মধ্যপ্রাচ্যগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৭, ২০২৫ ৩:৩২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৭, ২০২৫ ৩:৩২ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যেতে বাংলাদেশিদের জন্য যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়, সেই গালফ হেলথ কাউন্সিলের অনুমোদিত বাংলাদেশের মেডিকেল সেন্টারগুলোতে দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। ফলে প্রবাসে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় এসব কর্মী ধরা পড়লে তাদের দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গালফ হেলথ কাউন্সিল অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের মালিকেরা এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে গালফ হেলথ কাউন্সিল অ্যাপ্রুভড মেডিক্যাল সেন্টার ওনার্সের সমন্বয়কারী মেজবাহ উদ্দিন সাঈদ বলেন, যে সমস্ত দেশে বাংলাদেশিরা যান, তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য উপসাগরীয় দেশসমূহের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে গঠিত একটি বোর্ড আছে, যা গালফ হেলথ কাউন্সিল নামে পরিচিত। এর মধ্যে সৌদি আরব, আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, ওমান, বাহরাইন উল্লেখযোগ্য। তাদের প্রধান কাজ হলো উপসাগরীয় দেশসমূহ যে সমস্ত দেশ থেকে জনশক্তি আমদানি করে, সে সমস্ত দেশের যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার জন্য গালফ হেলথ কাউন্সিলের সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা তাদের নির্দেশনা অনুসারে সরাসরি এসে পরিদর্শন করে উপযুক্ত মেডিকেল সেন্টার অনুমোদন দিয়ে থাকেন। তাদের একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা আছে।
মেজবাহ উদ্দিন আরও বলেন, গালফ হেলথ কাউন্সিল পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে ঢাকা ছাড়াও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন শহরে যেমন সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা, রাজশাহী, বরিশাল, শেরপুর ও চাঁদপুরে নতুন নতুন মেডিকেল সেন্টার অনুমোদন দিয়েছে। যার সংখ্যা এখন প্রায় ২৬০। বর্তমানে মেডিকেল সেন্টারগুলোকে পুঁজি করে এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী ভিন্ন উপায়ে অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার হিসেবে অবৈধ পন্থা খুঁজে বের করছে। এই চক্রটি এতটাই বেপরোয়া হয়ে গেছে যে, কোনো কিছুই তাদের কাছে অনৈতিক বা অন্যায় মনে হয় না। তারা গালফ হেলথ সেন্টারের সফটওয়্যারকে ম্যানিপুলেট করে নিজের পছন্দের সেন্টারে স্লিপ তুলে অন্যদের বঞ্চিত করছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ঢাকার ভিতরে অনুমোদনবিহীন মেডিকেল সেন্টার স্বাস্থ্য পরীক্ষার নামে প্রতারণার মাধ্যমে নির্ধারিত ফি-এর ৩ থেকে ৪ গুণ অর্থ সংগ্রহ করছে এবং ঢাকার বাইরের অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার থেকে স্বাস্থ্য সার্টিফিকেট ইস্যু করছে, যা গালফ হেলথ কাউন্সিলের নীতিমালা ও বাংলাদেশের প্রচলিত আইনেরও পরিপন্থী। এদের মধ্যে কেউ কেউ শুধুমাত্র অর্থের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করেও স্বাস্থ্য সার্টিফিকেট প্রদান করছে।
কিন্তু স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়া প্রবাসে গিয়ে যখন পুনরায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়, তখন অনেকে স্বাস্থ্যগতভাবে অযোগ্য হয়ে দেশে ফিরে আসছে। এই ধরনের কাজের জন্য বহির্বিশ্বে আমাদের দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
জনতার আওয়াজ/আ আ