ময়মনসিংহে সরকারি স্কুলের পাশে অবৈধ ইটভাটা নির্মাণের অভিযোগ বন্ধের দাবী এলাকাবাসীর - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৭:৩৮, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ময়মনসিংহে সরকারি স্কুলের পাশে অবৈধ ইটভাটা নির্মাণের অভিযোগ বন্ধের দাবী এলাকাবাসীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, আগস্ট ১২, ২০২৫ ২:০৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, আগস্ট ১২, ২০২৫ ৫:৩৮ অপরাহ্ণ

 

স্টাফ করেসপন্ডেট :

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলা দাওগাও ইউনিয়নের চন্দনি আটা গ্রামে সাবানিয়া মোড় এলাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,মাধ্যমিক বিদ্যালয়,মাদ্রাসা,মসজিদ,আবাসিক এলাকা ও গ্রামীণ রাস্তার পাশে অবৈধ ইটভাটা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী নজরুল ইসলাম, তরিকুল ইসলাম ও মজিবরের বিরুদ্ধে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে তিন ফসলী জমি দখল করে অবৈধ ইটভাটা নির্মাণ করছেন এই প্রভাবশালী চক্রটি।

স্থানীয় সিএনজি চালক বিল্লাল হোসেন বলেন, স্কুলের পাশে অবৈধ ইটভাটা কিভাবে করে আমাদের জানা নেই। তবে প্রশাসন যদি এখন বন্ধ না করে তাহলে স্কুলের ছোট ছোট ছাত্র ছাত্রীদের অনেক ক্ষতি হবে। আমি চাই বাচ্চাদের কথা চিন্তা করে হলেও এইগুলো ইট ভাটা বন্ধ করে দেওয়া হোক।

স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বলেন,আমরা দেশ স্বাধীন করেছিলাম মুক্ত বাতাসে নিশ্বাস নেওয়ার জন্য কিন্তু এখন আস্তে ধীরে ধম বন্ধ হয়ে আসছে। রাস্তা এবং স্কুলের পাশে ফসলের জমিতে কিভাবে ইট ভাটা স্থাপন করে। প্রশাসন কি করে আমি বুঝি না ? ফসলী জমি ও স্কুলের শিক্ষর্থীদের কথা চিন্তা করে দ্রæত ইট ভাটা নির্মাণ কাজ বন্ধ করা হোক।

অভিযোগ কারী আজিজুল হক জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত বক্তব্যে বলেন,বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও ইট প্রস্তুত ও ভাটা নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী অবৈধভাবে ইটভাটা স্থাপন ও পরিচালনা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে।

দুঃখজনকভাবে আমাদের মুক্তাগাছা উপজেলার দাওগাও ইউনিয়নের চন্দনি আটা গ্রামে (সাবানিয়া মোড়) এলাকায় সম্প্রতি একটি নতুন ইটভাটা নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা সম্পূর্ণভাবে সরকারি আইন ও নির্দেশনার লঙ্ঘন। নতুন ভাটার ২০০ মিটার এর মধ্যে ১ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩টি কওমি মাদ্রাসা, ৩টি মসজিদ,১টি ঈদগাহ মাঠ ও ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা রয়েছে। এ কার্যক্রম চলতে থাকলে স্থানীয় পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হবে। কৃষিজমি ও ফসলের অপূরণীয় ক্ষতি হবে। এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জীবনমানের অবনতি ঘটবে। আমরা এলাকাবাসী এই অবৈধ কার্যক্রমের প্রতি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং বিনীতভাবে অনুরোধ করছি, অবিলম্বে উক্ত ইটভাটার নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।

অভিযুক্ত অবৈধ ইটভাটার কাজ শুরু করা মো. নজরুল ইসলাম বলেন,আমরা ৯ জন শেয়ারে এই ইটভাটা স্থাপনের কাজ শুরু করেছি। মজিবর, আমার ছোট ভাই তরিকুল আরও লোক আছে। আমরা অনুমোদনের জন্য কোথাও কোন আবেদন করি নাই।

সমাজকর্মী ইমতিয়াজ আহমেদ তানসেন বলেন, যত্রতত্র ইটভাটা স্থাপন পরিবেশের বিপর্যয় ডেকে আনে। তাই প্রশাসনের অনুমোদন ব্যতিরেকে স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ,, আবাসিক এলাকায় ফসলি জমির ক্ষতিসাধন করে অবৈধভাবে ইটভাটা স্থাপন কাম্য নয়। মুক্তাগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার কর্তৃক এই অবৈধ ইটভাটার বিষয়ে তড়িৎ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার আহবান জানাই।

বাকৃবি বোটানিক্যাল গার্ডেন এর সাবেক কিউরেটর ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগ প্রফেসর ড. মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, ইটভাটা পরিবেশ ও গাছপালার জন্য নানাভাবে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। ইট পোড়ানোর সময় কয়লা, কাঠ বা অন্যান্য জ্বালানী ব্যবহারে ধোঁয়া ও ক্ষতিকারক গ্যাস উৎপন্ন হয়। শব্দ দূষন, ভূমি অবক্ষয়,পানি দূষণ হয়। গাছপালার পাতা পুড়ে যাওয়া , বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া, ফলন কমে যায়, অনেক সময় গাছ মারাও যেতে পারে।

ময়মনসিংহ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোঃ মেজবাবুল আলম বলেন,অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম বলেন,অবৈধ ইটভাটা স্থাপন করার কোন সুযোগ নেই,কেউ নিয়ম অমান্য করে ইটভাটার কাজ করলে তার বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ