ময়মনসিংহ ১১-ঐক্যবদ্ধ বিএনপি’র বিকল্প নেই ফুরফুরে মেজাজে জামায়াত - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ১০:২৮, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ময়মনসিংহ ১১-ঐক্যবদ্ধ বিএনপি’র বিকল্প নেই ফুরফুরে মেজাজে জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৫ ১:৪৫ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৫ ১:৪৫ পূর্বাহ্ণ

 

মো. মনিরুজ্জামান খান, ভালুকা (ময়মনসিংহ) থেকে

ছবি: সংগৃহীত

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ময়মনসিংহ-১১ ভালুকা আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের পদচারণায় এখন সরগরম শিল্পাঞ্চল ভালুকার রাজনৈতিক অঙ্গন। মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা এলাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি নিজ দলের শীর্ষ নেতাদের আশীর্বাদ এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সমর্থন পেতে ঘাম ঝরাচ্ছেন। প্রায় দেড় যুগ ধরে বাচ্চু ও মুর্শেদ গ্রুপে দ্বিধাবিভক্ত বিএনপি’র ৪ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী মাঠে কাজ করছেন। অপরদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ইতিমধ্যে একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে। একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত শিল্পনগরী ভালুকা আসন থেকে ১৯৯১ ও ১৯৯৬-এর ১৫ই ফেব্রুয়ারি তারিখের নির্বাচন ছাড়া বিএনপি’র প্রার্থীরা আর কোনো নির্বাচনে জয়লাভ করেনি। তাই আগামী নির্বাচনে জয়লাভ করতে হলে ক্লিন ইমেজের সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া এবং ঐক্যবদ্ধ বিএনপি’র বিকল্প নেই বলে মনে করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মী-সমর্থকরা। উপজেলা বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আলহাজ মোহাম্মদ মুর্শেদ আলম, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক ও পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট আনোয়ার আজিজ টুটুল, জিয়া ব্রিগেডের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ব্যারিস্টার আলহাজ মো. আবুল হোসেন, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য ও উপজেলা বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক (বর্তমানে বহিষ্কৃত) ফখরউদ্দিন আহাম্মদ বাচ্চু মনোনয়নের জন্য লড়াই করছেন। তবে, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট পটপরিবর্তনের পর দল থেকে বহিষ্কৃৃত তিনবার দলীয় মনোনয়ন পাওয়া ফখরউদ্দিন আহাম্মদ বাচ্চুর ভাগ্য ঝুলে রয়েছে দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর।

দলের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হলে এবং অলৌকিক কিছু না ঘটলে বাকি তিনজনের মধ্যেই মনোনয়নের লড়াই চলবে বলে নেতাকর্মীদের অভিমত। আলহাজ মোহাম্মদ মুর্শেদ আলম বলেন, বিগত আওয়ামী দুঃশাসনের হুমকি-ধামকি ও বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রাজপথে থেকে দলের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছি, যা এখনো অব্যাহত। মনোনয়ন নিয়ে আমি শতভাগ আশাবাদী। এডভোকেট আনোয়ার আজিজ টুটুল বলেন, দলের যেকোনো প্রয়োজনে সামনের সারিতে থেকে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছি এবং প্রতিটি লড়াই সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছি। ২০১৮ সালে প্রথমে দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছিল। আমি আশাবাদী, দল এবারো আমাকে নিয়ে বিবেচনা করবেন। ফখরউদ্দিন আহাম্মদ বাচ্চু বলেন, আমি দীর্ঘদিন দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মামলা-হামলা, জেল-জুলুম ও নির্যাতন মোকাবিলা করে বিএনপিকে সুসংগঠিত করে ইতিমধ্যে আগামী নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। যারা আমার বিরুদ্ধে ষড়ষন্ত্র করেছিল তাদের সকল ষড়ষন্ত্র দলের চেয়ারপারসন ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে। ২০০৬, ২০০৮ ও ২০১৮ সালে আমাকে দল মনোনয়ন দিয়েছিল। স্থানীয় বিএনপি’র রাজনীতিতে বিরোধ থাকলেও জামায়াতের একক প্রার্থী হিসেবে উপজেলা জামায়াতের আমীর মো. সাইফুল্লাহ পাঠান ফজলু ফুরফুরে মেজাজে নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। অপরদিকে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ভালুকা শাখার সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মামুনুর রশীদ খান দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপি’র প্রার্থী হিসেবে ডা. মো. জাহিদুর রহমান মাঠে রয়েছেন। উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহ্বায়ক মজিবুর রহমান মজু বলেন, ফখরউদ্দিন আহাম্মদ বাচ্চু বহিষ্কার হওয়ার কারণে আগামী নির্বাচনে এমপি প্রার্থী হিসেবে আলহাজ মোহাম্মদ মুর্শেদ আলমের কোনো বিকল্প নেই। দুঃসময়ে তিনি নেতাকর্মীদের আপদে-বিপদে পাশে থেকে তাদের আগলে রেখেছেন এবং সবসময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। প্রতিটি লড়াই সংগ্রামে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৯১ সালের পর ভালুকা থেকে বিএনপি’র কোনো প্রার্থী বিজয়ী হতে পারেনি। মুর্শেদ আলমকে মনোনয়ন দিলে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত হবে। উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন পাঠান বলেন, আমাদের সকলের প্রিয় নেতা দুর্দিনের কাণ্ডারি ফখরউদ্দিন আহাম্মদ বাচ্চুকে মনোনয়ন দিলে দলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণ সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে। অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলে দল ও জনগণের চেয়ে ব্যক্তির লাভ বেশি হবে।

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সদস্য মো. ছানাউল্লাহ বলেন, দল ও নেতাকর্মীদের প্রয়োজনে সবসময় সক্রিয়, পরিছন্ন ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ জেলা আইনজীবী ফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট আনোয়ার আজিজ টুটুলকে ভালুকা আসন থেকে মনোনয়ন দিলে ভেদাভেদ ভুলে সবাই তার পক্ষে কাজ করবেন বলে আমার বিশ্বাস। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পাশাপাশি এলাকার সাধারণ ভোটার ও জনগণের মাঝেও নির্বাচনী আলাপ আলোচনা জমে উঠেছে। সাধারণ ভোটারদের চাওয়া অবাধ, সুুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তারা এমন একজন প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে চান যিনি দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্য কাজ করবেন। ওষুধ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম (৪৫) ও পরিবহন শ্রমিক ইসমাইল হোসেন (২৬) বলেন, আগামী নির্বাচনে আমরা এমন একজনকে এমপি হিসেবে দেখতে চাই, যিনি শুধু দলীয় নেতাকর্মী ও নিজের উন্নয়নের কথা না ভেবে সাধারণ জনগণ ও এলাকার উন্নয়নের কথা চিন্তা করবেন। স্কুল শিক্ষিকা পারভীন সুলতানা (৩৬) ও গৃহিণী শাহানাজ বেগম (৪০) বলেন, আগামী নির্বাচনে ভালুকা থেকে এমন একজন ব্যক্তি এমপি হিসেবে নির্বাচিত হোক, যিনি নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ