যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিভাগে বিএনপি’র পদযাত্রা, সরকার হটানোর হুঁশিয়ারি - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৯:৪৫, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিভাগে বিএনপি’র পদযাত্রা, সরকার হটানোর হুঁশিয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৩ ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৩ ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

 

যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে গতকাল দেশের বিভাগীয় শহরে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচি থেকে সরকারকে কঠোর বার্তা দিয়েছেন নেতারা। বলেছেন, রাজপথের আন্দোলনেই সরকারকে বিদায় করা হবে। বাধা দিয়ে, ধরপাকড় করে আন্দোলন থামানো যাবে না। সাধারণ মানুষ বিএনপি’র সঙ্গে রয়েছে। জনগণের এই আন্দোলনে সরকার পরাজিত হবে। চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামী ২৫শে ফেব্রুয়ারি প্রতিটি জেলায় পদযাত্রা কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। গতকালও চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, কুমিল্লা ও ফরিদপুর মহানগরে পদযাত্রা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। পদযাত্রা থেকে সরকার হটানোর কঠোর হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন বিএনপি নেতারা। তারা বলেন- সরকার বিরোধী যুগপৎ আন্দোলন ক্রমেই জোরালো হয়েছে।

আন্দোলন বেগবান হয়েছে। রাজপথে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দ্রুতই সরকারকে বিদায় করা হবে। এবার সরকারের পতন নিশ্চিত করা হবে।
রাজশাহী পদযাত্রা কর্মসূচিতে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, জনগণের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। জনগণ জেগেছে, যতক্ষণ অধিকার আদায় না হবে, ততক্ষণ বাইরে থেকে বাড়িতে ঢুকবে না। ইনশাআল্লাহ্‌, এ যুদ্ধে আমরা জয়লাভ করবো। মানুষের অধিকার আদায় করেই ছাড়বো, ইনশাআল্লাহ্‌। রাজশাহী মহানগর বিএনপি আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও রাজশাহী সিটির সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু এবং বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক এডভোকেট শফিকুল হক মিলনসহ অন্যান্য সিনিয়র নেতারা বক্তব্য দেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর মহানগর বিএনপি’র পদযাত্রা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, চলমান ২০২৩ হবে কর্তৃত্ববাদী সরকারের পরিবর্তনের বছর। আমরা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন চাই। এ সময় ফরিদপুর মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক এ এফএম কাইয়ুম জঙ্গির সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি’র বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাশুকুর রহমান ও মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। এদিকে গাজীপুরে বিএনপি’র পদযাত্রায় বাধা দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এ সময় পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। পদযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা ডাক্তার এজেডএম জাহিদ হোসেন, এডভোকেট মাহবুব উদ্দীন খোকন। বরিশালে বিএনপি’র কর্মসূচিকে ঘিরে গতকাল সকাল থেকেই নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হল এলাকায় জড়ো হন নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পদযাত্রার আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন তারা। এ সময় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, বিএনপি নেতা এডভোকেট জয়নুল আবেদীন, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র বিভাগীয় সাংগঠনিক এডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, বরিশাল মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান খান ফারুক উপস্থিত ছিলেন। পরে নগরীর সদর রোড থেকে পদযাত্রা বের করে মহানগর বিএনপি। তারা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ করে। রংপুরে বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, আওয়ামী লীগ দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। মানুষের বেঁচে থাকাই এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশে এখন গুম হলে কেউ আর অভিযোগ করেন না, কেননা অভিযোগ করে কেউ বিচার পান না।

এই সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য যা যা করা দরকার তাই করছেন। মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, আমরা যখন জনগণের জন্য রাজপথে প্রতিবাদ করছি, সরকার তখন প্রশাসন দিয়ে আমাদের দমানোর চেষ্টা করছেন। আমাদের মিথ্যা মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের নির্যাতন, হয়রানি করছেন। আমরা বলতে চাই, পুলিশের নেমপ্লেটে বাংলাদেশ পুলিশ লেখা রয়েছে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পুলিশ লেখা নাই। বাংলাদেশের মালিক কিন্তু জনগণ। তাই আপনাদের বলতে চাই, আপনারা অতি উৎসাহী হয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পুলিশ হতে যাইয়েন না। আপনারা আমাদের না, জনগণের পাশে থাকুন। খুলনার পদযাত্রায় বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্র সম্মেলন হয়েছে। সেই সম্মেলনে এই উপমহাদেশের পাকিস্তান, নেপালও দাওয়াত পেয়েছে। একমাত্র বাংলাদেশ দাওয়াত পায়নি। গত বছরও পায়নি, তার আগের বছরও পায়নি। এতেই প্রমাণ হয় দেশে গণতন্ত্র নেই। গণতন্ত্রবিহীন একটি রাষ্ট্র চলছে। সংবিধান বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন, দুদকের চেয়ারম্যান এবং কমিশনাররা অবসর নেওয়ার পর সরকারের লাভজনক পদে নিয়োগ পেতে পারেন কিনা? দুদকের ৯ নম্বর আইনে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে, তারা সরকারের কোনো লাভজনক পদে যেতে পারেন না। তারপরও আওয়ামী লীগ দুদকের সাবেক কমিশনারকে রাষ্ট্রপতি করেছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ