মাননীয় ভিসি মহোদয়গণ সমীপে - বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্ত শাসন - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১০:১২, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

মাননীয় ভিসি মহোদয়গণ সমীপে – বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্ত শাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৫ ১:১৪ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৫ ১:১৪ পূর্বাহ্ণ

 

ব্যারিস্টার রফিক আহমেদ, লন্ডন

কুয়েটে সংঘাত নিয়ে সম্প্রতি একটি টকশোতে আমি একজন ছাত্রকে বলতে শুনলাম, “রাজনীতি করা আমার সাংবিধানিক অধিকার।” এই উক্তিটি শুনে আমি কিছুটা হতবাক হলাম। কারণ, এই ছাত্রটি এতটুকুও জানেন না যে বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্ত শাসিত প্রতিষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইন ও নীতিমালা রয়েছে, যা শিক্ষার মান, পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্ত শাসনের অধীনে এটি নিজস্ব আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষমতা রাখে। কুয়েটে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করার সিদ্ধান্তটি এই ধারাবাহিকতায় নেওয়া হয়েছে। কুৎসিত রাজনীতি ও জাতীয় রাজনীতির প্রভাব থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেখানে এর ইতিবাচক প্রভাব স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।

গতকাল একটি গবেষণা সেমিনারে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলাম। সেমিনারের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল, “বাংলাদেশের ৪ বছরের অনার্স কোর্স সম্পন্ন করার পরও কেন যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনার্সের মান দেয় না?” গবেষণায় উঠে এসেছে যে, বাংলাদেশের ৪ বছরের কোর্সে পঠিত মডিউলগুলোর ক্রেডিট যুক্তরাজ্যের ৩ বছরের কোর্সের তুলনায় প্রায় ১৭০০ কম। এটি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার মান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরে। আমাদের উপমহাদেশের মধ্যে শ্রীলঙ্কা এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। তাদের শিক্ষার মান অনেক উন্নত, এমনকি যুক্তরাজ্যের চেয়েও ভালো। এই গবেষণা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

ছাত্র রাজনীতির বিরুদ্ধে আমার অবস্থান দীর্ঘদিনের। আমি বারবার লিখেছি এবং বলেছি যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শিক্ষা ও গবেষণা। বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, সেখানে ছাত্র রাজনীতির কোনো স্থান নেই। যারা ছাত্র রাজনীতির পক্ষে যুক্তি দেন, তারা প্রায়ই ১৯৬৯, ১৯৭১, ১৯৯০ এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনের উদাহরণ দেন। তারা বলেন, ছাত্ররা জাতীয় নেতৃত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আমি এ বিষয়ে বিনয়ের সাথে দ্বিমত পোষণ করি। অতীতের সকল আন্দোলনে ছাত্ররা জাতির প্রয়োজনে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশগ্রহণ করেছে। কিন্তু তাদের আন্দোলনে কোনো বিভক্তি ছিল না। ভবিষ্যতেও জাতির প্রয়োজনে ছাত্ররা জেগে উঠবে। তবে এটা মনে রাখা জরুরি যে, কোনো একক ছাত্র সংগঠন একাই সফলভাবে জাতিকে উদ্ধার করেছে, এমন কোনো নজির নেই। তাই ছাত্রদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শিক্ষা ও গবেষণা।

বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত হবে জাতীয় রাজনীতি থেকে ছাত্রদের দূরে রাখা। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইন প্রণয়ন করে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা উচিত। যদি কেউ রাজনীতি করতেই চায়, তাহলে সে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে গিয়ে তা করুক। ছাত্র রাজনীতি বন্ধে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমতের অপেক্ষা করে কোনো লাভ হবে না। এ বিষয়ে তাদের কোনো আগ্রহও নেই। ছাত্র রাজনীতির নামে শত শত ছাত্র নিহত ও নির্যাতিত হওয়ার পরও রাজনৈতিক দলগুলোর টনক নড়েনি। তারা এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

জাতিকে এগিয়ে নিতে উন্নত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশের অনেক শিক্ষক বিদেশে গিয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে জোর দেওয়া উচিত। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীদেরকে রাজনীতির পরিবর্তে জ্ঞান অর্জন ও গবেষণায় উৎসাহিত করতে হবে। এটাই হবে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার প্রকৃত উন্নয়নের পথ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্ত শাসন বজায় রাখা এবং ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে এগিয়ে নেওয়ার প্রথম পদক্ষেপ। এটি নিশ্চিত করবে যে, আমাদের শিক্ষার্থীরা একটি সুস্থ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শিক্ষা অর্জন করতে পারবে। এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ