মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রচেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৭:১০, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রচেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, জানুয়ারি ২৫, ২০২৩ ৭:২৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, জানুয়ারি ২৫, ২০২৩ ৭:২৭ অপরাহ্ণ

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ইতিহাস বিকৃতকারীর বিচার করতে গেলে কাকে রেখে কাকে করব। ৯৬’র আগে অনেকে সঠিক ইতিহাস জানার পরও বিকৃত করেছে। তবে স্বাধীনতার ইতিহাস আর কেউ বিকৃত করতে পারবে না, সম্ভবও না। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যেন ঠিক থাকে সেই চেষ্টা করা হবে।’

তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে সংগঠিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য মার্কিন কংগ্রেসম্যানদের উত্থাপিত প্রস্তাবটি প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটিতে রয়েছে। প্রস্তাবটি যাতে বিবেচিত হয় সে জন্য বাংলাদেশ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বুধবার (২৫ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্ন উত্তরে আওয়ামী লীগের সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহর লিখিত প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা জানান। এ সময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দিতে চায়নি বিএনপি। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর মুক্তিযোদ্ধাদের সার্টিফিকেট বাতিল করে দেয়। এমনকি ‘৭৫ সালের পর এমন একটা সময় বাংলাদেশে গেছে যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছে সেই কথাটা বলতেও মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত ছিল। কারণ মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের একে একে হত্যা করা হয়।

তিনি বলেন, যারা চাকরি করত তাদেরকে চাকরি থেকে বিতাড়িত করেছে। এমনকি কেউ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হলেও তারা চাকরি পেত না। এমন একটা ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল। সাথে সাথে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসও বিকৃত করেছিল। এটা ছিল সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ, যে যুদ্ধ ৪৮ সাল থেকে সংগ্রামের মধ্যদিয়ে আমরা জাতির পিতার নেতৃত্বে বিজয় অর্জন করেছি সেই ইতিহাসটাই মুছে ফেলা হয়।

তিনি আরও বলেন, আমরা সরকার গঠনের পর থেকেই মহান মুক্তিযুদ্ধে সংঘঠিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের লক্ষ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে নানান পদক্ষেপ চালিয়েছি। এরই ফলশ্রুতিতে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশে চালানো হত্যাযজ্ঞকে পণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য গত বছরের ১৪ অক্টোবর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) একটি প্রস্তাব আনা হয়েছে। প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছেন ওহিও অঙ্গরাজ্যের কংগ্রেসম্যান স্টিভ চ্যাট এবং ক্যালিফোর্নিয়ার কংগ্রেসম্যান রো খান্না। পরে কো-স্পন্সর হিসেবে যোগ দিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যাটি পোর্টার এবং নিউজার্সির ট ম্যালিনোস্কি।

শেখ হাসিনা বলেন, কংগ্রেসম্যানদের উত্থাপিত প্রস্তাবটি বিবেচনার জন্য প্রতিনিধি পরিষদ পররাষ্ট্র -বিষয়ক কমিটির কাছে পাঠিয়েছে। প্রস্তাবটি যাতে বিবেচিত হয় সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ ঐকান্তিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন আইন প্রণেতাদের উত্থাপিত এই প্রস্তাবটি বর্তমান সরকারের কূটনৈতিক সফলতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এ প্রস্তাবের মাধ্যমে শুধু বাংলাদেশ রাষ্ট্রকেই নয়, বরং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় অগণিত মানুষের আত্মত্যাগ বিশেষত মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের ও বীরাঙ্গনা মা-বোনদের সম্মানিত করা হয়েছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ