মেয়েকে হাত-পা বেঁধে নদীতে ফেলে দিতে চেয়েছিল
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, জুন ১৮, ২০২৩ ১০:১১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, জুন ১৮, ২০২৩ ১০:১১ অপরাহ্ণ

বুধবার, জুন ১৪, ২০২৩, রাতে, চট্টগ্রামের কাজির দেউড়িতে তারুণ্যের সমাবেশ থেকে বাড়ি ফেরার পথে চট্টগ্রামের মীরেরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার ইছাখালী শাহাজী বাজার এলাকায়, রাত নয়টার দিকে ছাত্রদল নেত্রী নাদিয়া নুসরাতকে সিএনজি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। প্রায় ৩-৪ ঘণ্টা তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। সেখানে নির্যাতনের খবর পেয়ে নুসরাতের মা কহিনুর বেগম ছুটে গেলে তাকেও বেধড়ক মারধর করা হয়।
ইছাখালীর ইউপি চেয়ারম্যান মো. নুরল মোস্তফার ছেলের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এই বর্বরতা চালায়। ওই সময় নাদিয়াকে মারধরের পাশাপাশি হাত-পা বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়েছে।
মধ্যরাতে নুসরাতকে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে নির্যাতনকারী ছাত্রলীগের লোকজন।
জোরারগঞ্জ থানার ওসি জাহিদ হোসেন ও ডিউটি অফিসার সঞ্জয় কুমার সাহা তার অভিযোগ গ্রহণ না করে উল্টো নাদিয়া নুসরাতের বিরুদ্ধে ২০২২ সালের একটি গায়েবী মামলায় তাকে জড়িত করে। জোরারগঞ্জ থানার মামলা নং-৩ (১২) ২২, জিআর নং-২০৭/২২, ধারা-১৪৩/৩০৭/৩২৫ এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫ (৩) ও বিষ্ফোরক দ্রব্য আইনে ৩/৪ ধারায় গ্রেফতার করা হয়।
নাদিয়া নুসরাত মিরসরাই ১০ নম্বর মিঠানালা ইউনিয়নের মৃত আলী আকবরের মেয়ে। তিনি মিরসরাই ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও উপজেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রচার সম্পাদক। ওই দিন চট্টগ্রামের কাজির দেউড়ি মোড়ে বিএনপির তিন সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে তারুণ্যের সমাবেশ হয়। সেই সমাবেশ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। ফেরার পথে তার সঙ্গে আসা দলীয় কর্মীদের বাড়ি পৌঁছে দিতে ইছাখালী যান তিনি। সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাড়ি ফেরার পথে শাহাজী বাজার এলাকায় গাড়ি আটকে তাকে তুলে নেয়া হয়।
নাদিয়া নুসরাতের মা কোহিনূর বেগম বলেন, ‘রাত ১১টার দিকে নাদিয়াকে তুলে নিয়ে যায়। আমরা বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করি। পরে কোন উপায় না দেখে আমি নিজে ইছাখালী যাই ১২টার পরে। সেখানে গিয়ে দেখি ২০০-৩০০ লোক জড়ো হয়েছে। তারা আমার মেয়েকে হাত-পা বেঁধে নদীতে ফেলে দিতেও চেয়েছে। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যানের বাড়িতে নেবে বলে একটা চায়ের দোকানে নিয়ে বসায়। আমার যাওয়ার পর আমার মেয়ের সঙ্গে আমাকেও বসায়। এক পর্যায়ে একজন আমাকে চড়-থাপ্পড় দেয়। পরে তারা পুলিশ ডাকে। রাত দেড়টার দিকে দুজন পুলিশ এসে আমাকে ও আমার মেয়েকে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশের সামনেও তারা আমাদের মারধর করেছে।’
মিরসারাই উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব গাজী নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘চেয়ারম্যানের ছেলে পাভেলের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। নাদিয়া পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছিল। পুলিশ তাকে সহযোগিতাতো করেনি। বরং ২০২২ সালের এক নাশকতার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে।’
জনতার আওয়াজ/আ আ