যুগপৎ আন্দোলন পঞ্চম ধাপের কর্মসূচি বিভাগীয় সমাবেশ ঘিরে তৎপর বিএনপি - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১:৪৬, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

যুগপৎ আন্দোলন পঞ্চম ধাপের কর্মসূচি বিভাগীয় সমাবেশ ঘিরে তৎপর বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৩ ২:০৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৩ ২:০৫ অপরাহ্ণ

 

চলমান সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলন নিয়ে দিনকে দিন আশাবাদী হচ্ছে বিএনপির হাইকমান্ড। যুগপতের পঞ্চম ধাপের কর্মসূচি হিসেবে আগামী শনিবার ঢাকাসহ দেশের ১০টি সাংগঠনিক বিভাগীয় সদরে সমাবেশ করবে বিএনপি। এ লক্ষ্যে দেশজুড়ে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছেন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। মূলত টানা আন্দোলনে ‘ঝিমিয়ে পড়া’ নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখতে বিভিন্ন ধরনের সাদামাটা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এভাবে আগামী শনিবার বিভাগীয় সমাবেশে ফের নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির জানান দিতে চায় বিএনপি। দলীয় নেতাকর্মীর পাশাপাশি সমাবেশে সাধারণ মানুষেরও ব্যাপক

অংশগ্রহণ ঘটাতে চায় দলটি। প্রচারের অংশ হিসেবে প্রতিদিনই লিফলেট বিতরণ, পথসভা, হাটসভা ও প্রস্তুতি সভা করা হচ্ছে। প্রতিটি সাংগঠনিক বিভাগে ৫ থেকে ৬ লাখ লিফলেট বিতরণ করার টার্গেট দলটির। সমাবেশে যোগদানে উদ্বুদ্ধ ও

দাবি-দাওয়া বিষয়ে জনগণকে অবহিত করতে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, হাটবাজার, পাড়া-মহল্লায় পদযাত্রা, প্রচারপত্র বিতরণ, পথসভা, হাটসভা, মিছিল ও গণসংযোগ করা হবে। বিভাগীয় সমাবেশ সফলের জন্য কেন্দ্রীয় নেতারা যেসব বিভাগে যাবেন তাদের নামও ঘোষণা করেছে বিএনপি।

বিএনপির নীতিনির্ধারকরা জানান, চলমান শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে বিএনপি দেশ-বিদেশে বার্তা দিতে চায়, তাদের আন্দোলনের সঙ্গে দেশবাসীও সম্পৃক্ত। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ আর এই সরকারকে চায় না। সমাবেশ সফলে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় সমাবেশ সফলে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।

এদিকে চলমান যুগপৎ আন্দোলনে সক্রিয় সমমনা রাজনৈতিক দল ও জোটকে শেষ পর্যন্ত কাছে পাওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে বিএনপির। তবে দলটির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, যত কিছুই করুক সরকারের শেষ রক্ষা হবে না। বিরোধী দলগুলোকেও প্রলোভনে কাছে টানতে পারবে না। গতানুগতিক রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে বেরিয়ে ভিন্ন কৌশলে এগোচ্ছে মাঠের বিরোধী দল বিএনপি। প্রায় ১৫ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি রাজপথে তাদের অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছে। অবিলম্বে সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্ত করা ও নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ১০ দফা দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি পালন করছে। এবার যুগপৎ আন্দোলনে বিএনপির সঙ্গে শরিক হয়েছে ৩৮টি দল ও ১৫টি সংগঠন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, সরকারবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোট আমাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ ও কর্মসূচি পালন করেছে। তবে এমন কিছু দল যুগপৎ আন্দোলনে আছে, যাদের জনশক্তি নামেমাত্র। ফান্ডিংও কম। এক্ষেত্রে তারা কোনো প্রলোভনে সটকে পড়তেই পারে। তবে বিএনপি উদ্বিগ্ন নয়। বরং বিএনপির হাইকমান্ড আন্দোলনের সফলতা নিয়ে আশাবাদী।

অন্যদিকে যুগপতে থাকা গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ নেতা ও বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, আমরা বিরোধীরা যারা যুগপৎ আন্দোলনে আছি, জনগণের প্রতি তাদের ওয়াদা আছে। যে কারণে সরকার চাইছে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে আমাদের নেতাকর্মী ও জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি করতে; কিন্তু এবার সরকারের শেষ রক্ষা হবে না। তাদের ক্ষমতা ছাড়তেই হবে।

১২ দলের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে বিরোধী নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। তারা সর্বস্বান্ত। ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সমঝোতা বা আঁতাতের কোনো প্রশ্নই আসে না। আমরা যুগপৎভাবে মাঠে আছি। ইনশাআল্লাহ লক্ষ্য পূরণে এগিয়ে যাব। এই জোটের আরেক শীর্ষ নেতা বাংলাদেশ এলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, আমরা যারা ১২ দলে আছি সবাই পরীক্ষিত। ২০১৪ সালের নির্বাচনেও জোটের শরিকদের প্রলোভন দেখানো হয়েছে। অনেকেই চলেও গেছে। কিন্তু আমরা শেষ পর্যন্ত টিকে আছি। আসন্ন নির্বাচনেও প্রলোভন আসবে সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু এই সরকারকে তো যেতেই হবে। সুতরাং তাদের ফাঁদে আর কেউ পা দেবে বলে বিশ্বাস হয় না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সম্প্রতি বিএনপি ও মিত্রদের আন্দোলন পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, তারা কোনোভাবেই দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না। বিএনপির যেসব সিনিয়র নেতা এবার কোনো প্রলোভনে বা আঁতাত করে পাতানো নির্বাচনে যাবে, তাদের পরিণতি ভালো হবে না। দলীয় নেতাকর্মী ছাড়া ক্ষমতাসীনরাও তাদের ছাড় দেবে না।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, চলমান কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করছে। আমরা ঢাকা শহরে পদযাত্রা করছি। আমাদের প্রতিটি কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে কেউ দুবর্লতা মনে করবেন না। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিলে প্রতিরোধ গড়ে উঠবে। পদযাত্রার মাধ্যমে আমরা নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করেছি। ইনশাআল্লাহ এর মধ্য দিয়ে আমরা চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করব। এই লড়াই জনগণের অধিকার ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার করার লড়াই। সুতরাং আওয়ামী লীগের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনোভাবেই অংশ নেবে না বিএনপি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার কিংবা নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া পাতানো নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।

পরবর্তী কর্মসূচি

বিএনপির নেতারা আলাপকালে জানান, রাজধানীতে সরকারবিরোধী কঠোর আন্দোলনের ঢেউ তৈরিতে আরও সময় লাগবে। সে লক্ষ্যে জনস্বার্থ ইস্যুতে কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে বিএনপি ও মিত্রগুলো। তবে বিএনপি ঘোষিত ১০ দফা দাবির পক্ষে জনগণের সমর্থন আদায়ে নিয়মিত কর্মসূচির পাশাপাশি মার্চের শুরুতে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে। যুগপতের ষষ্ঠ ধাপের কর্মসূচি হিসেবে আগামী শনিবার নতুনভাবে ‘চলো চলো ঢাকা চলো,’ ‘ঢাকা মহানগরে মানবপ্রাচীর,’ বা আবারও ‘গণঅনশন’, জেলা পর্যায়ে ‘বিক্ষোভ সমাবেশ’ বা ‘গণপদযাত্রা’ কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে। এরই মধ্যে যুগপতে থাকা গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট এবং জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সঙ্গে বৈঠককালে এ ধরনের প্রস্তাব এসেছে। পরে এ নিয়ে গতকাল বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ বলেন, বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশ সফলের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। গ্রামগঞ্জে, হাটবাজারে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। ইনশাআল্লাহ এবার ক্ষমতাসীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের বিদায়ের মাধ্যমে ভোটাধিকার নিশ্চিত ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে।

গত ১০ ডিসেম্বর রাজধানীর গোলাপবাগে ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশে অবিলম্বে সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্তসহ ১০ দফা দাবি ঘোষণা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এখন সে দফা আদায়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটকে নিয়ে যুগপৎ আন্দোলন করছে বিএনপি।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ