ময়মনসিংহ ৫-একক প্রার্থী নিয়ে মাঠে সব দল
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২, ২০২৫ ১:২৫ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২, ২০২৫ ১:২৫ পূর্বাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ময়মনসিংহ-৫ আসনে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। শুধুমাত্র মুক্তাগাছা উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটি। উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নের ভোটার ১ লাখ ৮২ হাজার ১৮৩ পুরুষ এবং ১ লাখ ৮১ হাজার ৯৮২ জন মহিলা। ময়মনসিংহের ১১টির মধ্যে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ আসন। এখানের নির্বাচনী তৎপরতা ও ফলাফল পুরো জেলায় অনেকটা প্রভাব ফেলে। সাবেক মন্ত্রী জাতীয় সংসদের স্পিকার শামছুল হুদা চৌধুরী একাধিকবার এ আসন থেকে সংসদ সদস্য হন। সাবেক সচিব ও বিএনপি নেতা সাবেক জ্বালানি খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী দু’বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সাবেক সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদও দু’বার নির্বাচিত হন। জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা গা-ঢাকা দেন। কেউ দেশের বাইরে পালিয়ে যান, কেউবা আত্মগোপনে চলে যান। এরপর নির্বাচনী মাঠ বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় পার্টিসহ অন্য দলগুলো মাঠ চষে বেড়াচ্ছে। আগামী নির্বাচনকে ঘিরে প্রত্যেক দলের একজন করে প্রার্থী জনসংযোগ করছেন।
সাবেক জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন ছিলেন মুক্তাগাছা আপামর জনসাধারণের একজন প্রিয় মানুষ। দলমত নির্বিশেষে এলাকার মানুষ তাকে ভালোবাসতেন। আগামী নির্বাচনে তার ছোট ভাই ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাবলুর নাম শোনা যাচ্ছে। মুক্তাগাছা বিএনপি’র নেতাকর্মীরা ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন সভা, মিটিং, মিছিলসহ সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাচ্ছেন এবং প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন। আর জামায়াত কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি আলহাজ এডভোকেট মতিউর রহমানের নাম দলীয়ভাবে ঘোষণা করেছে। দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের জনসংযোগ শুরু করেছে। মতিউর রহমান আকন্দের পক্ষে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর শহরে জনসংযোগ করতে দেখা যাচ্ছে। তিনি জানান, মুক্তাগাছার মানুষ আমাকে গ্রহণ করেছে। জাতীয় দলীয় ইস্যুতে ৫ই জানুয়ারি ও ৫ই সেপ্টেম্বর মুক্তাগাছায় যে দলীয় সমাবেশ হয়েছে ইতিপূর্বে কোনো রাজনৈতিক দল এত বড় সমাবেশ করে দেখাতে পারেনি। জাতীয় রাজনীতিতে পরিবর্তন এসেছে। মুক্তাগাছার মানুষ আমাকে গ্রহণ করেছে এবং আগামী নির্বাচনে জামায়াতের পক্ষে ভোট দিয়ে আমাকে জয়ী করবে ইনশাআল্লাহ্।
এদিকে, জাতীয় পার্টির প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদ মুক্তি। একক প্রার্থী হিসেবে তার দলের নেতাকর্মীরা জনসংযোগ করে যাচ্ছেন। জাতীয় পার্টির দ্বিধা বিভক্তি নিয়ে তার সঙ্গে কথা হয়। জানান, জাতীয় পার্টির বিভক্তি হলেও তিনি মূল দল রওশন এরশাদ ও জিএম কাদেরের সঙ্গে আছেন। আগামী সংসদ নির্বাচনে জিএম কাদেরের সঙ্গে থেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন। আরও জানান, জেলার চারটি আসনে ভালো ফলাফল বয়ে আনবে জাতীয় পার্টি। প্রার্থী দিতে পারলে বাকি আসনগুলোতেও জেতার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী পরিষদের সদস্য মুফতি হাবিবুর রহমান নির্বাচনী-প্রচারণা, মোটরসাইকেলে শোডাউনের মাধ্যমে জানান দিচ্ছেন। তার দলের নেতাকর্মীরা শহর ও ইউনিয়ন পর্যায়ে জনসংযোগ করে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী পরিষদের সদস্য মুফতি হাবিবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ইসলামী ও ভ্রাতৃত্ববোধ ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। আগামী নির্বাচনে আমরা জয়ী হলে দেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ্। অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তরের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা সিরাজুল ইসলামের নাম দলীয়ভাবে ঘোষণা করেছে। ইতিমধ্যেই তার ছবি সংবলিত পোস্টার, হ্যান্ডবিল শহর ও গ্রামপর্যায়ে দেখা যাচ্ছে। তিনি জানান, দলীয়ভাবে আমাকে প্রার্থিতা ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা কাজ করে যাচ্ছি। নির্বাচনে জয়ী হলে দেশের জনগণের স্বার্থে কাজ করে যাবো। এনসিপি’র মুক্তাগাছার সমন্বয়ক ডা. মাকাম আল মাহমুদ মুঠোফোনে জানান, আগামী নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহণ করবেন না। তার দল থেকে কোনো প্রার্থী দেয়ার সম্ভাবনা নেই।
জনতার আওয়াজ/আ আ