মাত্র তিন মিনিটে পার হলো উদ্বোধনের ট্রেন - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ২:৩৮, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

মাত্র তিন মিনিটে পার হলো উদ্বোধনের ট্রেন

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, মার্চ ১৮, ২০২৫ ২:৫০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, মার্চ ১৮, ২০২৫ ২:৫০ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবেশেষে যমুনা নদীর ওপর নির্মিত দেশের দীর্ঘতম ‘যমুনা রেলসেতু’ দিয়ে তিন মিনিটে পার হলো উদ্বোধনের ট্রেন। মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) দুপুর ১২টা ১৬ মিনিটে যমুনা সেতুতে ট্রেনটি উঠে পূর্ব ইব্রাহিমাবাদ স্টেশন এলাকা থেকে অপর প্রান্তে ১২টা ১৯ মিনিটে পৌঁছায় উদ্বোধনের ট্রেনটি। এতে সময় লেগেছে তিন মিনিট। ট্রেন চালক মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, আজকে ১২টা ১৬ মিনিটে যমুনা সেতুতে ট্রেনটি ওঠেন। আপরদিকে ১২টা ১৯ মিনিটে সেতু পার হয়। তিনি জানান, আজকে যে সময় লেগেছে কালকে তার চেয়েও কম সময় লাগবে। এতে করে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের রেল চলাচলের আরও সহজ হবে।

এদিকে ডাবল ট্র্যাকের সেতু উদ্বোধনে রেলযাত্রীরা খুশি। তবে সিঙ্গেল ট্র্যাকের রেললাইন হওয়ায় সেতুটির পুরোপুরি সুফল সহসাই মিলবে না।

বিষয়টি স্বীকার করে কর্তৃপক্ষ বলছে নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে ডাবল ট্র্যাক রেললাইন তৈরি করা হবে। এর ফলে যোগাযোগ, বাণিজ্য ও অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

৫০টি পিলার আর ৪৯টি স্প্যানের ওপর অত্যাধুনিক স্টিল প্রযুক্তির অবকাঠামোতে দাঁড়িয়ে থাকা ডাবল ট্র্যাকের সেতুটি শত বছরের স্থায়িত্বের অঙ্গীকারে মাথা উঁচু করে জানান দিচ্ছে বাংলাদেশর সম্ভাবনাময় অগ্রযাত্রার কথা।

যমুনা রেলসেতু উদ্বোধনে কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে যমুনা রেলসেতু পূর্ব ইব্রাহিমাবাদ স্টেশন থেকে বেলা সাড়ে ১১ টা টাঙ্গাইলের অংশে সয়দাবাদ রেল স্টেশে উদ্বোধনী করেন প্রধান অতিথি ও সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন বলেন, যমুনা রেলসেতু দিয়ে ট্রেন পারাপারে আগের তুলনায় কম সময় লাগবে। এতে দুই পাড়েই সময় সাশ্রয় হবে। ডাবল লেনের সুবিধা পেতে হলে আমাদের আরও অপেক্ষা করতে হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে চিফ ইঞ্জিনিয়ার তানভীরুল ইসলাম বলেন, রেলসেতুতে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। যার ফলে রেলসেতুতে পরবর্তীতে রং করার প্রয়োজন হবে না। ৪.৮ কিলোমিটার ডাবললাইন ডুয়েলগেজ সেতুটি দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলকে ঢাকার সাথে রেলপথের মাধ্যমে সংযুক্ত করবে।

এ বিষয়ে ইব্রাহিমাবাদ রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার শাহীন মিয়া বলেন, সেতু দিয়ে ১২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচল করতে পারবে। তবে উদ্বোধনের সময ৯০ কিলোমিটার বেগে চলে।এটি আস্তে আস্তে গতি বাড়বে। ।

২০১৬ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের নকশা প্রণয়নসহ সেতুর নির্মাণ ব্যয় প্রথমে ৯ হাজার ৭৩৪ কোটি ৭ লাখ টাকা ধরা হয়েছিল। পরে ২ বছর বাড়ানো হলে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি ৯৬ লাখ টাকা দাঁড়ায়। যার মধ্যে ২৭ দশমিক ৬০ শতাংশ দেশীয় অর্থয়ান এবং ৭২ দশমিক ৪০ শতাংশ জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ঋণ দিয়েছে।

১৯৯৮ সালে যমুনা বহুমুখী সেতু চালু হওয়ার পর ঢাকার সঙ্গে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগ স্থাপিত হয়। ২০০৮ সালে সেতুটিতে ফাটল দেখা দেওয়ায় ট্রেনের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়। সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩৮টি ট্রেন পারাপার হতো। এই সমস্যার সমাধানে সরকার যমুনা নদীর ওপর আলাদা রেলসেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।

২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি এই সেতুর নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে। ২০২১ সালের মার্চে পিলার নির্মাণের জন্য পাইলিং কাজ শুরু হয়। ৪.৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই রেল সেতু দেশের দীর্ঘতম প্রথম ডাবল ট্রাকের ডুয়েল গেজের সেতু। এটি ৫০টি পিলারের ওপর ৪৯টি স্প্যানে নির্মিত হয়েছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ