যশোর-৩লড়াই হবে ধানের শীষের সঙ্গে দাঁড়িপাল্লার - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৮:৩০, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

যশোর-৩লড়াই হবে ধানের শীষের সঙ্গে দাঁড়িপাল্লার

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬ ৪:২৫ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬ ৪:২৫ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৩ (সদর) আসনে তুমুল লড়াই হবে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মধ্যে। এ আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ২ জন প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন ও বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাইছেন। তাদের নেতাকর্মীরা নিজ নিজ এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে বর্তমানে এ এলাকায় নির্বাচনী আমেজ বইছে। আসনটিতে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করছেন বিএনপি’র খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। অমিত প্রয়াত মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের ছোট ছেলে। তরিকুল ইসলাম ছিলেন যশোর উন্নয়নের কারিগর। তিনি ১৯৭৯ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে বিএনপি সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে যশোরের সর্বাধিক উন্নয়ন করেন। পিতার মৃত্যুর পর অমিত রাজনৈতিক দৃশ্যপটে আবির্ভূত হলেও ছাত্র জীবন থেকে রাজনৈতিক আবহাওয়ার মধ্যেই বেড়ে ওঠেন। তার মা অধ্যাপক নার্গিন বেগম ছিলেন পাকিস্তান আমলে অবিভক্ত ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা। সাবেক এই ঢাবিয়ান ছাত্র ইউনিয়নের সেন্ট্রাল নেত্রী হিসেবে সারা দেশের তৎকালীন ছাত্র সমাজের একজন প্রিয় মুখ ছিলেন। আজীবন সংগ্রামী পিতা তরিকুল ইসলামও ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির মাধ্যমে ধীরে ধীরে ন্যাপ ভাসানী ও পরে জাগদল হয়ে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাকালীন জাতীয়তাবাদী দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। আমৃত্যু তিনি শত লাঞ্ছনা-বঞ্চনা, হামলা-মামলা সহ্য করেছেন, জীবনে বড় একটা সময় তিনি পার করেছেন কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্টে। তবুও তিনি কখনো আদর্শচ্যুত হননি।

মরহুম তরিকুল ইসলাম ছিলেন যশোরের সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার মূর্ত প্রতীক। পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে পুত্র অনিন্দ্য ইসলাম অমিতও গত ১৫ বছরে হারিয়ে যাওয়া যশোরের সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি পুনরুদ্ধারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি প্রায় প্রতিটি নির্বাচনী প্রচার সভায় বলছেন, যশোর ছিল সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মিলনস্থল। কিন্তু গত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলে সাম্প্রদায়িকতার বিষ বাষ্প ছড়িয়ে সমাজকে অস্থিতিশীল করে তোলা হয়েছিল। এখানকার মানুষের জানমালের কোনো নিরাপত্তা ছিল না। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি আর হত্যা, গুম-খুন ছাড়া যশোরবাসীর ভাগ্যে কিছুই জোটেনি। আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক জয়ী হলে যশোরকে তার হারানো গৌরব ফিরিয়ে দেবেন। অমিতের ভাষ্য, মতপার্থক্য থাকবে, রাজনৈতিক ভিন্নতা থাকবে, চিন্তার ভিন্নতা থাকবে- কিন্তু সেই সবই হবে শালীনতার সঙ্গে। এসব কিছুর ঊর্ধ্বে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক। কিন্তু আজকের যশোরে সেই দৃশ্য বিরল। আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যদি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে তিনি জয় লাভ করতে পারেন, তাহলে যশোরের হারানো গৌরবকে তিনি ফিরিয়ে আনতে দলমত নির্বিশেষে সকলে মিলে যশোর গড়ার কাজটি করবেন। ইতিমধ্যে অমিতকে ঘিরে দলের কর্মী সমর্থক ছাড়াও সাধারণ ভোটাররা ঐক্যবদ্ধ বলে মনে করেন নেতাকর্মীরা।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ভিপি আব্দুল কাদের যশোরের সমকালীন রাজনীতির মাঠে একেবারে নতুন মুখ। তিনি যশোর সরকারি এম এম কলেজ ছাত্র সংসদের সর্বশেষ নির্বাচিত ভিপি ছিলেন। ’৮০ দশকে আব্দুল কাদের যশোর ছেড়ে লেখাপড়ার জন্য ঢাকায় পাড়ি জমান। সেই থেকে তিনি ঢাকাতেই ব্যবসা-বাণিজ্য ও বসবাস করছেন। ঢাকায় বসবাসরত এই ব্যবসায়ী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত হলে যশোর আসেন এবং নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় সরব হন। তার পক্ষে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। তিনিও নির্বাচনী প্রচারণায় নানা রকম প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। মূলত এই আসনে লড়াই হবে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীর মধ্যেই। এ আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন- ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. শোয়াইব হোসেন,? জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. খবির গাজী, জাগপার প্রেসিডিয়াম মেম্বর নিজাম উদ্দিন অমিত ও সিপিবির রাশেদ খান। তবে এই নির্বাচনে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ছাড়া বাকি সকল প্রার্থীই নতুন মুখ। যাদের কারোরই অতীতে স্থানীয় বা সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অভিজ্ঞতা নেই।

মাঠপর্যায়েও জামায়াতের প্রার্থী ছাড়া বাকি ৩ প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের দেখা মিলছে না। ফলে শেষ পর্যন্ত এই আসনটিতে বিএনপি প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও জামায়াত প্রার্থী ভিপি আব্দুল কাদেরের মধ্যে লড়াই হবে। তবে ধানের শীষ প্রার্থী অমিতের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল বলে মনে করছেন মাঠ পর্যায়ের ভোটার ও সমর্থকরা। সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউপি’র ছাতিয়ানতলা গ্রামের সাধারণ ভোটার মিলন হোসেন, সাজ্জাদ হোসেন, মনিরুল ইসলাম, চুড়ামনকাটি গ্রামের মাস্টার মিজানুর রহমানসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, বর্তমানে দেশের বড় দল বিএনপিই ক্ষমতায় যাবে। তাই তারা বিএনপিতেই ভোট দেবেন। তা ছাড়া, এই আসনে যারা যারা প্রার্থী হয়েছে গত ১৫ বছরে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ছাড়া আমরা বাকি কারোর নামই শুনিনি। ইছালী ইউপি’র মনোহরপুর গ্রামের সাধারণ ভোটার রেজাউল ইসলাম বলেন, বিএনপি প্রার্থী অমিতই পাস করবে, তাই আমরা তাকেই ভোট দেবো।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ