ভবিষ্যৎ আপনাদের, দেশ গড়ার নেতৃত্বও আপনাদের নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ১২:৩৫, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ভবিষ্যৎ আপনাদের, দেশ গড়ার নেতৃত্বও আপনাদের নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, মে ১২, ২০২৬ ৮:৩৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, মে ১২, ২০২৬ ৯:০৬ অপরাহ্ণ

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ছবি :সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাডেমিক কার্যক্রমসহ সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মতবিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বর্তমান তরুণ প্রজন্মের হাতে। অতীতের ব্যর্থতা নিয়ে পড়ে না থেকে ভবিষ্যৎ নির্মাণে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, আমি যতটা বলতে চাই, তার চেয়ে বেশি আমি শিক্ষার্থীদের কথা শুনতে চাই। ভবিষ্যৎ আপনাদের; দেশকে এগিয়ে নিতে আপনাদেরই নেতৃত্ব দিতে হবে।’

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এছাড়া ওই মতবিনিময়ে আবাসন সংকট, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও হলের রিডিং রুমে আসনসংকট, সরকারি চাকরিতে অনিয়ম, গবেষণায় সীমাবদ্ধতা, শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা, ভাষাশিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল শিল্পের বিকাশসহ নানা বিষয়ে প্রশ্ন করেন। এসব প্রশ্নের খোলামেলা উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অপচয় ও অনিয়ম দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বড় বড় প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপরই পড়ে। এই বাস্তবতায় রাষ্ট্রের সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক সচেতনতা ও মানসিকতার পরিবর্তনের প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনেও গুরুত্ব দিতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি জানান, শিক্ষার্থীরা যেন পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব কর্মপরিবেশ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে, সে জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।’

গবেষণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ গবেষণা ও মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগে ঘাটতি। মেধা ও একাডেমিক যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষক নিয়োগ প্রয়োজন।’

এসময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গবেষণা সংস্কৃতি জোরদারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদের গবেষণা ও উদ্ভাবনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

শিক্ষার্থীদের ভাষা শিক্ষাসংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার স্কুল পর্যায় থেকেই তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে। ইংরেজির পাশাপাশি চীনা, জাপানি, ফরাসি, জার্মানসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ভাষা শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা হবে। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ কর্মবাজারে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে ভাষা শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, ‘সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও সৃজনশীল চর্চাকে শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে স্কুল পর্যায় থেকেই ভাষা, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও কারিগরি দক্ষতার সমন্বয়ে একটি বহুমাত্রিক শিক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।’

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা গবেষণার জন্য আন্তর্জাতিক ডাটাবেজে প্রবেশাধিকার, ভাষাভিত্তিক বিষয়সমূহে সরকারি চাকরিতে কোড অন্তর্ভুক্তি, সৃজনশীল শিল্পের বিকাশ এবং জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে নতুন বিভাগ চালুর দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় নীতিগত উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া অতীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন। তাদের ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ আগমন ইতিহাসে একটি অনন্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হবে। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিয়ে হিজবুল বাহার কর্মসূচির আয়োজন করেছিলেন এবং শিক্ষার্থীদের চিন্তা, পরামর্শ ও মেধাকে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্ব দিয়েছিলেন। আশা করি, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী যে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছেন, আজকের এই মতবিনিময় অনুষ্ঠান সেই লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।’

ওই মতবিনিময় অনুষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ও সাদা দলের আহ্বায়ক ড. মোর্শেদ হাসান খান। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহাদী আলম-সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তারা।

এর আগে অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ও মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক এবং সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান প্রধানমন্ত্রীর হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন।

এদিকে, সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘ট্রান্সফর্মিং হাইয়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: রোডম্যাপ টু সাসটেইনেবল এক্সিলেন্সি’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কর্মশালার উদ্বোধনী পর্বে সভাপতিত্ব ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে টেকসই উৎকর্ষতার পর্যায়ে নিয়ে যেতে গবেষণা, উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে কাক্সিক্ষত অবস্থানে পৌঁছাতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শুধু প্রথাগত শিক্ষায় নয়, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গঠনে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।’

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নির্ধারণে গবেষণা, প্রকাশনা, সাইটেশন এবং উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। সে বিবেচনায় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী পদক্ষেপ নিতে হবে।’

এসময় প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমে প্রাক্তন শিক্ষার্থী বা অ্যালামনাইদের সম্পৃক্ত করারও আহ্বান জানান।

কর্মশালায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমিনসহ জাতীয় অধ্যাপক, নীতিনির্ধারক, শিক্ষক, গবেষক, শিল্পখাতের প্রতিনিধি, কূটনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও উন্নয়ন সহযোগীরা।

বিকালে কর্মশালার সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে এসময় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম বদরুজ্জামান, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল হান্নান চৌধুরী এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ