মনে হচ্ছে সরকার ধাওয়া খেয়ে প্রাণ বাঁচাতে দৌঁড়াচ্ছেন ঊর্ধ্বশ্বাসে - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ২:৫৬, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

মনে হচ্ছে সরকার ধাওয়া খেয়ে প্রাণ বাঁচাতে দৌঁড়াচ্ছেন ঊর্ধ্বশ্বাসে

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, জানুয়ারি ১৭, ২০২৪ ২:৩৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, জানুয়ারি ১৭, ২০২৪ ২:৩৭ অপরাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তার অপরিসীম ক্ষমতায় আইন-কানুন, নিয়ম-নীতি, সংবিধান, শৃঙ্খলা সবকিছু পদতলে পিস্ট করে দেশে জংলি শাসন কায়েম করেছেন। তার বক্তব্য ভ্রান্ত ও মিথ্যাা তথ্যের সমষ্টি ছাড়া কিছুই নয়। তাদের উদ্ভট কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে পেছন থেকে কেউ ধাওয়া করছে আর তারা প্রাণ বাঁচাতে দৌঁড়াচ্ছেন ঊর্ধ্বশ্বাসে।

বুধবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, পূর্ব নির্ধারিত ফলাফলের ভোটরঙ্গ ও ভোট গণনা শেষ না হতেই ডামি এমপিদের নামে গেজেট, শপথ গ্রহণ, মন্ত্রী পরিষদের নাম ঘোষণা, মন্ত্রীদের শপথ—চারদিনেই অভাবনীয় দ্রুততায় বিশ্ব রেকর্ড করে ভেবেছে বিপদমুক্ত হলেন শেখ হাসিনা। তাকে মনে হচ্ছে অস্থির। ভীতি-ত্রাসে তাড়াহুড়ো করে ক্ষমতা নবায়ন করার অবৈধ শপথ নিতে গিয়ে আইন কানুন ও সংবিধানের কবর রচনা করা হয়েছে। এমনিতেই সংবিধানকে কাটাছেঁড়া করে শেখ হাসিনা আতম্ভরী ও ভাববিলাসী নিরঙ্কুশ ক্ষমতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, সংবিধানের ৭২(৩) অনুচ্ছেদে বলা আছে, রাষ্ট্রপতি আগে ভেঙে না দিয়ে থাকলে প্রথম বৈঠকের তারিখ থেকে পাঁচ বছর অতিবাহিত হলে সংসদ ভেঙে যাবে। সংবিধানের বিধান মতে, ২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি শুরু হওয়া একাদশ নিশিরাতের ভোট ডাকাতির সংসদের মেয়াদ সমাপ্ত হওয়ার কথা ২৯ জানুয়ারি।

যেহেতু রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দেননি, তার মানে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত একাদশ সংসদের যারা সংসদ সদস্য ছিলেন, তারা সংসদ সদস্য হিসেবে আছেন। দেশের আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মুহূর্তে দেশে মিডনাইট একাদশ সংসদের ৩৫০ জন আর ডামি দ্বাদশ সংসদের ২৯৮ জনসহ মোট ৬৪৮ জন শপথবদ্ধ এমপি রয়েছেন। এখন রাষ্ট্রপতি সংসদ ডাকলে দুই সংসদের সদস্যরাই তাতে যোগ দিতে পারেন। অথচ এটি সাংবিধানিকভাবে অবৈধ।

তিনি বলেন, আগামী ২৯ জানুয়ারি একাদশ সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়া অবধি এই অরাজকতা থাকবে। এটি একটি চরম সাংবিধানিক লঙ্ঘন। গণতন্ত্র ও দেশের স্বার্থে এই সময়ের মধ্যে দ্বাদশ অবৈধ সংসদ বাতিল করে দিতে পারে উচ্চ আদালত। জনগণের প্রত্যাশা শেষ আশ্রয়স্থল আদালত তাদের যুগান্তকারী ভূমিকা নিতে পারে।

আর শেখ হাসিনার মাফিয়াচক্র যেহেতু স্বজ্ঞানে ইচ্ছাকৃতভাবে সংবিধান লংঘন করেছেন, যাতে ৭ক (১) (খ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী “এই সংবিধান বা ইহার কোন বিধানের প্রতি নাগরিকের আস্থা, বিশ্বাস বা প্রত্যয় পরাহত করিলে কিংবা উহা করিবার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করিলে—তাহার এই কার্য রাষ্ট্রদ্রোহিতা হইবে এবং ঐ ব্যক্তি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে দোষী হইবে। (৩) এই উপ—অনুচ্ছেদে বর্ণিত অপরাধে দোষী ব্যক্তি প্রচলিত আইনে অন্যান্য অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ দণ্ডে দণ্ডিত হইবে” তাদের ওপর ক্যাপিটেল পানিশমেন্টও বরাদ্দ।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, যেহেতু সংবিধানের ১২৩ (৩) অনুচ্ছেদে দ্বাদশের ৩০০ জনকে শপথ নিতে নিষেধ করা হয়েছে, অথচ শেখ হাসিনাসহ তার কেবিনেট এবং ২৯৮ জন সেই অসাংবিধানিক কাজটি করেছেন স্বজ্ঞানে ইচ্ছাকৃতভাবে, তাই দ্বাদশ সংসদ ও এরপরে গঠিত সরকার দুটোই বর্তমান সংবিধানের সরাসরি লঙ্ঘন। এই দায় রাষ্ট্রপতিরও। বর্তমানে দুটি সংসদ বহাল অর্থাৎ প্রতি আসনে এখন দু’জন করে এমপি! সত্যিই সেলুকাস, কী বিচিত্র এই দেশ বানিয়েছেন শেখ হাসিনার ক্ষমতার লালসা। সংবিধান বিচ্যুত অবৈধ পন্থায় অবৈধ শপথে অবৈধভাবে জন্ম নেয়া অবৈধ সংসদের অবৈধ কার্যক্রম এবং অবৈধ মন্ত্রী পরিষদের কোন অন্যায্য আদেশ নির্দেশ দেশের জনগণ মানতে বাধ্য নয়। এই কারণেই আওয়ামী লীগের গোটা শাসনামল দুর্নীতি, মহা হরিলুট, মহা সম্পদ পাচার ও মহা মাফিয়া চক্র কবলিত।

রিজভী বলেন, দেড় দশক ধরে দেশের ভোট বঞ্চিত মানুষের প্রাণ তড়পানো মৌলিক দাবি-নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন। কিন্তু শেখ হাসিনা ও তার লুটেরা পারিষদবর্গ সংবিধানের দোহাই দিয়ে একটির পর একটি বিনা ভোট, নিশি ভোট, ডামি নির্বাচন করে ক্ষমতা দখল করে দেশে জংলি আইনের শাসন কায়েম করেছে। প্রাণবন্ত গণতন্ত্রের জন্য যে দলীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং উদার সংস্কৃতির দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রবণতা অপরিহার্য তা আওয়ামী লীগ কখনোই রপ্ত করেনি। তারা দেশের জনগণ এবং বৈশ্বিক গণতান্ত্রিক শক্তিকে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রশ্নে উৎকট চেঁচিয়ে বলে সংবিধানের বাইরে যাওয়া যাবে না। অথচ তাদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য সংবিধানকে দুমড়ে মুচড়ে সব আইন-কানুনের বাইরে যেতে তাদের কোন অসুবিধা হয় না। তাদের স্বার্থে না পোষালে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ধারা বিধান সবকিছুই নিস্তেজ হয়ে যায়। শেখ হাসিনা মূলত ‘হার্ডহিটিং ইমেজ’ গড়ে তুলে একচ্ছত্র কতৃর্পক্ষ হওয়ার জন্যই সত্যিকার অর্থেই হবুচন্দ্র রাজার রাজত্ব তৈরি করে চলেছেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, শেখ হাসিনার যেমন খুশি তেমন শাসনের বাকশাল রাজ্যে বিচার বিভাগ, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা সব কিছুই তার অঙ্গুলি নির্দেশে পরিচালিত হচ্ছে। পেশীশক্তির বলে মানবাধিকার, সংবিধান ও গণতন্ত্রের জীবন্ত পোস্টমর্টেম করা হয়েছে। আইন-কানুন নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে আওয়ামী গেস্টাপোদের হাতে।

পুরনো বাকশাল এখন নতুনরুপে দানব হয়ে জনগণের ঘাড় মটকাচ্ছে। এই নব্য দখলদার বাকশালী চক্রের বিরুদ্ধে এখনি রুখে দাঁড়াতে না পারলে এই রাস্ট্র-জনগণের অস্তিত্ব থাকবে না। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র ও আইনের শাসনকে পদদলিত করে যে শ্রদ্ধাহীন স্পর্ধার সংস্কৃতি বিনির্মাণ করেছে তার বিরুদ্ধে বিএনপিসহ সমমনা ৬৩টি দল রাজপথের চলমান আন্দোলন আরও তীব্র করার জন্য আমি এই সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল স্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানাই।

রিজভী বলেন, ডামি সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্টতই নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে রাজনীতির মাঠ নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে রাজনৈতিক শিষ্টাচারও হারিয়ে ফেলেছেন। যেকোনো সভা-সমাবেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে অশ্রাব্য খিস্তিখেউড় করা, এখন মনে হয় তার রুটিন ওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। এ কারণেই গোপালগঞ্জের জনসভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সম্পর্কে শেখ হাসিনার বক্তব্যে গণতন্ত্রকামী মানুষ অবাক হয়নি। কারণ জনগণ বিশ্বাস করে, রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত মন্তব্য একমাত্র শেখ হাসিনার মুখেই মানায়। বিএনপিতে নাকি নেতৃত্ব সংকট বলে তিনি বক্তব্য দিচ্ছেন!

রিজভী চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, আমি আজ শেখ হাসিনাকে একটি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলতে চাই, বিএনপি নেতৃত্ব সংকটে নেই। ৭ জানুয়ারি প্রমাণিত হয়েছে জনগণের সমর্থন এবং ভালোবাসায় ধন্য, তারেক রহমানই এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং অবিসংবাদিত নেতা। র‌্যাব-পুলিশের পাহারায় থেকে অনেক কথা বলা যায়, কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আপনি কতটুকু জনপ্রিয় তা যাচাই করতে পারবেন। আপনি যদি আবারো প্রমাণ চান ৩০০ সংসদীয় নির্বাচনী আসনে শুধুমাত্র প্রার্থী আপনি এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। নির্বাচনে সারাদেশে তারেক রহমান যদি আপনি শেখ হাসিনার চেয়ে দ্বিগুন ভোট বেশি না পান, তাহলে কথা দিচ্ছি, আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব। শেখ হাসিনাকে বলছি, সাহস থাকলে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করুন। দেশের অবিসংবাদিত নেতা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে খিস্তিখেউড় বন্ধ করুন।

এ সময় তিনি আরও বলেন, অবৈধ আওয়ামী সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ হাজার হাজার রাজবন্দির মুক্তির দাবিতে চলমান একদফার আন্দোলনে সকলেই শরীক হয়ে রাজপথে ঝাঁপিয়ে পড়ি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, ড. মামুন আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ