রংপুরে দুগ্রুপের সংঘর্ষে বিএনপি কর্মী নিহত - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৯:৪৮, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

রংপুরে দুগ্রুপের সংঘর্ষে বিএনপি কর্মী নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, এপ্রিল ৬, ২০২৫ ১:১০ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, এপ্রিল ৬, ২০২৫ ১:১৮ পূর্বাহ্ণ

 

রংপুর প্রতিনিধি

রংপুরের বদরগঞ্জে বিএনপির দুগ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় লাভলু মিয়া নামে বিএনপির এক কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৫ জন।

শনিবার (৫ এপ্রিল) বিকেলে সংঘর্ষে গুরুতর আহত লাভলু মিয়া রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

তার মৃত্যুর তথ্যটি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আতিকুর রহমান।

নিহত বিএনপি কর্মী লাভলু মিয়ার বাড়ি উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের রাজারামপুরের কালজানি গ্রামে। তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি প্রার্থী ছিলেন।


এর আগে সকাল ১১ টার দিকে পৌর শহরের শহীদ মিনার এলাকায় দুগ্রুপের সংঘর্ষ শুরু হয়। দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো পৌর এলাকায়। ভয়ে দোকানপাট বন্ধ রাখেন ব্যবসায়ীরা। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

একটি দোকান নিয়ে মালিক ও ভাড়াটিয়ার দ্বন্দ্বের জেরে তাদের পক্ষ নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়েছে জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী সরকার ও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুল হক মানিকের অনুসারীরা।

শহরের শহীদ মিনারের পাশে কালুপাড়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য ইশতিয়াক বাবুর একটি দোকান ভাড়া নিয়ে টিনের ব্যবসা করতেন স্থানীয় ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম। গত মাসের দিকে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে জানিয়ে জাহিদুল ইসলামকে দোকান ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেন দোকান মালিক ইশতিয়াক বাবু। কিন্তু ওই ব্যবসায়ীর দাবি, ২০২৮ সাল পর্যন্ত চুক্তি করা হয়েছে। এ নিয়ে দ্বন্দ্বের একপর্যায়ে ঈদের পরের দিন দোকানে তালা লাগিয়ে দোকান বন্ধ করে দেন মালিক ইশতিয়াক বাবু।

এ ঘটনায় দোকান মালিক ইশতিয়াক বাবুর পক্ষে মোহাম্মদ আলী সরকার ও ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলামের পক্ষ নেয় শহিদুল হক মানিক। শুক্রবার মোহাম্মদ আলী সরকারকে কটূক্তি করে ফেসবুকে পোস্ট দেন শহিদুল হক মানিকের ছেলে ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য তানভীর আহমেদ তামাল। এতে ক্ষিপ্ত হয় মোহাম্মদ আলী সরকারের অনুসারীরা।

এদিকে দোকান মালিকের বিরুদ্ধে শনিবার সকালে মানববন্ধনের আয়োজন করেন ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম। এসময় মোহাম্মদ আলী সরকারের অনুসারীরা মানববন্ধনের ব্যানার কেড়ে নিলে শুরু হয় দুগ্রুপের সংঘর্ষ। এতে আহত হন দুপক্ষের ১৫ জন।

গুরুতর আহতরা হলেন- বদরগঞ্জ উপজেলার রাজারামপুর গ্রামের লাভলু মিয়া (৫০), কালুপাড়া ইউনিয়নের বৈরামপুর গ্রামের বৈরামপুর গ্রামের মোক্তারুল (৪৫), পাঠানপাড়া গ্রামের মুন্নাফ (৫০), লোহানীপাড়া ইউনিয়নের শফিকুল ইসলাম (৪৫), একই ইউনিয়নের ময়নাল হোসেন (২৫)।

বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক শাকির মুবাশ্বির কালবেলাকে বলেন, আহত নয়জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। প্রত্যেকের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন আছে। বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, সংঘর্ষে আহত লাভলু মিয়া মারা গেছেন। এখনো কেউ এজাহার দেয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ