ম্যাজিস্ট্রেটকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাইনি, এক অপরাধে তিন শাস্তি হয়েছে: রুমিন ফারহানা - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১১:৩১, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ম্যাজিস্ট্রেটকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাইনি, এক অপরাধে তিন শাস্তি হয়েছে: রুমিন ফারহানা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, জানুয়ারি ১৯, ২০২৬ ১১:১০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, জানুয়ারি ১৯, ২০২৬ ১১:১০ অপরাহ্ণ

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ছবি: সংগৃহীত

ম্যাজিস্ট্রেটকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাইনি, এক অপরাধে তিনটি শাস্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিচারিক কমিটিকে চিঠি প্রদান এবং রিটার্নিং কর্মকর্তার শোকজ নোটিশ দেওয়ার পর এবার প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ তোলেন। একই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেননি বলেও দাবি করেন।

সেদিনের (১৭ জানুয়ারি) ঘটনা বর্ণনা করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমি মাইক ব্যবহার করি না, হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করি। স্টেজ বলতে আমার জন্য একটা চেয়ার আর দুই পাশে দুইটি চেয়ার ছিল। আর সামনে সব প্লাস্টিকের চেয়ারে মানুষ বসা ছিল। এর মধ্যে যখন ম্যাজিস্ট্রেট আসেন, তিনি পুলিশ নিয়ে প্রথমে উঠানের ভেতরে ঢুকেন। একপর্যায়ে স্টেজের উপরে উঠে আসেন। আমি বক্তব্য সংক্ষেপ করে নেমে যাই এবং বিনয়ের সঙ্গে জিজ্ঞেস করি আমার কোনো আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে। ওনি (ম্যাজিস্ট্রেট) আমাকে বলতে পারছিলেন না। এক পর্যায়ে আমি উত্তেজিত হয়ে বলি, সবাই প্রচারণা করছে, আপনাদেরকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এই যে বৃদ্ধাঙ্গুলির কথা বললাম এই কথাটা হঠাৎ এসেছে না। ‘রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে রুমিন ফারহানার দেওয়া অভিযোগকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান’ এটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিউজে বড় করে এসেছে। আমি ওনাকে দেখিয়েছি, অন্য প্রার্থীর কর্মীরা এভাবে আপনাদেরকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়। আপনারা কিছু করতে পারেন না। এটাই আমি বলেছি। আমি কাউকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাইনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘১৭ তারিখ আমাকে এ ঘটনার পর ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর আগেও আমাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। ৪০ হাজার টাকা ওইদিন জরিমানা করে আমার অপরাধের প্রথম শাস্তি হলো। দ্বিতীয় শাস্তি হলো, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চিঠি পাঠালেন নির্বাচন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে। এখানেই থামেনি। তৃতীয় শাস্তি হিসেবে রিটার্নিং কর্মকর্তা আবার আমাকে শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছেন। আমি এখনও সেই নোটিশ পাইনি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছি। এক অপরাধের জন্য আমাকে তিন জায়গায় শাস্তি দেওয়া হলো।’

প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ এনে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘বিএনপির জোটের প্রার্থী স্টেজে মাইক ব্যবহার করে সমাবেশ করছে। গরু জবাই করে খাওয়াচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে অশালীন বক্তব্য রাখছেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আজকে (সোমবার) সকালে আমি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে গিয়েছিলাম। আমি বলেছি, বিএনপি জোটের প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবীব কীভাবে জনসভা করছে, আপনারা জানেন না। বিনীতভাবে প্রশ্ন করেছিলাম আমি তো এখন পর্যন্ত ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা দিয়েছি, বিএনপি জোটের প্রার্থী কত টাকা জরিমানা দিয়েছেন? আমি দেড় ঘণ্টা ওনার (রিটার্নিং কর্মকর্তা) সামনে বসেও অংকটা জানতে পারলাম না, ওনারা জানেন না বিএনপির জোটের প্রার্থী জরিমানা দিয়েছেন কিনা।’

এ সময় প্রশাসন ২০১৮ সালের মতো কাজ করলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ