মহাসমাবেশ ঘিরে সংঘাতের আশঙ্কা, হার্ডলাইনে পুলিশ - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৫:৪২, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

মহাসমাবেশ ঘিরে সংঘাতের আশঙ্কা, হার্ডলাইনে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৩ ৫:০৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৩ ৫:০৭ অপরাহ্ণ

 

*নেওয়া হচ্ছে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা

*মাঠে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৫ হাজার সদস্য

*মামলার আসামি-নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের নির্দেশ

*চলমান থাকবে শুরু হওয়া অভিযান

নিউজ ডেস্ক

চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সরকারি ও বেসরকারি নানা মহলে এখন একটাই আলোচনা। কি হতে যাচ্ছে ২৮ অক্টোবর। কারণ এদিন আবারও পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে একই দিনে কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দিয়েছিল জামায়াত। কিন্তু ডিএমপির তরফ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে ইসলামি এই দলটিকে কোনো ধরনের অনুমতি দেওয়া হবে না এবং নির্দেশনা অমান্য করলে কঠোর হাতে দমন করা হবে।

গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ বলছে, এ দিন জামায়াত মাঠে নামতে মরিয়া এবং কোনো ‘না’-তেই তাদের ভ্রুক্ষেপ নেই। সর্বপরি ২৮ অক্টোবর সংঘাতের আশঙ্কা প্রগাঢ়, এমনটা জানিয়ে পুলিশ সদরদপ্তর এবং ডিএমপি সূত্রগুলো এ দিন কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেই হার্ডলাইনে যাওয়ার কথা বলছে।

ডিএমপির একাধিক উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা জানান, বিএনপি প্রকাশ্যে এক দফা দাবির কথা ঘোষণা করলেও গোপনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। আর জামায়াতের কর্মকাণ্ড নিয়ে পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে এই দিনে। তাদের নেতা-কর্মীরা সহিংস হয়ে উঠতে পারেন। সংঘর্ষ ও প্রাণহানির মতো কোনো ঘটনা ঘটতে পারে। এজন্যই তারা হয়তো একই দিনে শাপলা চত্বরে মহাসমাবেশ আয়োজনের কথা বলেছিলেন। কিন্তু এই দলটি অভিযুক্ত যুদ্ধাপরাধীদের সমন্বয়ে গঠিত। এর নিবন্ধনও নেই। বাতিল হয়েছে। তাই তারা সব দিক থেকেই মরিয়া।

পুলিশের একটি গোয়েন্দা সংস্থার এক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘ঢাকা মহানগরীতে ঢোকার প্রবেশপথগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে বিএনপি, জামায়াত ও আওয়ামী লীগ নানা কৌশলে এগোচ্ছে। কেউ সরাসরি রাস্তায় অবস্থান করবে। আবার কোনো কোনো পক্ষ আশপাশে অবস্থান নেয়ার পরিকল্পনা করছেন। এ নিয়ে বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হতে পরে।’

পুলিশ সদরদপ্তরের মিডিয়া শাখার অতিরিক্ত উপকমিশনার এনামুল হক সাগর এই বিষয়ে বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের নামে কোনো পক্ষ সহিংসতার আশ্রয় নিলে জনগণের জানমাল রক্ষায় পুলিশের যা করণীয় তাই করবে।’

একই আভাস দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের আরেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও। তিনি বলেন, ‘২৮ অক্টোবরকে কেন্দ্র করে কেউ যেন কোনও ধরনের গুজব কিংবা জানমালের ক্ষতি, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটাতে না পারে, সে ব্যাপারে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক মামলাগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট থানা এলাকার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অগ্রগতি জানাতে বলা হয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, তাদের অবস্থান কোথায়, তা নিশ্চিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এরই মধ্যে আবাসিক হোটেলসহ বিভিন্ন জায়গায় পুলিশি অভিযান চালানো হচ্ছে। এছাড়া, যারা রাজধানীতে ঢুকবেন, তাদের বিষয়গুলো কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে। রাজধানীতে ঢোকার প্রতিটি মুখে চালানো হবে তল্লাশি। সন্দেহ হলেই পড়তে হবে পুলিশি জেরার মুখে। সমাবেশে অংশ নিয়ে নেতাকর্মীরা যদি অবস্থান নেন এবং রাজধানী অবরোধ করার মতো কোনও ঘটনা ঘটে, তখন পরিস্থিতি বিবেচনা করে সব ধরনের পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।’

এছাড়া, ডিএমপির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘মহাসমাবেশ ঘিরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার সুযোগ দেওয়া হবে না। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে রাজনৈতিক সমাবেশের নামে কোনো ধরনের সহিংসতা করলে কঠোর হাতে দমন করা হবে। ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে ২৮ তারিখ সমাবেশের দিন পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্তত ১৫ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবেন। সব ধরনের সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশের দাঙ্গা দমন বিভাগের সদস্যরা সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবেন। সেই সঙ্গে প্রস্তত থাকবে কাঁদানে গ্যাস, সাঁজোয়া যান, জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেডসহ অন্যান্য সরঞ্জাম। বিএনপির এ দিনের মহাসমাবেশকে ঘিরে তিন স্তরের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।’

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ