ময়মনসিংহ ৯ : ইতিহাস-সম্ভাবনার দিকে তাকিয়ে দলগুলো
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৫ ২:০৯ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৫ ২:০৯ পূর্বাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। পৌনে চার লাখ ভোটারের এ আসনে রাজনৈতিক দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। যা স্থানীয় রাজনীতিতে এনেছে নতুন আমেজ। বিএনপিতে মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা একাধিক। তাই দলের অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতাও বেশ। অন্যান্য দলগুলোও একক প্রার্থী নিয়ে শক্ত অবস্থান জানান দিচ্ছে। এ আসনে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও গণঅধিকার পরিষদের লড়াই হওয়ার শতভাগ সম্ভাবনা রয়েছে। আসনটির ইতিহাসে বিএনপি’র শক্ত অবস্থান। তবে অন্যান্য ইসলামী দলগুলোকেও বাঁকা করে দেখার সুযোগ নেই। বিএনপি ইতিহাস পুনরাবৃত্তির আশায় থাকলেও সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিতে চাননা অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো।
এদিকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এরপর থেকে নান্দাইলের সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। চলছে উপজেলার একটি পৌরসভাসহ ১৩টি ইউনিয়নের বিভিন্ন হাট-বাজারের চায়ের দোকানে আলোচনা, সমালোচনা ও পর্যালোচনা। বিশেষ করে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। মাঠে বিএনপি ও জামায়াতের তোড়জোড় বেশি লক্ষ্য করা গেছে। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার নিয়ে মনোনয়ন পেতে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন ছয়জন। প্রত্যেকেই নিজ নিজ অনুসারীদের নিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। তারা হলেন- ময়মনসিংহ উত্তর জেলার সদস্য ও নান্দাইল উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ইয়াসের খান চৌধুরী, সাবেক সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. একেএম শামসুল ইসলাম শামস সূর্য, উত্তর জেলা ও নান্দাইল উপজেলা বিএনপি’র সদস্য নাসের খান চৌধুরী, উত্তর জেলা সদস্য ও নান্দাইল উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক ছাত্রনেতা মামুন বিন আব্দুল মান্নান, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল আনোয়ারুল মোমেন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কাজী এরশাদুল করিম আরমান।
বিএনপি ছাড়াও অন্যান্য দলগুলো নান্দাইল আসনে নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। জামায়াতে ইসলামী জোট প্রার্থী বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) চেয়ারম্যান এডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চানকে সমর্থন দিয়েছে। এনসিপি’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আশিকিন আলম রাজন নির্বাচন করবেন। গণঅধিকার পরিষদে মাহবুবুল আলম মাহবুবকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে বলে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে দলটি। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম থেকে শায়খুল হাদীস মাওলানা ইব্রাহিম কাসেমী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুফতি শামসুল ইসলাম রহমানী দৌড়ঝাঁপ করছেন। এবার এ আসনের সব দলের প্রার্থীদের প্রায় সবাই নতুন। এর আগে কোনো নির্বাচনে প্রার্থী হননি কেউ। পোস্টার-বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে উপজেলা সদরসহ গ্রামাঞ্চল। সকল দলের প্রার্থীই নান্দাইলকে একটি আধুনিক ও মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করছেন। তাদের প্রতিশ্রুতির তালিকায় রয়েছে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন। এ ছাড়াও জুয়া, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়ার কথাও বলছেন তারা। তবে নান্দাইলের সাধারণ জনগণ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছেন। তারা আশা করছেন, এবারের নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিয়ে এলাকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারবেন। তবে নির্বাচন কবে হবে, তা নিয়ে এখনো কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। নান্দাইলের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন বেশ সরগরম এবং আগামী দিনগুলোতে নির্বাচনী উত্তাপ আরও বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
কথা হয় উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব এনামুল কাদেরের সঙ্গে। তিনি বলেন, বিএনপি বৃহৎ একটি রাজনৈতিক দল। বড় দল হিসেবে গ্রুপিং-লবিং থাকবেই। দিন শেষে আমরা সবাই একজোট। কেন্দ্র যাকে মনোনয়ন দেবে তাকে নিয়েই তারেক জিয়ার ৩১ দফা বাস্তবায়নের জন্য আমরা এগিয়ে যাবো। নান্দাইল পৌর শাখার ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম ফকিরের ভাষ্যমতে, দলের দুর্দিনে যারা মাঠে ছিলেন, হামলা-মামলা ও নির্যাতন সহ্য করে দলের পাশে ছিলেন তাদের দিকটি বিবেচনা করে দলের হাইকমান্ড তাকে মনোনয়ন দিবেন। বিএনপি’র মধ্যে বিভক্তি ও নেতাকর্মীদের দ্বন্দ্বের অবসান করতে হলে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের সম্মুখ ভাগের যোদ্ধা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম শামসুল ইসলাম শামস সূর্যকে প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
জনতার আওয়াজ/আ আ