মিডফোর্ড হাসপাতালের সামনে যা ঘটেছে — আমাদের সমাজের এক নির্মম প্রতিচ্ছবি - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১০:০৯, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

মিডফোর্ড হাসপাতালের সামনে যা ঘটেছে — আমাদের সমাজের এক নির্মম প্রতিচ্ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, জুলাই ১২, ২০২৫ ১:৪৯ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, জুলাই ১২, ২০২৫ ১:৪৯ পূর্বাহ্ণ

 

র‍্যারিস্টার রফিক আহমেদ, সমাজ চিন্তক

মিডফোর্ড হাসপাতালের সামনে যা ঘটেছে, তা কেবল একটি ঘটনা নয়—এটা এক জাতির বিবেকহীনতার নির্লজ্জ স্বীকারোক্তি। ভিডিওটি আমরা সবাই দেখেছি। দেখেছি কীভাবে একজন মানুষকে বর্বরভাবে মারা হয়েছে, আর আশেপাশের মানুষ—নীরব দর্শক। কেউ এগিয়ে যায়নি, কেউ প্রশ্ন করেনি, কেউ প্রতিবাদও করেনি।

আমরা সাধারণ জনগণ, যখন আওয়ামী লীগ অপকর্ম করেছে, তখন চেয়ে চেয়ে দেখেছি। ভেবেছি, ‘আমার সাথে তো কিছু হচ্ছে না’। এই নিষ্ক্রিয়তা, এই সুবিধাবাদী নীরবতাই আজ আমাদের সর্বনাশের পথ খুলে দিয়েছে। যখন সেই অপকর্মের থাবা এসে নিজের ওপর পড়ে, তখন প্রতিবাদ করতে শিখি। কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে যায়।

ঠিক একই ভুল আমরা এখন বিএনপির বেলায় করছি। এই দলে যারা আজ বড় মুখ করে ন্যায়ের বুলি আওড়ায়, তারা ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়েই অনেক অমানবিক ঘটনার জন্ম দিয়েছে। আজ তারা আবার সেই পুরনো ছায়া ফিরিয়ে আনতে চাইছে। জনতার ভেতরে ভয় আর হতাশা গেঁথে দিয়ে তারা মনে করছে, তারা ক্ষমতায় চলে গেছে।

নেতা যদি অপরাধ করে, তাকে বহিষ্কার করলেই দায় শেষ হয়ে যায়? তা হলে প্রশ্ন আসে—এই নেতার ক্ষমতা কে দিয়েছে? তার মাথায় ‘দম্ভ’ কে ঢুকিয়েছে? দলই তো! অথচ দল পরে বলবে, “ব্যক্তিগত অপরাধ!”

দল চালাবে, নিয়ন্ত্রণ করবে, ক্ষমতার সব সুবিধা ভোগ করবে—
আর নেতা অপরাধ করলে বলবে, “এটা তার ব্যক্তিগত বিষয়”!

এটাই আজকের তথাকথিত “দলীয় নৈতিকতা”।

একজনকে বলি দিয়ে পুরো সংগঠনের মুখ রক্ষা করা যায় না। এটা বিচার নয়, দায় এড়ানোর এক নাটকীয় কৌশল।

মিডফোর্ডের সেই মর্মান্তিক ঘটনার ভিডিও দেখে মন শিউরে ওঠে। কীভাবে একজন মানুষ এমন নিষ্ঠুরভাবে পেটানো যায়? কীভাবে কেউ এগিয়ে আসেনা? কোথায় গেল আমাদের মানবতা, আমাদের ন্যায়বোধ? আমরা কি সবাই পাথর হয়ে গেছি?

এটা শুধুমাত্র একটি হত্যাকাণ্ড নয়—এটা আমাদের বিবেকের ওপর করা নির্মম আঘাত। যারা এই কাজ করেছে, তারা তো অপরাধী বটেই, কিন্তু যারা নীরব থেকেছে, যারা পাশ কাটিয়ে চলে গেছে—তাদের দায়ও কিছু কম নয়।

আমরা যদি এখনই জেগে না উঠি, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ আরো অন্ধকার। বিএনপি বা আওয়ামী লীগ—দুটি দলের অপরাধই সমান জঘন্য। একটির অপরাধ ঢাকতে গিয়ে অন্যটির অপকর্ম প্রশ্রয় দিলে চলবে না।

আমাদের সামনে এখন দু’টি রাস্তা—
১. নীরব থেকে অপেক্ষা করা, কখন নিজে ভুক্তভোগী হবো।
২. এখনই জেগে উঠে প্রতিবাদ গড়ে তোলা, যেকোনো অপরাধী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে।

বাংলাদেশের মানুষ যদি এখনই ‘দলের মুখ’ না দেখে ‘মানবতার মুখ’ দেখে রুখে না দাঁড়ায়, তাহলে আগামীদিনে এমন ভয়াবহ দৃশ্য আমাদের জীবনের অংশ হয়ে উঠবে।

এই লেখাটা শুধু প্রতিবাদের নয়—এটা আপনার, আমার, আমাদের বিবেকের ডাক। এখনই সময়—সত্যকে বলতে শিখি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে শিখি। নয়তো, ইতিহাস আমাদেরও ক্ষমা করবে না।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ