মধুপুর আ.লীগ বিভাজনে কৃষিমন্ত্রীর ওপর দায় সভাপতি-সম্পাদকের - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৫:৪৮, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

মধুপুর আ.লীগ বিভাজনে কৃষিমন্ত্রীর ওপর দায় সভাপতি-সম্পাদকের

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, ডিসেম্বর ২৫, ২০২৩ ৪:১৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, ডিসেম্বর ২৫, ২০২৩ ৪:২০ অপরাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে বিভাজনের জন‌্য টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনের নৌকার প্রার্থী কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাককে দায়ী ক‌রে‌ছেন উপ‌জেলার আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার শফি উদ্দিন মনি ও সাধারণ সম্পাদক মো. ছারোয়ার আলম খান আবু।

সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নসরুল হামিদ মিলনায়তনে আয়োজিক এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ অভি‌যোগ ক‌রেন।

সম্প্রতি কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে আপত্তিকর বক্তব্য দিয়ে টাঙ্গাইল-১ আসনে নৌকার মনোনয়ন চেয়েছিলেন মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ছরোয়ার আলম খান আবু। এ কারণে তাকে শোকজ করা হয় এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের একটি অংশ তাকে দল থেকে বহিষ্কার দাবি করে আসছিল। পাশাপাশি তারা সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক এবং শিক্ষা ও সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদকের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব করে। গত ২০ ডিসেম্বর দলীয় কার্যালয়ে এক বিশেষ সভায় এই প্রস্তাব গৃহীতও হয়। যা ২২ ডিসেম্বর মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জানান ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পাওয়া ইয়াকুব আলী।

এই সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদেই ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনের আয়েজন করেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাধারণ সম্পাদক মো. ছরোয়ার আলম খান আবু বলেন, ‘গত ২২ ডিসেম্বর মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে আমাদের বিরুদ্ধে যে বক্তব্য দেওয়া হযেছে, সেটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট, মিথ্যা ও অগঠনতান্ত্রিক। আমরা তাদের এহেন কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকে না জানিয়ে দলের পক্ষে এমন সংবাদ সম্মেলন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র বিরোধী।’

কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি আরো বলেন, ‘দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়েছিলাম এই অপরাধের দায়ে গত ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক সাহেব তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে উপজেলা পরিষদের সরকারী গাড়ি, আমার বাসা, আমার অফিস, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কাজী আব্দুল মোতালেব সাহেবের কাজী ডিজিটাল হাসপাতাল ও নেতাকর্মীদের ৬০-৭০টি মটর সাইকেল ভাংচুর করেন। যা জাতীয় দৈনিকসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।’

‘তৃণমূল থেকে আগত ওয়ার্ড/ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকসহ অসংখ্য নেতাকর্মীদের মারধর করেন। অনেকে আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক সাহেবের নির্দেশে তার সমর্থকরা এহেন দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও বিভাজন করে দলীয় গঠনতন্ত্র বিরোধী কর্মকান্ড করে যাচ্ছে। যা মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলার সকল শ্রেণি পেশার মানুষসহ অবগত আছেন। এত বাধার মুখেও উক্ত প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি তৃণমূলের নেতাকর্মী উপস্থিত হয়েছিলেন।’ যোগ করেন তিনি।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মাননীয় নেত্রী যাদেরকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রতিক দিয়ে পাঠিয়ে ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক নৌকার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেন এবং তিনটি ইউনিয়নে নৌকাকে পরাজিত করেন।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ৭ই জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। সে লক্ষ্যে প্রতিটি উপজেলায়, উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠিত হয় ও নির্বাচন পরিচালিত হয়। কিন্তু মধুপুর নৌকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ও কেন্দ্র কমিটি আমাদেরকে না জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক তার অতি উৎসাহি, অনুগত ও বাহমভুক্ত, হাইব্রিড, অনুপ্রবেশকারী ব্যক্তিদের দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি করেছে। যাহা সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত স্বেচ্ছাচারিতার সামিল।

সংবাদ সম্মেলনে মধুপুর উপজেলা আওয়মী লীগের বিভাজনের জন্য কে দায়ী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক পোস্ট একেবারেই তৃণমূল পর্যায়ের পোস্ট। জেলা পর্যায় আমাদের অনেক উপরে। তার উপরে কেন্দ্র। সেই কেন্দ্রিয় নেতা যদি আমাদের ঐক্যবদ্ধ না রাখে, আমাদের সাথে দ্বিমুখি আচরণ করেন, তাহলে জেলা বাধ্য হয়ে করে। আপনারা বুঝে নিতে পারেন কেন হচ্ছে, কার জন্য হচ্ছে। এর জন্য দায়ী কেন্দ্রীয় নেতা ড. আব্দুর রাজ্জাক। ওনার কারণে এই দ্বিধাবিভক্তি, বিশৃঙ্খলা। আমি যদি প্রার্থী না হতাম, তাহলে হয়তো এটা হতো না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার একটি বিলবোর্ড, পোস্টার কোথাও রাখেনি। বিএনপির আছে, জাতীয় পার্টির আছে। কিন্তু আমার নেই।’

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের দলীয় প্রার্থী কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের পক্ষে মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ আছে কিনা জানতে চাইলে সাধারণ সম্পাদক মো. ছরোয়ার আলম খান আবু বলেন, ‘আমি যেহেতু নির্বাচনে বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হইনি, তাই নৌকার পক্ষেই কাজ করে যাবো। যেহেতু নৌকার পক্ষে আছি, সেহেতু ওনার (আব্দুর রাজ্জাক) পক্ষেই থাকা হলো।’

কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক যেহেতু আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় নেতা, সেহেতু এই বিষয়ে কেন্দ্রের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে যে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে, সেই বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। সেই সাথে কেন্দ্রীয় সভাপতি, সম্পাদক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এককভাবে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমকে একটি কপি দেওয়া হয়েছে।’

এ সময় ছাত্রলীগের কেন্দ্রিয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান রনিসহ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা উপ‌স্থিত ছি‌লেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ