মাথায় আর পড়নে কাফনের কাপড় পরে মাঠ দখল
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, ডিসেম্বর ১৮, ২০২২ ২:৫২ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, ডিসেম্বর ১৮, ২০২২ ২:৫২ পূর্বাহ্ণ

নীলফামারীর ডিমলা সদর ইউনিয়নের পঁচারহাট এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বুড়ি তিস্তা নদী খনন কাজ করতে আসায় বাঁধা প্রদান ও মোটরসাইকেল,স্কেপেটারসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রীতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে পঁচারহাট নামক স্থানে একনেক (ক্যাট) প্রকল্পের উদ্বোধন সিমানা ও জরিপের কাজের লক্ষে অবৈধ দখল উচ্ছেদের জন্য অভিযান পরিচালনা করেন।
এ সময় নীলফামারী জেলা সহকারী কমিশনার ও এক্সিজিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ ও ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ লাইছুর রহমান সহ সঙ্গীয় ফোর্সের উপস্থিতিতে ক্যাট প্রকল্পের পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যান্ড বুড়ি তিস্তা নদীতে খনন করতে গেলে ডিমলা সদর ইউনিয়নের কুঠির ডাঙ্গা গ্রামের স্থানীয় জনগণ লাঠি, ধাঁরালো ছোরা, লোহার রড ইত্যাদি অস্ত্রে-শস্ত্রে সাজ্জিত সাদা কাফনের কাপড় পরিহিত অবস্থায় প্রশাসন ও পুলিশ ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজনের উপর অর্তকিত হামলা চালায়।
জানা গেছে, একনেকের অনুমোদনে সারাদেশে ৬৪টি জেলার অভ্যন্তরস্থ ছোট নদী, খাল এবং জলাশয় পূণঃ খননের অধীনে ক্যাট প্রকল্পের আওতায় (পাউবো)নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় ডিমলা বুড়ি তিস্তা নদী পূণঃখননে দৈর্ঘ্য ৪.৫০ কিঃমিঃ ও প্রস্থ ২.৫০ কিঃমিঃ ও ব্যারেজের খনন ৯ ফিট গভীরতায় প্রায় ৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করে একনেক সভায়। ক্যাট প্রকল্পের আওতায় দরদাতা হিসেবে কাজটি পায় স্টান্ডার ইঞ্জিয়ারিং কোম্পানী।

অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ওই সময়ে ডিমলা-জলঢাকা রোর্ডের চলাচলকারী সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হন। পরে ফায়ার সিভিল ডিফেন্সের ডিমলা ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন।
ওই সময় একটি স্কেপেটার, ৩টি বোমা মেশিন, সেলো মেশিন ২টি, মটর সাইকেল ১টিতে আগুনে দিয়ে পুড়িয়েসহ আরও ২ টি মটরসাইকেল ভাঙচুর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের একটি টিনের ঘর ভাংচুর করে। ঠিকাদারীর প্রতিষ্ঠানটির দাবি ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মমিনুর রহমান।
তিনি আরও বলেন, হামলার মূল হোতাদের খোজখবর নেওয়া হচ্ছে, তথ্য সংগ্রহ হলেই এবিষয়ে আমরা থানায় লিখিত ভাবে মামলা দায়ের করবো।
এলাকাবাসী জানান, নদী খনন নিয়ে আমাদের কোন অভিযোগ নেই, কিন্তু আমাদের আবাদি জমি খনন করতে দিব না। তারা ম্যাপের যে নদী আছে সেটা খনন করুক। তিন উপজেলার ৫ মৌজার প্রায় ৩০-৩৫ হাজার লোকজনের বসবাস এখানে আমরা কি করে খাবে, কোথায় থাকবো। পাকিস্তান আমল থেকে এখানে বসবাস করছি তার আগে বাপ-দাদারা বসবাস করতেন। তারা আমাদের কীভাবে উচ্ছেদ করে আমরা এত গুলো মানুষ কোথায় যাবো।
তারা আরও বলেন, ইতিপূর্বে জমি নিয়ে মহামান্য হাইকোর্টে দুইটি মামলা এবং নীলফামারী নিম্ন আদালতে তিনটি মামলা চলমান রয়েছে।তারা আমাদের নামে একাধিক মিথ্যা গায়েবী মামলায় কয়েকদিন আগে ২৫ জন নিরীহ খেটে খাওয়া মানুষকে নিয়ে যায়। তারা এখন জেল হাজতে রয়েছে। তার বলে যে আমাদের বাপ-দাদাদের কাছ থেকে নাকি জমি অধিকরণে মাধ্যমে নিয়েছে কিন্তু তারা উপযুক্ত কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি।
জলঢাকা পওর উপ-বিভাগ ২ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল হান্নান ব্রেকিংনিউজকে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এখানকার স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে ১৯৬৯-১৯৬৭ সালে মোট ১হাজর ২শ ১৭ একর জমি তার মধ্যে ডিমলা এলাকার তিন মৌজায় ১ হাজার ০৯ একর অধিকরণ করা হয়েছে।
ডিমলা ফায়ার সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার মোজাম্মেল হক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বেলায়েত হোসেনসহ জেলা পুলিশের ডোমার সার্কেল আলী মোহম্মাদ আব্দুল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। ঘটনাটি উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পরবর্তীতে এ বিষয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
জনতার আওয়াজ/আ আ