মুজিব কোট ছাড়লেই কেউ বিএনপি হয় না: ড. আসাদুজ্জামান রিপন - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ২:১৬, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

মুজিব কোট ছাড়লেই কেউ বিএনপি হয় না: ড. আসাদুজ্জামান রিপন

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, নভেম্বর ১৭, ২০২৫ ১১:১২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, নভেম্বর ১৭, ২০২৫ ১১:১২ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেছেন, মুজিব কোট ছাড়লেই কেউ বিএনপি হয়ে যায় না। যারা আওয়ামী লীগের হয়ে অত্যাচার করেছে, তাদের পুনর্বাসনের দরকার নেই। বিএনপির কর্মীর অভাব নেই। অবশ্যই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে— মানুষকে অত্যাচার করার জন্য এবং ‘খুনের রানী’কে সমর্থন দেওয়ার জন্য। আজ আওয়ামী লীগ আর আওয়ামী লীগ নেই—এটা এখন ‘পলাতক লীগ’।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার ঢাকা–মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পদ্মা থানার পশ্চিমে মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের সর্বোচ্চ সাজা দাবিতে অনুষ্ঠিত নাগরিক জমায়েত সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, “আজ ১৭ নভেম্বর—বাংলাদেশের মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচারের জন্য যে আন্তর্জাতিক আদালত ও ট্রাইব্যুনাল রয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের ১৫ বছরের জনগণের কাঁধে চেপে বসা এক অবৈধ স্বৈরাচার, অবৈধ প্রধানমন্ত্রী—যিনি জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছেন, গুম-খুনসহ অসংখ্য অভিযোগের মুখোমুখি—তার বিচার চলছে। আমরা আশা করি, এই বিচারের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। আমরা চাই ন্যায়সঙ্গত বিচার হোক এবং তার অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা হোক।”

তিনি আরও বলেন, “গত বহু বছর ধরে তিনি বিরোধীদের ওপর গুম, হত্যা ও নির্যাতনের মাধ্যমে নিজের শাসনকে পাকাপোক্ত করেছেন। আমার সহযোদ্ধা ইলিয়াস আলীকেও গুম করা হয়েছিল। যারা তার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন—তাদের অনেককে হত্যা, গুম ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। অনেকেই পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারেননি।

এই ‘খুনের রানী’, জনগণের ক্ষমতা হরণকারী ব্যক্তি ১৫ বছর দেশকে শাসন ও শোষণ করেছেন। নির্বিচারে লুটপাট করেছেন, দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চাপিয়ে দিয়েছেন।”

তিনি বলেন, ‘তার নির্দেশেই পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনী ব্যবহার করে বিরোধীদের দমন করা হয়েছে। ফলে দেশের মানুষ অবশেষে ১৫ বছর পর তাকে ক্ষমতা থেকে নামিয়েছে। তিনি গর্ব করে বলতেন—‘শেখের বেটি পালায় না’, কিন্তু এখন তিনি বিদেশে পালিয়ে আছেন।’

ড. রিপন বলেন, “আমাকেও নির্যাতন করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে ৩৭টির বেশি মামলা দেওয়া হয়েছিল। আমি যখন হাসপাতালে অক্সিজেন নিয়ে শ্বাস নিতে কষ্ট পাচ্ছিলাম, তখনও আমাকে হুইলচেয়ারে করে আদালতে নেওয়া হয়েছিল। আমার আইনজীবী বলেছিলেন আমি গুরুতর অসুস্থ—তবুও তিনি রেহাই দেননি। অপারেশনের আট দিনের মাথায় আমাকে আদালতে দাঁড় করানো হয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, ‘আমার মতো অসংখ্য মানুষ এভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। যে গোপালগঞ্জের বিচারক আমাকে এমন অবস্থায় জেলে পাঠিয়েছিলেন—পরবর্তীতে তাকেই পুরস্কার হিসেবে হাইকোর্টের বিচারপতি বানানো হয়েছে। এমন অবিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

তিনি বলেন, ‘আজ পদ্মা সেতুর উত্তর প্রান্তে আমাদের মতো মজলুম মানুষরা তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। যারা তার সময় কোনো ত্যাগ করেনি, সুবিধা-সুযোগ ভোগ করেছে—তারা আজ রাজপথে নেই। অথচ যারা নির্যাতিত হয়েছে—তারাই ন্যায়বিচারের জন্য রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সন্ত্রাসী আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, হত্যা ও মামলা করেছে—তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দল ভারী করার জন্য এসব সন্ত্রাসী, লুটেরা, মাদক ব্যবসায়ীদের বিএনপিতে আনার কোনো প্রয়োজন নেই। যারা জনগণের ঘৃণার পাত্র—তাদের দলে রাখা উচিত নয়।’

ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, “আমাদের দেশের এমপিরা একবার এমপি হলেই এলাকায় থাকে না। শহরে থাকে, আর এলাকায় এলেও শুধু প্রধান অতিথি হয়ে আসে। আমরা অতিথি এমপি চাই না—আমরা চাই এলাকার সন্তান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী এমপি। এমপি এলাকায় থাকলে উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও, ওসি—সবারই এলাকায় থাকা নিশ্চিত হবে। এতে ঘুষ–দুর্নীতি কমবে, আইনশৃঙ্খলা ভালো থাকবে, উন্নয়ন সঠিকভাবে হবে। হাসপাতাল, স্কুল, রাস্তা—সবকিছু সঠিকভাবে তদারকি করা যাবে।”

তিনি বলেন, ‘মানুষ যে পরিবর্তনের জন্য ৫ আগস্ট আন্দোলন করেছে—তার প্রতিফলন আগামী নির্বাচনে দেখতে চাই। আমরা এমন সরকার চাই, যাকে আমরা বলতে পারি—এটাই আমাদের সরকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইমাম না থাকলে মসজিদের কাজ চলে না, ওসির কাজ চৌকিদার করতে পারে না। যার কাজ তারই করতে হবে। তাই আমি নিজে মানুষের মাঝে থাকি—সহযোগী পাঠিয়ে দায়িত্ব এড়াই না। আমি সারা জীবন মানুষের জন্য রাজনীতি করেছি—নিজের সুবিধার জন্য নয়। আমরা ভালো থাকলে দেশও ভালো থাকবে।’

সভায় উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান খান, লৌহজং উপজেলা বিএনপি নেতা মোসারফ হোসেন নসু, লৌহজং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য শেখ জাহাঙ্গীর আলম, বর্ষীয়ান বিএনপি নেতা আব্দুর রহমান শেখ, সরকারি লৌহজং বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব দেওয়ান জহির আমিন প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ