রাঙামাটিতে নির্ভার বিএনপি, আশায় ১১ দলীয় জোট
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬ ৩:৫৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬ ৩:৫৫ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
আয়তনের দিক দিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় জেলা রাঙামাটি। এই জেলার একমাত্র সংসদীয় আসন এখন অনেকটাই উত্তাপহীন। জেলার প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী পাহাড়িদের আঞ্চলিক দলের প্রার্থী না দেওয়া আর বিএনপি প্রার্থীর ‘শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী’ না থাকাকে এর কারণ হিসেবে মনে করছেন ভোটাররা। আসনটিতে একজন স্বতন্ত্রসহ রাজনৈতিক দলের সাত প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে বিএনপি প্রার্থীর জয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে পড়ায় দলটি বেশ নির্ভার। যদিও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আশাবাদী ১১ দলীয় জোট।
পাহাড়ের ইতিহাসে সব সময়ই পাহাড়ি ভোটারদের আনুকূল্য পেয়ে এসেছে আওয়ামী লীগ। তবে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সম্পাদিত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের ‘ধীরগতি’ নিয়ে সেই আনুকূল্যে ছেদ পড়ে। মিত্র থেকে চরম শত্রুতে পরিণত হয়ে পড়া জনসংহতি সমিতি-জেএসএস হয়ে ওঠে ভোটের জয়-পরাজয়ের নিয়ন্ত্রক। কিন্তু এবার ঘোষণা দিয়েও প্রার্থী দেয়নি সংগঠনটি। বরং বিএনপিকে প্রচ্ছন্ন সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি এখন সর্বত্র আলোচিত হচ্ছে। যদিও প্রকাশ্যে স্বীকার করছে না কোনো পক্ষই।
১০ উপজেলা, ৫০টি ইউনিয়ন আর দুই পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই জেলার জনসংখ্যা ৬ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৬ জন। তবে ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৯ হাজার ২৬৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৬৩ হাজার ৪১০ জন, নারী ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮৫৫ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ২১৩টি আর ভোটকক্ষের সংখ্যা ৯৯৮টি। এর মধ্যে ১৬৯টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এবং অতিঝুঁকিপূর্ণ ২০টি কেন্দ্রকে ‘হেলিসর্টি’ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যেখানে নির্বাচনি কর্মকর্তা ও সরঞ্জাম পরিবহন করা হবে হেলিকপ্টারে।
মোট জনগোষ্ঠীর অর্ধেকই ১৩টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ। বিশেষ ভৌগোলিক অবস্থা আর জনগোষ্ঠীর কারণে সমতল থেকে ভিন্ন এখানকার রাজনীতি। যেকোনো নির্বাচনেই এখানে পাহাড়ি-বাঙালি ইস্যু প্রাধান্য পেয়ে থাকে। তবে এবার আঞ্চলিক দলের প্রার্থীবিহীন ভোটের সমীকরণ বলছে ভিন্নকথা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দল ও জোটের বাইরেও বিএনপির দীপেন দেওয়ানের ভরসা জেএসএস ও ইউপিডিএফ নিয়ন্ত্রিত পাহাড়ি ভোটব্যাংক। আবার পরিচ্ছন্ন রাজনীতির কারণে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংকও তার ভোটবাক্সেই যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
বিপরীতে জামায়াতের পরিবর্তে আসন সমঝোতায় পাওয়া ১১ দলীয় জোটের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক (রিকশা) তুলনামূলক দুর্বল। এ ছাড়া বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জুঁই চাকমা (কোদাল), ইসলামী আন্দোলনের মো. জসিম উদ্দীন (হাতপাখা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা (ফুটবল) নিজস্ব বলয়ের সীমিত ভোট পেতে পারেন। প্রার্থিতায় থাকলেও আলোচনায় নেই জাতীয় পার্টির অশোক তালুকদার (লাঙল) ও গণঅধিকার পরিষদের আবুল বাশার (ট্রাক)। ফলে অনেকটাই নিশ্চিত জয়ের সম্ভাবনায় আসনটিতে বিএনপি এখন নির্ভার।
তবে ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কোদাল প্রতীকের প্রার্থী জুঁই চাকমা। তিনি বলেন, ‘মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে। আমরা ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। জয়ের ব্যাপারেও আশাবাদী। ভোটররা এখনো আতংকের মধ্যে আছে। তারা যদি ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে, পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে এবং নির্বিঘ্নে নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারে- প্রশাসনকে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।’
অন্যদিকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর জয়ের চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে আছে বলে জানিয়েছেন রাঙামাটি জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মনসুরুল হক। তিনি বলেন, ‘পাহাড়িদের আঞ্চলিক সংগঠন প্রার্থী না দিলেও তাদের সাধারণ ভোটাররা উন্মুক্ত। প্রচারে আমরা সাধারণ মানুষের বিপুল সমর্থন পাচ্ছি। আমরা আশাবাদী।’
সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে মানুষ বিএনপির পক্ষে রয়েছে বলে দাবি বিএনপির প্রার্থী দীপেন দেওয়ানের। বলেন, ‘সারা দেশেই ধানের শীষের জোয়ার বইছে। রাঙামাটিতেও মানুষ ধানের শীষকেই বিজয়ী করবে। আমি নির্বাচিত হলে সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করে পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করব। শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ, কর্মসংস্থান ও পর্যটন ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেব।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজনের রাঙামাটির সভাপতি অ্যাডভোকেট দীননাথ তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ‘যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকে, ভোটারদের এমন অবস্থা নিশ্চিত করা যায় তা হলে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন বলে আমরা আশা করতে পারি।’
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, ‘রাঙামাটি আসনে সুন্দর, সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও সবার গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে আমরা প্রস্তুত।’
জনতার আওয়াজ/আ আ