রংপুরে সংগঠন দুর্বল, তবু বড় জমায়েতের আশা বিএনপির - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১১:৫৭, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

রংপুরে সংগঠন দুর্বল, তবু বড় জমায়েতের আশা বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, অক্টোবর ২৬, ২০২২ ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, অক্টোবর ২৬, ২০২২ ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ

 

অন্য বিভাগের চেয়ে রংপুর ও এর আশপাশের জেলায় বিএনপি সাংগঠনিকভাবে কিছুটা দুর্বল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের নানা কর্মকাণ্ডে সেখানে তাদের জনসমর্থন বেড়েছে বলে দলটির নেতাকর্মীরা মনে করছেন। একে পুঁজি করে দুর্বল সাংগঠনিক অবস্থা নিয়েও বড় জমায়েতের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।

তাদের অনেক কর্মী, সমর্থক ও অনুসারী স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমাবেশে অংশ নেবে বলে বিএনপি নেতাদের ধারণা। আগামী ২৯ অক্টোবর শনিবার রংপুরে গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি জিলা স্কুল মাঠ চেয়ে আবেদন করলেও সেখানে অনুমতি দেওয়া হয়নি। স্থানীয় ঈদগাহ মাঠ ব্যবহারের মৌখিক অনুমতি পেয়েছে।   

বিএনপির স্থানীয় নেতারা বলছেন, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও খুলনায় বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে বাধা দিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির পরও বড় জমায়েত হয়েছে। এতে রংপুরেও কর্মসূচি সফল করতে তাঁদের দায়িত্ব বেড়ে গেছে।

বিএনপির নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, রংপুরের সমাবেশের দিন রাজধানীতে আওয়ামী লীগ বড় জমায়েত করতে চায়। তাই ওই দিনই বিএনপির সমাবেশে বড় জমায়েত হোক, তা তারা চাইবে না। সে জন্য চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ কিংবা খুলনার মতোই বাধা আসবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

অনুপ্রেরণা চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও খুলনা

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের চতুর্মুখী বাধার পরও শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও খুলনায় বড় জমায়েত করেছে বিএনপি। এর পেছনে নেতাকর্মীদের জেদ ও দিন দিন সাহসী হয়ে ওঠাকে বড় করে দেখছেন দলের নীতিনির্ধারকরা। একই ধরনের মনোভাব তৈরি হয়েছে অন্য বিভাগেও। সেই অনুপ্রেরণায় রংপুরের নেতাকর্মীরাও যেকোনো উপায়ে সমাবেশ সফল করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

গত সোমবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও খুলনার গণসমাবেশ নিয়ে আলোচনা হয়। দলের নেতাকর্মীদের সাহসী ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যরা। এ ধারা অব্যাহত রেখে সামনের কর্মসূচি সফল করার নির্দেশনাও আসে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে।

আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ

রংপুরের নেতাকর্মীদের আশঙ্কা, ২৯ অক্টোবরের সমাবেশেও বাধা সৃষ্টি করা হবে। পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হতে পারে বলেও বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁরা শুনতে পেয়েছেন।

রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব মাহফুজ উন নবী ডন কালের কণ্ঠকে বলেন, নেতাকর্মীদের হুমকি-ধমকি দেওয়া শুরু হয়েছে। আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, অন্য বিভাগের চেয়ে জমায়েত ছোট হবে না। রংপুর বিভাগে ১০ সাংগঠনিক জেলা থেকে নেতাকর্মীরা সমাবেশে অংশ নেবেন।

চট্টগ্রামের সমাবেশের সময় জেলায় জেলায় বাধা দেওয়া হয়েছে। ময়মনসিংহেও হঠাৎ এবং অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘট ছিল। খুলনায় সমাবেশের দিন ও আগের দিন পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়। নৌপথও ছিল বন্ধ।

এখন রংপুরে কিভাবে বিএনপিকে বাধা দেওয়া হয়, তা দেখে পাল্টা কৌশল নেবে বিএনপি। পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হলে আগে থেকেই আশপাশের জেলার নেতাকর্মীরা রংপুর চলে যাওয়ার চিন্তায় আছেন।

জনসমর্থন বাড়ছে

রংপুরে সংগঠন দুর্বল হলেও বিএনপির জনসমর্থন বাড়ছে বলে দাবি দলের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের। এর পক্ষে গত কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলের দিকে ইঙ্গিত দেন তাঁরা।

স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাতে ব্যালটে সিল মারা হয়েছিল। তার পরও প্রায় সব আসনে আগের চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা।

একাদশ জাতীয় সংসদের ভোটের সঙ্গে নবম জাতীয় সংসদের ভোটের ফলাফল তুলনা করলে দেখা যায় একাদশ সংসদ নির্বাচনে রংপুর-২ আসনে বিএনপি ৫৩ হাজার ৩৫০ ভোট পেয়েছে। ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী ভোট পেয়েছিলেন ৩৬ হাজার ৬৪৩টি। রংপুর-৩ আসনে মহাজোটের প্রার্থী এইচ এম এরশাদের বিপরীতে বিএনপি প্রার্থী পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৮৯ ভোট। ২০০৯ সালে বিএনপি প্রার্থী পেয়েছিলেন ১৯ হাজার ৬৪০ ভোট। রংপুর-৪ আসনে একাদশ সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের (আওয়ামী লীগ, জাপা) প্রার্থী প্রায় দুই লাখ ভোট পেয়েছিলেন। বিএনপি প্রার্থী পেয়েছিলেন এক লাখ চার হাজার ১৭৭ ভোট। বিএনপির নেতাদের দাবি, একই অবস্থা কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায়ও। সেখানেও বিএনপির জনসমর্থন বেড়েছে।   

দলের নেতারা জানান, রংপুর বিভাগের আট জেলার মধ্যে রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, নীলফামারীতে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির অবস্থান ভালো। সেখানে বরাবরই এই দুই দল জাতীয় নির্বাচনে ভালো ফলাফল করছে। তবে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও লালমনিরহাটে বিএনপির জনসমর্থন বাকি চার জেলার চেয়ে খানিকটা বেশি বলে ধরা হয়। তাই গণসমাবেশে ওই চার জেলা থেকে কর্মী-সমর্থক কিছুটা বেশি আসবে বলে আশা রংপুরের নেতাদের।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কালের কণ্ঠকে বলেন, রংপুরকে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির দুর্গ আর বলা যাবে না। একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তার প্রমাণ পাওয়া যাবে। সেখানে বিএনপি এখন অনেক বেশি জনপ্রিয়। সংগঠন আগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী। অন্য বিভাগের মতো সেখানেও জনগণ স্বতঃস্ফূর্ত সমাবেশে অংশ নেবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কখনো বিরোধী দলকে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করতে দেয়নি। রংপুরেও তা-ই করবে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ