মায়ের সঙ্গে ফোনালাপ ধরিয়ে দিল খুনীকে! - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১০:৪৩, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

মায়ের সঙ্গে ফোনালাপ ধরিয়ে দিল খুনীকে!

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, জানুয়ারি ২৯, ২০২৩ ৯:১৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, জানুয়ারি ২৯, ২০২৩ ৯:১৮ অপরাহ্ণ

 

নেহাৎ মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে রিকশাচালক রুবেল রক্তাক্ত-ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় তাকে নিয়ে এসেছিলেন হাসপাতালে। সেখানে মৃত্যু হয় খলু মিয়া ওরফে খলিলের। ২৮ বছর বয়েসী রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ঘগোয়া গ্রামের বাচ্চা মিয়ার ছেলে আট মাস বয়সী ফুটফুটে একটি কন্যাসন্তানের জনক খলিল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার রূপসীতে থাকতেন, অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন বাসার কাছেই একটি গার্মেন্টস কারখানায়।

গেল ২২ জানুয়ারি দিবাগত মধ্যরাতে রংপুর থেকে ঢাকায় যাত্রাবাড়ীতে বাস থেকে নামার পরপরই ছিনতাইকারীর ছুড়িতে আক্রান্ত হন। পুলিশ খলিলের মৃত্যুর পেছনে দায়ী ব্যাক্তিকে গ্রেপ্তার ও রহস্য উদঘাটন করেছে।

খলিলের মৃত্যুর পর পুলিশ প্লেস অফ অকারেন্স (ঘটনাস্থল) পর্যবেক্ষণ করে। এরপর সেই জায়গার সিসিটিভি ফুটেজে তারা দেখতে পান, খলিল গোলাপবাগ থেকে পাঁয়ে হেঁটে ধলপুর কমিউনিটি সেন্টারের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় অজ্ঞাতনামা কয়েকজন তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়।

প্রাথমিক অবস্থায় কোন কূল-কিনারা না মিললেও, হত্যাকাণ্ডটির জট খুলতে শুরু করে, ঘটনার ৪ দিন পর, ২৬ জানুয়ারি, একটি ছিনতাই মামলায় পেশাদার ছিনতাইকারী আরিফকে মীরহাজিরবাগে তার বাসা থেকে গ্রেফতার করার পর। গ্রেপ্তার আরিফ কারাগারে প্রেরিত হওয়ার পর তার মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় জানায়, তাঁর নামে আগের অন্য মামলায় এরেস্ট ওয়ারেন্ট জারি হওয়ায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আরিফের এই বক্তব্যটি পুলিশের মনে সন্দেহের সৃষ্টি করে। পরে তাঁকে খলিল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর আবেদনের প্রেক্ষিতে আরিফের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ডে এসে জিজ্ঞাসাবাদে আরিফ, খলিলকে খুনের দায় স্বীকার করে। তাঁর কাছ থেকে খলিলের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার হয়। আরিফ জানায়, ‘একাধিক ছিনতাই মামলায় আমার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ছিল। খলিল হত্যার পর পুলিশি তৎপরতা দেখে নিজেকে বাঁচাতে আগের ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার হতে আমি বাসায় অবস্থান করছিলাম।’

রবিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের সামনে এই তথ্যসমূহ তুলে ধরেন মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার।

তিনি আরও বলেন, আরিফ তার স্বীকারোক্তিতে আরও জানিয়েছে যে, ঘটনার দিন আরিফ তার কয়েকজন সহযোগীসহ ধলপুর নতুন রাস্তায় একটি ব্যাটারির দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। খলিল সেই সময় সেখান দিয়ে হেটে যাওয়ার সময় তার রাস্তা রোধ করে আরিফ। পরে খলিলের গলায় ছুড়ি ধরে আরিফ। কিন্তু সাহসী খলিল তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করে। এরই একপর্যায়ে খলিলের বুকে-পেটে উপর্যপুরি ছুরিকাঘাত করে তার মোবাইল ও মানিব্যাগ নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায় আরিফ ও তার সহযোগীরা।

হাফিজ আক্তার বলেন, শুধুমাত্র আরিফের সঙ্গে তার মায়ের ফোনালাপের সূত্রেই বেরিয়ে এসেছে খলিল হত্যাকাণ্ডের রহস্য। এরই মধ্যে সে তার সহযোগীদের নাম-ঠিকানাও জানিয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ