যমুনা অভিমুখে যাওয়া নন-এমপিও শিক্ষকদের পুলিশের বাঁধা - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ২:১৮, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

যমুনা অভিমুখে যাওয়া নন-এমপিও শিক্ষকদের পুলিশের বাঁধা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, মার্চ ১১, ২০২৫ ৮:৩৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, মার্চ ১১, ২০২৫ ৮:৩৪ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করতে তার বাসভবন যমুনার উদ্দেশ্য যাওয়া নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বাঁধা দিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১১ মার্চ) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তবে বাঁধা দেওয়ার ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে কোন লাঠিচার্জ করা হয়নি এবং কোন শিক্ষক আহত হননি।

সরজমিনে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বেশ কিছুদিন যাবৎ তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। তারই ধারাবাহিকতায় সকাল ১১টার মধ্যে শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করিয়ে দেওয়ার কথা ছিল পুলিশের। কিন্তু সেই বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা সরাসরি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত নেন। এবং অবস্থান কর্মসূচির শিক্ষকরা মিলে যমুনার দিকে অগ্রসর হন।

দেখা যায়, আগে থেকে কদম ফেয়ার মোড়ে পুলিশের একটি জলকামান রাখা ছিল। প্রেস ক্লাব থেকে কদম ফোয়ারার দিকে যেতে আগে থেকে অবস্থা নিয়েছিল পুলিশ। শিক্ষকরা কদম ফোয়ারার কাছাকাছি গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। পরে পুলিশ মানববন্ধন তৈরি করে ও বাঁশি বাজিয়ে তাদেরকে পিছু হটতে করতে বাধ্য করে। পরে শিক্ষকরা আবার জাতীয় প্রেসক্লামের সামনে এসে অবস্থান করেন।

এরপর হোসনেয়ারা বেগম নামের একজন শিক্ষক বলেন, শিক্ষকরা এখানে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করছে। সচিবালয়ের কিছু দুর্নীতিবাজ সচিবের কারণে আমাদের দাবি পূরণ হচ্ছে না। আগের শিক্ষা উপদেষ্টাকে সচিবরা ভুলভাল বুঝিয়েছে। এতে করে উপদেষ্টা কোনো কাজ করেনি। আমরা শিক্ষা উপদেষ্টার সাথে অনেকবার দেখা করতে চেয়েছি। পরে উপদেষ্টার সহকারী সচিব আমাদের কথা শুনলেও, একমাস হয়ে গেছে কিন্তু কোনো কাজ করেনি।

তিনি বলেন, গত সেপ্টেম্বর মাসে আমরা প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছি। প্রধান উপদেষ্টাকে পাঠানো স্মারকলিপি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ের সচিবরা সেটি গোপন করেছে। আমাদের স্মারকলিপি শিক্ষা উপদেষ্টার কাছে দেয়নি। পরবর্তীতে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে আমাদের স্মারকলিপির কথা শিক্ষা উপদেষ্টাকে জানানো হয়েছে। এরপরে শিক্ষা উপদেষ্টা আমাদের স্মারকলিপি দেখেছেন এবং আমাদের কাজ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন। এরপরে আর কোনদিন শিক্ষা উপদেষ্টা আমাদেরকে আর ডাকেননি।

নন-এমপিও এই শিক্ষক বলেন, গতকালকে আমাদের শিক্ষকরা সচিবালয়ে যেতে চাইলে পুলিশ সেখানে বাঁধা দেয়। ঐসময় পুলিশ বলেছে, আজকে সকাল ১০-১১টার মধ্যে শিক্ষা উপদেষ্টের সাথে আমাদের কথা বলিয়ে দিবেন। কিন্তু, এরকম কোনো কিছু করা হয়নি। সেজন্য আমরা র‍্যালী নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে যেতে চাইলে, কদম ফোয়ারার সামনে পুলিশ আমাদেরকে বাঁধা দেয়। এরপরে আমরা আবার প্রেস ক্লাবের সামনে চলে আসি।

সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক অধ্যক্ষ মো. দবিরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রতিবছর এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন নেয়া হবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় গত চার বছর কোন আবেদন নেয়া হয়নি। ২০২৫ সালে যদি আবেদন না নেয়া হয় তাহলে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ দীর্ঘ ২০-২৫ বছর ধরে বিনা বেতনে কেউ চাকরি করতে পারেনা।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের সামাজিক মর্যাদা ও সীমাহীন কষ্টের কথা চিন্তা করা দরকার। সেজন্য, এমপিও নীতিমালা ২০২১ এর সকল শর্ত বাতিল করে সকল নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একযোগে এমপিওভুক্ত করে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দুঃখ দুর্দশার অবসান করতে হবে৷

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ