ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিজের আকাঙ্ক্ষা বিসর্জন দিলেন আলহাজ্ব কবীর
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, মে ১৭, ২০২৫ ১:০০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, মে ১৭, ২০২৫ ১:০০ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনীতির এক কিংবদন্তি পুরুষ, জেলার মাটি ও মানুষের হৃদয়জয়ী নেতা আলহাজ্ব কবীর আহমেদ ভূঁইয়া। স্থবির হয়ে পড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপিকে পুনর্জাগরণে তিনি যেভাবে নেতৃত্ব দেন, তা আজ দলের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায়। তিনি শুধু নেতৃত্ব দেননি—দলকে ঘুরে দাঁড়াতে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন, আবার শেষপর্যন্ত দলের বৃহত্তর স্বার্থে নিজের ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষাকেও বিসর্জন দিয়েছেন।
দীর্ঘকাল ধরে আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিএনপির প্রতিটি সংকটে জীবনবাজি রেখে, পরিবার-ব্যবসা সবকিছু ভুলে দল ও নেতাকর্মীদের জন্য লড়াই করেছেন কবীর আহমেদ ভূঁইয়া। এমনকি গুম নামক ‘মৃত্যুপরোয়ানাও’ তাকে দমাতে পারেনি। ভাগ্যের জোরে ও নেতাকর্মীদের দোয়ায় তিনি প্রাণে বেঁচে ফেরেন।
সম্প্রতি জেলা বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও দলের গঠনতন্ত্র পাশ কাটানো হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। জনমত ও বিভিন্ন জরিপে আলহাজ্ব কবীর আহমেদ ভূঁইয়া জেলা সভাপতির প্রার্থিতায় সবার শীর্ষে থাকলেও, হঠাৎ কেন্দ্র থেকে চাপিয়ে দেওয়া কমিটিতে তাঁর নাম ছিল না। জেলার ১৪টি নির্বাচিত ইউনিটকে উপেক্ষা করে যে কমিটি গঠিত হয়েছে, সেখানে দলের দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাকর্মীরা বাদ পড়েছেন; বরং স্থান পেয়েছেন সুবিধাবাদী গোষ্ঠী এবং এমনকি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি।
এই পরিস্থিতিতে ত্যাগী নেতাকর্মীরা যখন ক্ষোভে ফুঁসছেন, তখন সবাই তাকিয়ে ছিলেন কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার সিদ্ধান্তের দিকে। কিন্তু তিনি দলকে বিতর্কের মধ্যে ফেলতে চাননি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে দীক্ষিত এই নেতা কষ্ট বুকে চেপে রেখে দলের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখেছেন। তবে কমিটিতে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টদের অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে তিনি কড়া অবস্থান নেন এবং তদন্ত সাপেক্ষে তাদের অপসারণের দাবি জানান।
১৫ মে, বৃহস্পতিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরে বিশাল মিছিল শেষে এক সমাবেশে তিনি ঘোষণা দেন—তার এই লড়াই অন্যায়ের বিরুদ্ধে, দলের আদর্শ ও আত্মমর্যাদা রক্ষার জন্য। সমাবেশে জেলার ১৪টি ইউনিটসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মীর প্রাণবন্ত উপস্থিতি ছিল, যার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন কবীর আহমেদ ভূঁইয়া নিজেই।
বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আপনাদের এই মুখর উপস্থিতি ও অকুণ্ঠ সমর্থন শুধু আমার প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ নয়—এটি আমাদের যৌথ স্বপ্ন, সংগ্রাম ও লক্ষ্যপানে এগিয়ে চলার এক গর্বিত ঘোষণা। এই সহযাত্রাই আমার সাহস, এই ভালোবাসাই আমার শক্তি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, আপনাদের সঙ্গে নিয়ে আমরা ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে গড়ে তুলবো একটি আধুনিক, স্মার্ট ও আদর্শ জেলা—যেখানে স্বপ্ন হবে সত্যি, নেতৃত্ব হবে কল্যাণমুখী এবং মানুষের অধিকার থাকবে অটুট। আমি আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসা কামনা করি এবং এই পথচলায় আপনাদের পাশে চাই—সবসময়।’
জনতার আওয়াজ/আ আ