মামলা জট সহনশীল মাত্রায় আনতে বিচার বিভাগ কাজ করছে : প্রধান বিচারপতি - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১০:১১, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

মামলা জট সহনশীল মাত্রায় আনতে বিচার বিভাগ কাজ করছে : প্রধান বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, জুলাই ৮, ২০২৩ ২:১৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, জুলাই ৮, ২০২৩ ২:১৮ অপরাহ্ণ

 

পাবনা প্রতিনিধি

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে মামলা জট সহনশীল মাত্রায় আনার পরিকল্পনায় বিচার বিভাগ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। শনিবার (৮ জুলাই) সকালে পাবনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে বিচার প্রার্থীদের বিশ্রামাগার ন্যায় কুঞ্জের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচার বিভাগ দূর্বল হলে রাষ্ট্রকে কখনোই শক্তিশালী বলা যাবে না। তাই জনগণ যাতে সহজে স্বল্প সময় ও খরচে ন্যায় বিচার পায় তা নিশ্চিত করতে আমরা চেষ্টা করছি। বিচার বিভাগকে গতিশীল করে দ্রুততম সময়ে বিচার প্রক্রিয়া শেষ করতে বিচারকদের তাগিদ দেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মামলাজটের কারণে বিচারপ্রার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েন উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, স্বল্প সময়ে স্বল্প খরচে মানুষ যেন ন্যায়বিচার পান, তার ব্যবস্থা করা।’

হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী আরও বলেন, আদালত প্রাঙ্গণে বড় বড় ভবন থাকলে বিচারপ্রার্থীরা এসে স্বস্তিতে বসবেন, এ রকম ব্যবস্থা সারা দেশে কোনো আদালতে নেই। অথচ তাঁদের জন্যই এই আদালত এবং বিচারব্যবস্থা। দূরদূরান্ত গ্রামাঞ্চল থেকে পুরুষদের সঙ্গে নারী বিচারপ্রার্থীরাও আদালতে আসেন। সারা দেশে প্রায় ৪০ লাখ মামলা বিচারাধীন। বাদী ও বিবাদী মিলিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ লোককে আদালত প্রাঙ্গণে আসতে হয়। তাঁরা যেন স্বস্তিতে বসে পানি পান করতে পারেন, শৌচাগার ব্যবহার করতে পারেন এ রকম কোনো ব্যবস্থা নেই।

সরকার ন্যায়কুঞ্জ প্রতিষ্ঠার জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন। আমরা জেলা শহরগুলিতে ৫০ লাখ টাকা করে ন্যায়কুঞ্জ প্রতিষ্ঠায় বরাদ্দ দিচ্ছি। সেখানে পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক শৌচাগার ও বসার জন্য ৫০ থেকে ৭০টি চেয়ারের ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি খাবার ও নিত্য পণ্যের দোকানও থাকবে।

বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়েছে মন্তব্য করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বাংলাদেশে আর্থিক সংগতি বেড়েছে। দেশ সমৃদ্ধির দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে। এই গতিশীল রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে সংগতি রেখে আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে জুডিশিয়াল ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এ পদক্ষেপের অংশ হিসেবে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর একটি হচ্ছে ন্যায়কুঞ্জ।’

আইনজীবী ও তাঁদের সহকারীরা বিচারকাজে বিচারকদের সহায়তা করলে মামলজট সহনীয় পর্যায়ে আনা যাবে উল্লেখ করে হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, মামলা ডিসপোজালের হার বেড়েছে। এই ডিসপোজাল রেট যদি ১২৫ শতাংশে উন্নীত করা যায় তাহলে আগামী পাঁচ বছরেরই মধ্যেই মামলা জট নিরসন হবে।

পরে, প্রধান বিচারপতি ফয়েজ আহমেদ পাবনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে বকুল ফুলের চারা রোপণ করেন ও জাদুঘর পরিদর্শন করেন। দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতির মতবিনিময় সভায় যোগ দেন তিনি। সেখানে আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, কঠোর পরিশ্রম, সততা, নিষ্ঠা, দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার সঙ্গে পেশাগত কাজ করতে হবে। সততাকে ধর্মের মতো ধারণ করতে হবে। সেই সঙ্গে বিচারপ্রার্থী মানুষের সঙ্গে মানবিক আচরণ করার জন্য আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পাবনা সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ বেগম শামীম আহমেদসহ বিচারক ও আইনজীবী সমিতির সভাপতি আখতারুজ্জামান মুক্তা, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আহাদ বাবু উপস্থিত ছিলেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ