মানুষ হৃদয়ে শেখ হাসিনার পতনের সাইরেন শুনতে পাচ্ছে: রিজভী - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১০:৫৩, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

মানুষ হৃদয়ে শেখ হাসিনার পতনের সাইরেন শুনতে পাচ্ছে: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৩ ৫:৪৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৩ ৫:৪৯ অপরাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আপনার পতনের ঘণ্টা বাংলাদেশের প্রত্যেকটি জায়গা থেকে বাজছে। মানুষ হৃদয়ের মধ্যে আপনার পতনের সাইরেন শুনতে পাচ্ছে। প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যেও স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল, ছাত্রদল, মহিলা দলের নেতাকর্মীরা কোথাও আশ্রয় নেয়নি, শেখ হাসিনা এদেরকে আটকাতে পারেনি। আপনাদের সাহস, মনোবলের কারণে শেখ হাসিনা আর বেশিদিন ফ্যাসিবাদ চালাতে পারবে না।

রবিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং বিদেশে তার উন্নত চিকিৎসার দাবিতে এই প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সরকারের কঠোর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, রোহিঙ্গাদের সবচেয়ে বেশি সহায়তা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট। করোনার সময় টিকা দিয়ে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করেছে তারা। যে কয়টা দেশ বাংলাদেশকে সহায়তা করেছে তার এক নাম্বারে রয়েছে এই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলে, বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে কথা বলে তখন শেখ হাসিনার ঘুম হারাম হয়ে যায়।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কিছু বুদ্ধিজীবীরা বলে বিদেশিরা দেশের মানবাধিকার নিয়ে কথা বলতে পারেন কিন্তু রাজনৈতিক চাপ দেওয়া যাবে না। আমি তাদের উদ্দেশে বলতে চাই রাজনৈতিক সমস্যাই তো বড় সমস্যা। যে সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন দেয় না, গুম খুন করে রাতে নির্বাচন করে তার বিরুদ্ধে কি কথা বলা যাবে না।

গতকাল যুক্তরাষ্ট্রে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, এতদিন আপনি বলেছেন আমার কোন টাকা পয়সা নেই। এখন বলছেন, আমেরিকায় জয়ের সম্পদ আছে, ঘরবাড়ি আছে। কত টাকা পয়সা আছে? এটা কিন্তু বলেনি। এটা জনগণ জানতে চায়। এতদিন পর আপনার মুখ থেকে কথা বের হলো। আপনার কত টাকা আছে এটা মানুষ জানতে চায়। মানুষ খেতে পারে না। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনতে পারে না,একটা ডিম কিনতে পারে না। বাজারে গেলে মানুষের চোখ দিয়ে পানি ঝরে। আর আপনি নিজের ১৬৭ জন লোককে বিমানে করে নিয়ে গেছেন। সুতরাং জনগণের টাকা, দেশের টাকা আপনি অবৈধভাবে ব্যবহার করছেন। এর বিচার কিন্তু একদিন হবে।

হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, আপনি দেশনেত্রীকে বন্দি করবেন। তাকে সুচিকিৎসা করতে দিবেন না। নেতাকর্মীদেরকে বন্দি করবেন এটা আর হতে দেওয়া হবে না। এখন আপনার পতনের ঘণ্টা বাংলাদেশের প্রত্যেকটি জায়গা থেকে বাঁচছে। আপনার পতনের সাইরেন মানুষের হৃদয়ে বাজছে।

এ সময় রিজভী কারাবন্দি বিএনপি নেতা রফিকুল আলম মজনু এবং রাজশাহী জেলা বিএনপির সভাপতি আবু সাঈদ চাঁদকে কারাগারে হয়রানিমূলক মামলায় নিপীড়ন নির্যাতন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।

সমাবেশে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালামের সভাপতিত্ব করেন। উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম এবং দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লিটন মাহমুদের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সমাবেশে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু শামসুজ্জামান দুদু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রোববার বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত এক সমাবেশে এ আহ্বান জানান তিনি। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কোনোভাবেই আপস করবেন না। তাই দায়িত্ব নিয়ে দেশের বাইরে তার চিকিৎসা করান। না করলে দেশের মানুষের মুখোমুখি হতে হবে। সময় থাকতে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। সেই উদ্যোগ আপনাদের নিতে হবে। সময় নষ্ট করবেন না। দেশের প্রত্যেকটা মানুষ ঘণ্টা ও দিন গুনছে কখন বেগম জিয়া চিকিৎসার জন্য বাইরে যাবেন।

তাই সময় নষ্ট করবেন না। বিদায় হওয়ার আগে একটা ভালো কিছু করে যান। বেগম জিয়াকে মুক্তি দিন।
সমাবেশে সাবেক ও বর্তমান আমলাদের মিটিংয়ের কথা উল্লেখ করে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, মিটিংয়ে তারা বলছেন- আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে হবে। আর বিভিন্ন কুঞ্জে কুঞ্জে বর্তমান আমলা ও পুলিশরা মিটিং করছেন। বলছেন, খুন করে হলেও বিএনপির আন্দোলনকে দমন করতে হবে। বিশঙ্খলা ঠেকানোর জন্য বলছেন। কিন্তু আমরা বিএনপি বিশৃঙ্খলা করি না।

স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৌলিক অধিকার চিকিৎসা পাওয়া। কিন্তু তিনি চিকিৎসা পান না। তিনি জামিন পাওয়ার যোগ্য। এ ধরনের মামলায় দৃষ্টান্ত হাজার হাজার আছে। কিন্তু তিনি জামিন পান না। এটার জবাব আজ হোক কাল হোক তাদেরকে দিতেই হবে।

নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এখন থেকে আমাদের আন্দোলন ডু অর ডাই। এর মাঝামাঝি আর ঠাঁই নাই। গণতন্ত্রকে উদ্ধার করতে হবে। এখন থেকে পিছু হটার সময় নেই। পিছনে জায়গা নাই। সামনে যেতে হবে। গুলি খেতে হবে। মরতে হয় মরতে হবে। ফ্যাসিস্ট সরকারকে দেশ থেকে হঠাতে হবে। না হলে দেশ বাঁচবে না। এখন থেকে প্রধানমন্ত্রীর বাসা ঘেরাও করতে পারি বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন গয়েশ্বর রায়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান বলেন, বেগম জিয়াকে এই সরকার ভয় পায়। তার কি অপরাধ? তার অপরাধ দেশের মানুষ তাকে ভালোবাসে এবং তিনি গণতন্ত্রকে ভালোবাসেন এবং গণতন্ত্রের কথা বলেন। কি অপরাধ, তিনি যতবার নির্বাচন করেছেন ততবারই নির্বাচিত হয়েছে। এই অবস্থায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে বিএনপিকে ধ্বংস করতে চায়। সেই কারণে তারা মনে করছে, বেগম জিয়াকে আটক করে রাখলে বিএনপিকে ধ্বংস করা যাবে। কিন্তু এটা সম্ভব নয়।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ