ভিলেজ ফাউন্ডেশনের পঞ্চবার্ষিকী উপলক্ষে কোরবানি ও বৃক্ষরোপণে মানবিক উদযাপন - জনতার আওয়াজ
  • আজ ভোর ৫:৫০, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ভিলেজ ফাউন্ডেশনের পঞ্চবার্ষিকী উপলক্ষে কোরবানি ও বৃক্ষরোপণে মানবিক উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, জুন ৮, ২০২৫ ৪:৪৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, জুন ৮, ২০২৫ ৪:৪৯ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
“শিক্ষা, শান্তি ও মানবতার কল্যাণে আগামীর পথে”—এই মহৎ স্লোগানকে সামনে রেখে সমাজসেবামূলক যুব সংগঠন ভিলেজ ফাউন্ডেশন সফলভাবে অতিক্রম করেছে তাদের পাঁচ বছরের পথচলা। ২০২১ সালের ৫ জুন প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি গত পাঁচ বছরে সমাজ উন্নয়নের বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে চলেছে।

পঞ্চবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে সংগঠনটি এবছর কোরবানি ঈদে হাতে নেয় ব্যতিক্রমধর্মী কিছু কর্মসূচি। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার পাশাপাশি তারা বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে পরিবেশ রক্ষার বিষয়েও। “সবার জন্য ঈদের আনন্দ”—এই স্লোগানকে কেন্দ্র করে আয়োজন করা হয় গরু কোরবানি।

ঈদের দিন গরু কোরবানি করে সেই মাংস শতাধিক হতদরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে বিতরণ করে। এতে ঈদের আনন্দ পৌঁছে যায় সমাজের সেইসব মানুষের কাছে, যারা অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে ঈদের দিনে ভালো খাবার থেকেও বঞ্চিত থাকেন।

সংগঠনের একজন স্বেচ্ছাসেবক বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, ঈদের প্রকৃত আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা সবাই মিলে উপভোগ করতে পারে। আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস সেই লক্ষ্যেই।”

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা রোধে জনসচেতনতা তৈরি করা ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে ফাউন্ডেশন এবার ২০০টির বেশি পরিবেশবান্ধব গাছের চারা রোপণ করেছে। স্কুল, মাদ্রাসা, রাস্তাঘাট ও গ্রামীণ জনপদে এসব বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালিত হয়।

ভিলেজ ফাউন্ডেশনের পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক জানান, “আমরা শুধু আজ নয়, ভবিষ্যতের কথা ভেবে কাজ করছি। একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমাদের এ প্রয়াস।”

পাঁচ বছরে যেসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে ভিলেজ ফাউন্ডেশন

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ভিলেজ ফাউন্ডেশন নানা রকম সমাজসেবামূলক কাজের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সংগঠনের উল্লেখযোগ্য কিছু কার্যক্রম নিচে তুলে ধরা হলো:

সমাজসেবা ও মানবিক সহায়তা: দুর্যোগ, বিশেষ করে বন্যাকবলিত এলাকায় জরুরি ত্রাণ বিতরণ ও সহায়তা।

পরিবেশ রক্ষা: নিয়মিত বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও পরিবেশ সচেতনতা ক্যাম্পেইন।

রক্তসেবা: মুমূর্ষু রোগীদের জন্য জরুরি রক্তদানে কার্যকর ভূমিকা।

চোখের চিকিৎসা: বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষার আয়োজন এবং দরিদ্র রোগীদের সেবাদান।

শিক্ষা সহায়তা: দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও পড়ালেখার সুযোগ তৈরির চেষ্টা।

ভিলেজ ফাউন্ডেশনের সভাপতি জানান, “আমাদের লক্ষ্য শুধু সহযোগিতা নয়, আত্মনির্ভরশীল ও সচেতন সমাজ গড়ে তোলা। ভবিষ্যতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রেও কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “যুবসমাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে প্রয়োজন ইতিবাচক নেতৃত্ব ও মানবিক মূল্যবোধ। আমরা সেই পথেই হাঁটছি।”

ভিলেজ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। অনেকেই বলেন, “এই সংগঠনটি সমাজের অবহেলিত মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছে। শুধু সাহায্য নয়, সচেতনতা গড়ে তুলেছে, তরুণদের সম্পৃক্ত করেছে।”

একটি যুব সংগঠন হিসেবে ভিলেজ ফাউন্ডেশন প্রমাণ করেছে, সৎ ইচ্ছা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নিরলস পরিশ্রম থাকলে ছোট সংগঠনও বড় পরিবর্তনের পথ দেখাতে পারে। তাদের পঞ্চবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কোরবানির আনন্দ বিতরণ এবং পরিবেশ রক্ষায় গাছ রোপণের কর্মসূচি শুধু একটি উদযাপন নয়, এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি প্রতিশ্রুতি—একটি মানবিক, সচেতন ও টেকসই সমাজের পথে অগ্রযাত্রা।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ