মুন্সীগঞ্জের বিএনপি নেতা রতন শোন-অ্যারেস্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, নভেম্বর ২২, ২০২২ ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, নভেম্বর ২২, ২০২২ ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ

কারাগারে অন্তরীণ মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব কামরুজ্জামান রতন হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও অপর একটি মামলায় শোন-অ্যারেস্ট দেখিয়ে কারাগারে রাখা হলো। মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুরে পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষ ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় কামরুজ্জামান রতনকে ১ নং আসামী করে মামলা করলে রতন হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়ে ৮ নভেম্বর জেলা জজ আদালতে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত তাকে জামিন না-মঞ্জুর করে জেলা কারাগারে প্রেরণ করেন।
এদিকে পুলিশ ৮ দিনপর কামরুজ্জামান রতনকে শ্রমিক লীগ নেতা আবদুল বাতেনের করা একটি মামলায় শোন-অ্যারেস্ট দেখায়। যে মামলায় কামরুজ্জামান রতন আসামী ছিলেন না।
গত ২১ সেপ্টেম্বর বিকাল তিনটার দিকে জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ এবং ভোলা ও নারায়ণগঞ্জে বিএনপির তিন নেতা-কর্মী হত্যার বিচারের দাবিতে মুন্সীগঞ্জ শহরের মুক্তারপুর এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজন করে সদর উপজেলা বিএনপি। সেখানে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় বিএনপির নেতা-কর্মী, সাংবাদিক ও পুলিশ সদস্যসহ প্রায় ৮০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে মুক্তারপুর ওয়ার্ড যুবদলের কর্মী শহিদুল ইসলাম শাওন (২২) মারা যান।
পরে গত ২২ সেপ্টেম্বর মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় দলটির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলা করা হয়। মামলা দুটিতে ১ হাজার ৩৬৫ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে বিএনপির নেতা-কর্মী ও অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি আছেন। পরে এসব মামলায় ২৬ জনকে গ্রেফতার করে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, একটি মামলায় মুন্সীগঞ্জ সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাইনউদ্দিন বাদী হয়ে সরকারি অস্ত্র-গুলি লুট ও মোটরসাইকেল পোড়ানোর অভিযোগে ৩১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত পরিচয় ৭০০ থেকে ৮০০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়।
এদিকে মুক্তারপুরে শ্রমিক লীগের কার্যালয় ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ ও মারধর করে গুরুতর জখম করার অভিযোগে মামলা করেন মুক্তারপুর বাগবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ও শ্রমিক লীগের নেতা আবদুল মালেক। এ মামলায় সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহম্মেদকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। মামলায় ৫২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়। এ মামলায় দুজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
এ ঘটনায় বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমেদ টিটু, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদসহ ১১১ জন আসামীর আগাম জামিন মঞ্জুর করেছেন মুন্সীগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত। একই দিন আদালত জেলা বিএনপির সদস্য সচিব কামরুজ্জামান রতনসহ ৯ জনের জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। বুধবার মুন্সীগঞ্জ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আমজাদ হোসেন এ আদেশ দেন।
গত ৮ নভেম্বর মোট ৩৬৫ জন আসামী সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিনের আবেদন করেন। বিজ্ঞ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আমজাদ হোসেন মামলার জামিন শুনানীর দিন ধার্য করেন। দুইটি মামলায় আসামী ছিলো ৩৬৫ জন। হাইকোর্ট থেকে ৬ সাপ্তাহের আগাম জামিনে থাকা ১২০ জন আসামীর জামিন শুনানী শেষে ১১১ জন আসামীর জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব কামরুজ্জামান রতন এবং অপর ৮ আসামীর কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় তাদের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন আদালত। মামলায় বাকি আসামীর জামিন শুনানীর দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ১৩ নভেম্বর।
গত ২ অক্টোবর ও ২৮ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আসামীদের ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ