ভারতীয় পণ্য বর্জন কর‌ছে জনগণ: ১২ দলীয় জোট - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ২:২৭, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ভারতীয় পণ্য বর্জন কর‌ছে জনগণ: ১২ দলীয় জোট

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, মার্চ ১০, ২০২৪ ৫:২২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, মার্চ ১০, ২০২৪ ৫:২২ অপরাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক
বাংলাদেশের গণতন্ত্র হত্যা ও আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের ফলে ভারতের বিরুদ্ধে দেশের আপামর জনগণের ঘৃণা ও বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ ভারতীয় পণ্য বর্জন।

রবিবার বিকেলে রাজধানীর মালিবাগে মৌচাক, আনারকলি মার্কেট ও তৎসংলগ্ন এলাকায় “ভারতীয় পণ্য বর্জন ও আগ্রাসন প্রতিরোধে রুখে দাঁড়ান” শীর্ষক লিফলেট বিতরণকালে জোটের শীর্ষ নেতারা এসব কথা বলেন। এসময় তারা মার্কেটের দোকানদার, পথচারী ও সাধারণ মানুষের হাতে লিফলেট তুলে দেন।

১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা বলেছেন, গুম, খুন ও প্রতিবেশী দেশের নীল নকশায় ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা জবরদখলকারী আওয়ামী লীগ সরকার আওয়ামী অলিগার্ক তন্ত্র কায়েম করেছে। দেশের সাধারণ মানুষের পকেট কেটে সরকারি দলের লোকজন রাশান অলিগার্কদের মত বিত্ত বৈভবের মালিক হচ্ছেন। তাদের লুটেরা সিন্ডিকেটের কারণে দ্রব্যমূল্য লাগামহীন বাড়ছে। আর সাধারণ মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। প্রতিবেশী দেশের ইন্ধনে আওয়ামী লীগ আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এমতাবস্থায় দেশ ও জনগণের স্বার্থে অবিলম্বে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটাতে হবে। একইসঙ্গে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সহ নিত্যপণ্যের বর্ধিতমূল্য প্রত্যাহার এবং ভারতীয় পণ্য বর্জন কর‌তে হ‌বে।

লিফলেটে বলা হয়েছে- আওয়ামী লীগ সরকার গায়ের জোরে ভোট চুরির মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করে আসছে। তারা লুটপাট করতেই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বাড়িয়েছে। এই সিন্ডিকেট সরকারকে না বলুন। একইসঙ্গে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা, বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সহ বিভিন্ন বিষয়ে হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে ভারতীয় পণ্য বর্জনের আহ্বান জানানো হয়।

এসময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ১২ দলীয় জোটের মুখপাত্র শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, প্রতিবেশী দেশ আমাদের প্রিয় বাংলাদেশে গণতন্ত্র বিহীন সরকার ব্যবস্থা কায়েম করেছে। আমরা রক্ত দিয়ে কেনা স্বাধীনতা কারো হাতে তুলে দিতে পারিনা। এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে আমরা সবাই তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবো। তাদের পণ্য কিনবো না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করবো ইনশাআল্লাহ।

১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, প্রতিবেশি পাল্টানো যায় না বন্ধু পাল্টানো যায় কিন্তু ভারত আমাদেরকে মেক্সিকো সিনড্রোম এর মত তাচ্ছিল্য করছে। তিনি বলেন ভারত সরকার এদেশের জনগণের পালস বুঝতে চাচ্ছে না তারা একটি ডিনায়ালের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ভারতের প্রতি ঘৃণা বিদ্বেষ এদেশের সেকুলার, ধর্মে অবিশ্বাসী থেকে শুরু করে সকলের মধ্যে তীব্রভাবে দানা বেঁধে উঠেছে। ভারত আমাদেরকে চাকর বা দাস বানিয়ে তাদের স্বার্থ হাসিল করতে চাচ্ছে আর এই অবৈধ সরকার সেটাকে সুযোগ করে দিচ্ছে। ভারত প্রকাশ্যে আমাদের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে আর তার দোসর এই সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন ২০১৪-১৮ এবং ২৪ সালে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় ভারত আমাদের পাশে ছিল এবং গণতন্ত্রকে রক্ষা করেছে। আওয়ামী লীগের কিছু হালুয়া রুটি ও উচ্ছিষ্ট ভোগকারী ছাড়া দেশের সকল গণতান্ত্রকামী মানুষ আজ ভারতের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে। ভারত ও এই সরকার ভয় দেখিয়ে এদেশের জনগণকে দাবিয়ে রাখতে চাচ্ছে। ভয় দেখিয়ে দাবিয়ে রাখা যাবে না তাদেরকে চরম মূল্য দিতে হবে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংস ও দেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতীয় হস্তক্ষেপ বন্ধে এদেশের ৫৬ হাজার বর্গ কিলোমিটারে ভারতীয় পণ্য বর্জন আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হবে। আশা করি ভারতের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে এবং তারা এদেশের জনগণের অধিকার আদায়ে বৃহৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে তাদের যথাযথ ভূমিকা পালন করবে। বন্ধুত্ব হবে সমতার ভিত্তিতে ভয় দেখিয়ে এদেশের জনগণকে দাঁবিয়ে রাখা যাবে না।

লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ এলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মুফতি গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান হান্নান আহমেদ বাবলু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সিনিয়র সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন ফারুক রহমান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন পারভেজ, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল করিম, বাংলাদেশ এলডিপির অতিরিক্ত মহাসচিব তমিজ উদ্দিন টিটু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন প্রধান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আবু হানিফ, বাংলাদেশ জাতীয় দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুল আহাদসহ জোট নেতৃবৃন্দ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ