মো. ইব্রাহিম (৬৫)গুমের শিকার ফিরে পেতে চায় পরিবার
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৪ ১:১২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৪ ১:১২ অপরাহ্ণ

মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা,বিশেষ প্রতিনিধি
২২ আগস্ট ২০২০ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য তুলে নিয়ে যান মো.ইব্রাহিমকে।তখন তার বয়স ছিল ৬১। ৩২/৩/১নং শুক্রাবাদ স্ত্রী, ১ ছেলে ও ১ মেয়ে নিয়ে থাকতেন। সেই সময় পরিবারের পক্ষ থেকে শেরে বাংলা নগর থানায় নিখোঁজ হয়েছে বলে সাধারণ ডায়েরি করে তার একমাত্র ছেলে আনিছুর রহমান। যার জিডি নং ১০৯১/২৩/৮/২০২০ইং।পরবর্তীতে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় নিখোঁজ সংবাদ এর বিজ্ঞপ্তি দেন।২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ ইং তারিখে। তখন আওয়ামী লীগ ও প্রশাসনের ভয়ে কোন কথা বলতে পারিনি।
৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ইং তারিখে মায়ের ডাক এর মো.মঞ্জুর হোসেন ঈসার মোবাইলে ফোন করে গুম হওয়া মো.ইব্রাহিম এর ছেলে আনিছুর রহমান। মোবাইলে বলেন, আমার বাবা ২০২০ সালে গুম হলেও এতদিন ভয়ে কাউকে কিছু বলতে পারি নাই।আপনার সাথে দেখা করা যাবে?তিনি বললেন আমি তো আজ শুক্রবাদ দৃক ভবনে যাবো ঠিক আছে ওখান থেকে ফ্রী হলে আপনার সাথে দেখা করে কথা বলবো।রাত ৭টা ৩০মিনিটে ফ্রী হয়ে আনিছুর রহমান কে কল দিলে ১০ মিনিট এর মধ্যে সে চলে আসলো।পান্থপথের একটি হোটেলে বসে আনিছুর রহমান এর সাথে কথা হচ্ছিল। তিনি জানান তার বাবা ধানমন্ডি ক্লাবে সিকিউরিটি ইনচার্জ হিসাবে চাকরী করতো এবং শুক্রাবাদ ৫১নং ওয়ার্ড আনসার কমান্ডার এবং
৫১ নং ওয়ার্ডের জামাতে ইসলামীর সভাপতি এবং রোকন ছিলেন। সে আরো জানান আগে তার বাবা ইব্রাহিম কে তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বাসায় বোমা হামলার মামলায় অভিযুক্ত করে গ্রেফতার করা হয়। সেসময় ৬ মাস কারাগারে ছিলেন। অনেক কষ্ট করে এবং অনেক অর্থ খরচ করে সে সময় জামিন করা হয়েছিল। ২০২০ সালে যখন তাকে তুলে নিয়ে যায় তখন আমরা ভয়ে কোন কথা বলতে পারিনি।
আমাদের স্হায়ী বাড়ি ফেনী জেলার সদরে।ছোট বেলা থেকে আমরা বাবার চাকরির সুবাদে শুক্রবাদ থাকি।আমার ছোট বোনের বিয়ে হয়েছে, সেখানেই আমার মা এখন থাকে।মা খুব অসুস্থ, তেমন নড়াচড়া করতে পারেনা।আমিও বিয়ে করেছি। ছোট একটা প্রাইভেট কোম্পানি চাকরি করি,শুক্রবাদ থাকি।চাকুরী ছেড়ে কোথাও যেতে পারিনা।তিনি আরো বলেন, স্হানীয় জামাত নেতাদের জানিয়েছি তারা বলেছেন দেখবে।
নিজের কথা,বলতে গিয়ে বলেন, বাবা জামাত এর রাজনীতি করলেও আমি ছাত্র দলের সঙ্গে ছিলাম।
সে এক সময় কাঁদতে কাঁদতে বলে মায়ের ডাক সংগঠন এর আপনাদের বহু খুঁজেছি কিন্তু কোন খোঁজ পায়নি।
শুনেছি আয়নাঘর থেকে অনেকে ফিরে এসেছে আমার মা অপেক্ষায় থাকে এই বুঝি তিনি ফিরে আসবেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ