলা হয়ছে ২৬১৯৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ তালিকা বহির্ভূত বিদালয় সমূহ/আবেদনসমূহের একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ প্রেরণের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়।”

তারা আরও বলেন, “পরবর্তীতে ২০২৫ সালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কয়েক দফা আন্দোলন করার পর গত ৩ ফেব্রুয়ারী প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি ইস্যু করা হয়, স্মারক নং ০৩.০০,২৬৯০,০৭৭.৯৯.০১৫.২৪.০৬। যার এখনো কোনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

“এমতাবস্থায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী ৩ তারিখে প্রধান উপদেষ্টার কার্যলয় হতে প্রেরিত পত্র ও ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কনসাল্টেশন কমিটি কর্তৃক অধ্যায় ৪ এর ৪.৩, পৃষ্ঠা নং ৩৫ এর আশু সুপারিশ মোতাবেক জাতীয়করণ বঞ্চিত অনধিক ৫ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের জন্যে সুপারিশ করার পরেও জাতীয়করণের কোন অগ্রগতি নেই।”

এ সময় সাধারণ শিক্ষক ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মো. নওশাদ আহমেদ বলেন, “বর্তমান সরকার শিক্ষা বান্ধব সরকার। শত প্রতিকূলতার মাঝেও বিশ্ব দরবারে আজ বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের চিঠি ও কনসালটেশন কমিটির সুপারিশকৃত অনধিক ৫ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের জোর দাবি জানাই।”

সাধারণ শিক্ষক ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক মাহবুবা মালা বলেন, “জাতীয়করণ না হওয়ায় শিক্ষকরা মানবেতর জীবন যাপন করছি। আমরা অন্যের শিশুকে পাঠদান দিলেও আমাদের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়নি। এমতাবস্থায় শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

সাধারণ শিক্ষক ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক অহিদুল ইসলাম বলেন, “২০১৩ সালে সকল বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা হলেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে অনধিক পাঁচ হাজার জাতীয়করণ বঞ্চিত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সুকৌশলে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার যাঙ্গেল কামনা করছি।”

সাধারণ শিক্ষক ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক শহিদুল ইসলাম (বগুড়া) বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আমরা শুধু আশ্বাস পেয়েছি বাস্তবতার কিছুই পাইনি, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের জন্যে প্রধান উপদেষ্টার হয়ক্ষেপ কামনা করছি।”

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ