ম্যুরাল ভাঙচুরে গ্রেফতার কেউ ঘটনায় জড়িত নয়: ডা. শাহাদাত - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১১:৫১, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ম্যুরাল ভাঙচুরে গ্রেফতার কেউ ঘটনায় জড়িত নয়: ডা. শাহাদাত

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, জুন ১৮, ২০২৩ ২:৩১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, জুন ১৮, ২০২৩ ২:৩১ অপরাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ
গত বুধবার (১৪ জুন) চট্টগ্রাম নগরীর জামালখান এলাকায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুরের ঘটনার মামলায় গ্রেফতার বিএনপির নেতাকর্মীরা কেউ ওই ঘটনায় জড়িত নন বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন। শনিবার (১৭ জুন) নগরীর কাজীর দেউড়ির নসিমন ভবনের দলীয় কার্যালয়ে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডা. শাহাদাত এ অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে বিএনপির যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের উদ্যোগে কাজীর দেউড়ি মোড়ে দেশ বাঁচাতে তারুণ্যের সমাবেশ কর্মসূচি করার কথা ছিল ১১ জুন। কিন্তু যুবলীগ একই দিন পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করায় আমরা সংঘাতময় পরিস্থিতি এড়াতে কর্মসূচি পিছিয়ে ১৪ জুন করি। এরপরও যুবলীগ আমাদের সমাবেশের দিন শান্তি সমাবেশের নামে নগরীর বিভিন্ন জায়গায় সমাবেশ করেছে। ওইদিন আমাদের সমাবেশে যোগদানের জন্য যুবদল-ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে আসার পথে চট্টগ্রাম কলেজের সামনে ও জামালখান মোড়ে তারা হামলা চালিয়ে নেতাকর্মীদের আহত করে। পরে উল্টো বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহ, এম আই চৌধুরী মামুন ও যুবদল নেতা মোশারফ হোসেন, এমদাদুল হক বাদশাসহ পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীর নামে কোতোয়ালি ও চকবাজার থানায় দুটি মামলা করা হয়। এরপর থেকে পুলিশ এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে গণগ্রেফতার শুরু করেছে। সেদিন রাতে সমাবেশ থেকে নিজ বাসায় ফেরার পথে মিরসরাইয়ে ছাত্রদলনেত্রী নাদিয়া নুসরাতকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শারীরিক হেনস্তা করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পুলিশ তাকে গত বছরের ডিসেম্বর মাসের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়ে দিয়েছে।

ডা. শাহাদাত বলেন, ওইদিন চট্টগ্রাম কলেজের সামনে যুবদল-ছাত্রদলের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। কিন্তু থানায় উল্টো মিথ্যা দেওয়া হয়। ছাত্রলীগকর্মীর দায়ের করা ওই মামলায় ৪৫ নম্বরে যাকে আসামি করা হয়েছে মো. ইউসুফকে। ওইদিন তিনি ভারতের চেন্নাইয়ে ছিলেন। তিনি ঢাকায় এসেছেন ১৫ জুন। মিথ্যা মামলায় তাকে ফাঁসানো হয়েছে। ২০২৪ সালের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার ও প্রশাসন এসব গায়েবি মামলা করছে। অনৈতিকভাবে এসব মামলা করে বিএনপির নেতাকর্মীদের ঘরছাড়া, মাঠছাড়া করতে চায় সরকার। ঠিক যেভাবে ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে আমাদের ৫৫ সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে হয়রানি করেছিল। এই পুলিশি হয়রানি বন্ধ করা না হলে আমরা হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবো।

জামালখানে ম্যুরাল ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির কেউ জড়িত ছিল না দাবি করে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, পুলিশের দায়ের করা মামলায় জামালখান মোড়ে ম্যুরাল ভাঙার অভিযোগ করা হয়। অথচ এ ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মীদের কোনোরকম সম্পর্ক নেই বরং এর আগের দিন মহানগর যুবলীগের কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নিজেদের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি করে। এই মারামারি থেকেই বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করা হয়। মামলায় যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তারা কেউ যদি ওইদিন জামালখানে ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত এমন প্রমাণ থাকে, ভিডিও ফুটেজে থাকে তাহলে আমরা সব দায় স্বীকার করে নেবো।

তিনি বলেন, বুধবার রাতে চান্দগাওয়ের বাসা থেকে গ্রেফতার করা সাবেক ছাত্রদল নেতা নওশাদকে ফাঁসানোর জন্য এনায়েত বাজারের গোয়ালপাড়া থেকে অস্ত্র উদ্ধারের নাটক সাজানো হয়। বাকলিয়া থানা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শামীম ও জাহাঙ্গীরকে চকবাজার থানা পুলিশ ঘর থেকে ধরে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। আমি থানায় গিয়ে তাদের দেখে এসেছি। তাদের সারা শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন। যদি মামলার আসামি হয়ও তাহলে মারার অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে? আপনি গ্রেফতার করতে পারবেন। গায়ে হাত তোলার অধিকার কেউ আপনাদের দেয়নি। সবার নামের লিস্ট করা হচ্ছে।

ডা. শাহাদাত আরও বলেন, বিপ্লব উদ্যানে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা জিয়াউর রহমানের নাম কালি দিয়ে মুছে দিয়েছে। জিয়া জাদুঘরে জিয়াউর রহমানে ম্যুরালে কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল। অথচ মহান মুক্তিযুদ্ধে হানাদার বাহিনীর অতর্কিত হামলায় এক অনিশ্চয়তার মধ্যে জিয়াউর রহমান পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে ‘উই রিভোল্ট’ বলে বিদ্রোহের সূচনা করেছিলেন। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডার, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, একজন বীর উত্তম।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রম সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দিন, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ এম এ আজিজ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার, এস এম সাইফুল আলম, শফিকুর রহমান স্বপন, কাজী বেলাল উদ্দিন, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, মো. শাহ আলম, আবদুল মান্নান, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হারুন জামান, আনোয়ার হোসেন লিপু, মো. কামরুল ইসলাম, মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এইচ এম রাশেদ খান, মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি, সাধারণ সম্পাদক জেলী চৌধুরী, থানা বিএনপির সভাপতি মো. আজম, হাজী মো. সালাউদ্দীন, মহানগর ছাত্রদলের আহবায়ক সাইফুল আলম প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ