যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে ফের তৃণমূলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৪:০১, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে ফের তৃণমূলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, মার্চ ৩১, ২০২৩ ৫:০০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, মার্চ ৩১, ২০২৩ ৫:০০ অপরাহ্ণ

 

সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে রোজার মাসেও একগুচ্ছ কর্মসূচি নিয়ে মাঠে রয়েছে বিএনপি। এবার সারা দেশে একযোগে দুই ঘণ্টার মানববন্ধন করবে দলটি। আগামীকাল শনিবার সারা দেশে ৭৯টি জেলা ও মহানগরে অনুষ্ঠেয় এ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন ৮৩ জন কেন্দ্রীয় নেতা। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব, স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

এ ছাড়াও ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে ৩৭টি মতবিনিময় সভা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব সভায় নানা খাতে সরকারের দুর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরবেন নেতারা। সেইসঙ্গে ৮২ সাংগঠনিক জেলা, ৬ শতাধিক থানা-উপজেলায় অবস্থান, মানববন্ধন ও গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। তৃণমূলের এসব কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন কেন্দ্রীয় নেতারা। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে টিম গঠন করে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।

বিএনপির সূত্র জানিয়েছে, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামীকাল ১ এপ্রিল সারা দেশে জেলা ও মহানগরে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টার মানববন্ধন হবে। এরপর ৮ এপ্রিল সব মহানগরের থানা ও জেলার উপজেলা পর্যায়ে বিকেল ৩টা থেকে৫টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি রয়েছে। ৯ থেকে ১৩ এপ্রিল সারাদেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬ পর্যন্ত ১০ দফার প্রচারপত্র, রাষ্ট্র মেরামতের প্রচারপত্র এবং আওয়ামী সরকারের সর্বগ্রাসী দুর্নীতির প্রচারপত্র বিলি/মানববন্ধন/অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ের কর্মসূচি বিভাগ অনুযায়ী হবে। এর মধ্যে ৯ এপ্রিল রংপুর বিভাগে, ১০ এপ্রিল রাজশাহী ও সিলেট বিভাগে, ১১ এপ্রিল খুলনা ও কুমিল্লা বিভাগে, ১২ এপ্রিল ঢাকা ও বরিশাল বিভাগে এবং ১৩ এপ্রিল ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর বিভাগে হবে। তা ছাড়া ২০ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশের সব মহানগর-জেলা-উপজেলা-থানা-ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভা, দুস্থ-অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তা প্রদানসহ বিভিন্ন গণসংযোগ কর্মসূচিতে বিএনপির নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করবে, যা গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে। সব কর্মসূচি সফলের লক্ষ্যে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে টিম গঠন করা হয়েছে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালীর দায়িত্বপ্রাপ্ত মো. শাহাজাহান বলেন, জনগণ এ সরকারের বিরুদ্ধে জেগেছে। তারা অবিলম্বে এ সরকারের বিদায় চায়। আর বিএনপি সেই লক্ষ্যেই আন্দোলন সংগ্রাম করছে।

জানা গেছে, এ কর্মসূচির পাশাপাশি ঢাকা মহানগরেও ৫০টি সাংগঠনিক থানায় পৃথকভাবে সমন্বিত ইফতারের আয়োজন করা হচ্ছে। মূলত রমজানজুড়ে এসব কর্মসূচি দেওয়ার মূল কারণ নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখা। নানা খাতে সরকারের দুর্নীতি ও অনিয়মসহ ১০ দফা সংবলিত একটি ‘বুকলেট’ তৈরি করা হচ্ছে, যা সারাদেশে গণসংযোগকালে নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে দিতে চায় বিএনপির হাইকমান্ড। ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারা যাতে কর্মসূচি পালন করে একসঙ্গে ইফতার করতে পারেন, সে ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। অর্থাৎ কর্মসূচি পালন ও ইফতার একসঙ্গেই আয়োজন করবে দলটির তৃণমূল।

জানতে চাইলে বিএনপির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, এই সরকারের আমলে কেউ নিরাপদ নয়। ক্ষমতাসীনরা গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তার প্রমাণ হলো প্রথম আলোর সাংবাদিককে রাতের অন্ধকারে তুলে নিয়ে যাওয়া। রোজার মধ্যেও তারা বিএনপির মানববন্ধনে সাড়া দেবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু বলেন, ঢাকা মহানগর বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল ও ছাত্রদল ৩৭টি মতবিনিময় সভা করবে। তাছাড়া জেলা বিএনপি যদি নিজস্ব উদ্যোগে মতবিনিময় সভা করতে চায়, তা করবে। কেন্দ্রীয় নেতারা সভায় উপস্থিত থাকবেন এবং জেলাগুলোর যেসব স্থানে সভা হবে, সেখানে সংশ্লিষ্ট জেলা বিএনপি ও অন্য অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারাও থাকবেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ