যশোর- ১ বিএনপি’র ৪ ও জামায়াতের ১ প্রার্থী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, আগস্ট ১৯, ২০২৫ ২:৩১ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, আগস্ট ১৯, ২০২৫ ২:৩১ পূর্বাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যশোর-১ (শার্শা) আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। দীর্ঘদিন ১৭ বছর পর ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশায় ভোটারদের মাঝে দেখা দিয়েছে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা। বিএনপি’র ৪ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী এবং জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী মাওলানা আজিজুর রহমান প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন এ আসনে। এ ছাড়া খেলাফত মজলিসের উপজেলা সভাপতি মাওলানা মাহাবুবুর রহমানকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো অবস্থান নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই নির্বাচনী মোট ভোট কেন্দ্র ১০২টি। দেশের বৃহত্তম স্থল বন্দর বেনাপোল এই সংসদীয় এলাকায় অবস্থিত। দেশের সীমান্তবর্তী এই নির্বাচনী এলাকায় আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাধারণ ভোটার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে বিরাজ করছে ব্যাপক চাঞ্চল্যতা। প্রার্থীরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছুটছেন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি। দিচ্ছেন নানারকম প্রতিশ্রুতি। এ ছাড়া মনোনয়নপ্রত্যাশীরা প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ওয়ার্ড পর্যায়ে সমাবেশ মিছিল মিটিংসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন রাত দিন।
খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেছে, যশোর-১ শার্শা আসনে দলীয় মনোনয়ন লাভের চেষ্টা করছেন বিএনপির ৪ নেতা। এরা হলেন দলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক এমপি মফিকুল হাসান তৃপ্তি, শার্শা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি নির্যাতিত নেতা হাসান জহির, উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা আলহাজ নুরুজ্জামান লিটন এবং শার্শা উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি খায়রুজ্জামান মধু। তবে দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তির দৌড়ে খায়রুজ্জামান মধুর অবস্থান তলানিতে বলেই মন্তব্য দলীয় নেতাকর্মীদের। কারণ বিগত ১৭ বছরের আওয়ামী হামলা মামলা আর নির্যাতনের ইতিহাসে খায়রুজ্জামান মধু ছিলেন অনেকটায় নিরাপদে।
দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে অন্যতম দাবিদার বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বর থেকে বেড়ে ওঠা ৯০-এর স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম ছাত্রনেতা তৃপ্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এস এম হলের সাবেক নির্বাচিত সভাপতি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের অন্যতম সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। কেন্দ্রীয় বিএনপি’র দপ্তর সম্পাদক ও যশোর ৮৫/১ এর সাবেক সংসদ হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছিলেন দীর্ঘদিন। ইতিমধ্যে তৃপ্তি গোটা উপজেলায় ব্যাপক হারে জনসংযোগ শুরু করেছেন। দলীয় নানা কর্মসূচিতে তার রয়েছে সরব উপস্থিতি।
শার্শা উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক আশারাফুল আলম বাবু বলেন, শার্শায় নির্বাচনী মাঠ এখনো বিএনপি’র দখলে রয়েছে। এ আসনে বিএনপি’র একাধিক প্রার্থী থাকলেও মাঠপর্যায়ের জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে শার্শা উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ নুরুজ্জামান লিটনের। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যেসব বিএনপি’র নেতাকর্মীরা মামলা হামলার শিকার হয়েছেন তাদের পাশে থেকে আর্থিক ও মানবিক সহায়তা দিয়েছেন নুরুজজামান লিটন। নুরুজ্জামান ২৫টি রাজনৈতিক মামলা কাঁধে নিয়ে এখনো বিএনপি’র সকল ধরনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিদিনই দলীয় প্রোগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।
দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী অপর প্রার্থী হলেন শার্শা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আবুল হাসান জহির। তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-১ শার্শা আসন থেকে বিএনপি’র মনোনয়নপ্রত্যাশী। তিনিও দলের একজন ত্যাগী নেতা। তিনিও এলাকায় প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচেছন প্রতিদিন। বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী হামলা মামলা শিকার এই নেতা ইতিমধ্যে গোটা নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। করছেন জনসংযোগ আর দলীয় নানা প্রোগ্রাম।
এদিকে, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে এই আসনে জামায়াতে ইসলামের একক প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় শূরার সদস্য ও জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর মাওলানা আজিজুর রহমান। তিনি ব্যক্তি জীবনে সজ্জন মানুষ হিসেবে পরিচিত। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর প্রকাশ্যে কোনো মিছিল মিটিং করতে দেখা না গেলেও বিভিন্ন এলাকার মাদ্রাসায় ঘরোয়াভাবে বৈঠক করতে দেখা যাচ্ছে। আর ঘর গোছাতে ফরম পূরণ করে নতুন নতুন সদস্য বাড়াচ্ছেন তারা। এবারের নির্বাচনে যশোরের এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে বিজয়ী করতে একযোগে কাজ করছেন দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা।
অপরদিকে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে মাওলানা মাহাবুবুর রহমানকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হলেও এলাকাবাসীর সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেই জানালেন মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক সচেতন মহলের একাংশ।
বিএনপি’র মনোনয়নপ্রত্যাশী উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি হাসান জহির বলেন, আমাদের রাজনৈতিক দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যেভাবে আমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন আমরা সেভাবেই কাজ করছি। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল যাকে যোগ্য মনে করে ধানে শীষ প্রতীকের প্রার্থী করবেন আমরা সকলেই তার পক্ষে একট্টা হয়ে মাঠে কাজ করবো এবং ইনশাআল্লাহ বিজয় ছিনিয়ে আনবো।
জনতার আওয়াজ/আ আ