রাজনৈতিক নেতাদের সদিচ্ছা থাকলেই নগর হবে পরিবেশ বান্ধব ও বসবাসযোগ্য
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, মে ১৭, ২০২৫ ২:২৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, মে ১৭, ২০২৫ ৫:১৮ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
‘রাজনৈতিক নেতাদের সদিচ্ছার থাকলেই নগর হবে পরিবেশ বান্ধব ও বসবাস যোগ্য’ বলে মনে করে রাজনীতিবিদ ও সচেতন নাগরিকরা।
শনিবার (১৭ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘নাগরিক বান্ধব নগর গঠনে রাজনৈতিক দল গুলোর ভাবনা’ এক শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে আলোচনা সভার আয়োজন করে বায়ুমন্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস), মিশন গ্রিন বাংলাদেশ, নাগরিক বিকাশ ও কল্যাণ (নাবিক), সেন্টার ফর গভর্নেন্স এন্ড ডেভেলপমেন্ট।
বায়ুমন্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার পরিবেশ বান্ধব নগর গঠনে ধারণাপত্র পাঠ করেন।
তিনি বলেন, “পরিবেশ বান্ধব নগর গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর ভাবনা” অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং যুক্তরাজ্যের গবেষণা প্রতিষ্ঠান দ্য ইকোনমিস্ট ইনটেলিজেন্স ইউনিটের (EIU) গ্লোবাল লিভেবিলিটি ইনডেক্স ২০২৪ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের ১৭৩টি শহরের তালিকায় অবসবাসযোগ্য শহর হিসাবে ঢাকার অবস্থান ৬ষ্ঠ স্থানে। এক্ষেত্রে অন্যতম কারণ হিসাবে বায়ু, পানি, শব্দ ও নদীদূষণ চিহ্নিত হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত IQAir-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ একাধিক বছর ধরে বিশ্বের শীর্ষ দূষিত দেশের তালিকায় রয়েছে। ২০২১, ২০২২, ২০২৩ এবং ২০২৪ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল যথাক্রমে ১ম, ৫ম, ১ম এবং ২য়। একই সঙ্গে ২০২৪ সালে দূষিত শহর হিসেবে রাজধানী ঢাকার অবস্থান ছিল ৩য়। বিশেষত ২০২২ সালে ঢাকার গড় বস্তুকণা, পরিমাণ ছিল প্রতিঘনমিটারে ৮৬.৭ মাইক্রোগ্রাম, যা WHO নির্দেশিত সীমা (৫ মাইক্রোগ্রাম/প্রতিঘনমিটারে) এর প্রায় ১৭ গুণ বেশি। বায়ুদূষণ রোধ করা গেলে বাংলাদেশে প্রতিবছর ১ লাখ ২ হাজার ৪৫৬ জনের অকালমৃত্যু ঠেকানো সম্ভব। বায়ুদূষণের পর শব্দদূষণেও বিশ্বের শীর্ষ স্থানটি দখল করে আছে ঢাকা। জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনএপি) আওতায় ‘ফ্রন্টিয়ারস ২০২২ নয়েজ, ব্লেজেস অ্যান্ড মিসম্যাচেস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে জানা গেছে, বিশ্বে শব্দ দূষণের প্রথম স্থানে অবস্থান করছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল পারফরমেন্স ইনডেক্স (ইপিআই) এর ২০২৪ সালের বৈশ্বিক প্রতিবেদনে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৫তম। ঢাকার অবস্থা কতটুকু নাজুক তা বোঝা যায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে যেমন, জীবনের মান সূচকে শেষ দিক থেকে ৪র্থ, বিশ্বের সবচেয়ে ধীর গতির শহর, বায়ু দূষণের তালিকায় শীর্ষে, শব্দ দূষণেও শীর্ষে, দূষিত শহরের তালিকায় ৬ষ্ঠ, বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকার ১ম সারিতে, বিশ্বে যানজটের সূচকে ৫ নম্বরে, পৃথিবীর ৪র্থ ঘনবসতিপূর্ণ শহর, শব্দ দূষণেও শীর্ষে ঢাকা, স্বাস্থ্যসেবার সূচকে শেষের ২য় স্থানে। অর্থাৎ দেশের সার্বিক পরিবেশ পরিস্থিতি খুবই খারাপ।
নগরায়ণের দ্রুত প্রসারে আমরা যেমন উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, তেমনি পরিবেশের উপর এর বিরূপ প্রভাবও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথমত, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন: রাজনৈতিক দলগুলো যদি পরিবেশকে উন্নয়নের অংশ হিসেবে দেখে এবং নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহারে পরিবেশ সংরক্ষণকে গুরুত্ব দেয়, তাহলে নাগরিকের মধ্যেও সচেতনতা গড়ে ওঠে। পরিবেশবান্ধব শহর গঠনে শক্তিশালী নীতি ও পরিকল্পনা দরকার, যা কেবল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত থেকেই আসতে পারে। নির্বাচনের পূর্বে দলগুলো কথা দিয়ে থাকে যে, তারা রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট সহ নানাবিধ অবকাঠামোগত উন্নয়ন করবে। এসব উন্নয়নের সময় প্রচুর বায়ু দূষণ, শব্দ দূষণ, পানি দূষণ, ড্রেন বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতা সহ নানাবিধ জনদুর্ভোগ দেখা দেয়, তাই নির্বাচিত হওয়ার পূর্বেই কথা দিতে হবে যে পরিবেশের কথা মাথায় রেখেই উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে।
দ্বিতীয়ত, নীতিমালা প্রণয়ন ও আইনের মান্যতা: রাজনৈতিক দলগুলোর সরকার গঠনের ক্ষমতা থাকে। তারা চাইলে সবুজ শহর গঠনের জন্য গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিকীকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, সবুজখোলা জায়গা সংরক্ষণ-এইসব বিষয়ে কঠোর ও বাস্তবভিত্তিক নীতিমালা গ্রহণ করতে পারে। ইতোমধ্যে আমাদের অভিজ্ঞতা হয়েছে যে, রাজনৈতিক দলের ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে প্রভাবশালীরা মেয়াদ উত্তীর্ণ গণপরিবহন ব্যবসা করেছে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সিন্ডিকেট করছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে শহরের খোলা জায়গাগুলোর দখল করে দলীয় কার্যালয় বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বানানো হয়, এছাড়া রাজনৈতিক কর্মসূচিতে মাইকের প্রচুর ব্যবহার, শোডাউনে বাইক বা গাড়ি তীব্র হর্ন দিয়ে শব্দ দূষণ করেছে ইত্যাদি। এসব কার্যক্রম একদিকে যেমন আইনের পরিপন্থি অপরদিকে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি করে, ফলে জনপ্রিয়তা হারাতে হয়।
তৃতীয়ত, জনসম্পৃক্ততা ও সচেতনতা: রাজনৈতিক দলগুলো চাইলে তাদের সংগঠন ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে
জনগণের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা এবং পরিবেশ সুরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে যেমন- পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বৃক্ষ রোপণ, বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ করা, শব্দ দূষণ রোধ। এছাড়া স্কুল, কলেজ, ইউনিয়ন পর্যায়ে ক্যাম্পেইন করে জনগণকে বোঝাতে পারে-এই নগর আমাদের, এই পরিবেশ আমাদের, তাই আমাদেরই দায়িত্ব এটি রক্ষা করা।
চতুর্থত, অভিনব প্রকল্প ও উদ্ভাবন: পরিবেশবান্ধব শহর গড়ার জন্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, ছাদ বাগান, সৌরবিদ্যুৎ চালিত সড়কবাতি, রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং ইত্যাদি উদ্যোগ নিতে রাজনৈতিক দলগুলো ভূমিকা রাখতে পারে। জাতীয় বাজেটে এসব প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে বাস্তবায়ন সহজ হয়। পরিবেশ রক্ষা কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়। এটা সম্মিলিত দায়িত্ব। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর রয়েছে দিকনির্দেশনা দেওয়ার, নেতৃত্ব দেওয়ার এবং নীতি নির্ধারণের ক্ষমতা। তাই তারা যদি আন্তরিক হয়, পরিবেশবান্ধব নগর গঠনে আমরা অনেক দূর এগোতে পারি। পরিবেশকে উপেক্ষা করে উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত পরিবেশকে উন্নয়নের মূল অংশ করে তোলা। তাহলেই আমরা গড়ে তুলতে পারবো একটি স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ এবং পরিবেশবান্ধব নগর-আজকের জন্য, আগামী প্রজন্মের জন্য।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর আমাদের চাওয়া বেশি। আমরা আমাদের সমস্যা কমিয়ে নিয়ে আসার কথা কিন্তু আরও বাড়ছে। আমরা নিজেই আমাদেরকে নিয়ে সতর্ক নই। দেশে পরিবেশ নিয়ে নীতিমালা থাকলেও বাস্তবায়ন নেই। এজন্য দরকার ভালো সরকার। দেশে আইন কানুন করা হলেও তার কার্যকারিতা নেই। এজন্য জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছে। এখন তরুণরা কথার বাস্তবায়ন দেখতে চায়। দেশে পরিবেশের ছাড়পত্র টাকার বিনিময়ে হয়। এবার যারা সরকারে আসতে চায়, তাদেরকে জবাবদিহিতায় আনতে হবে, আগের মত টাকা দিয়ে কি পরিবেশের ছাড়পত্র পাবে? আমরা ভেবেছিলাম, অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয় গুলো নিয়ে একটা কিছু করে যাবে, দেখনি, দেখি কি করে। গণপরিবহন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে ধনীরা গণ পরিবহণ ব্যবহার করে। একটি প্রাইভেট কার ১০ জন মানুষের জায়গা দখল করে থাকে, এতে করে জ্যাম তো হবেই। শুধু দেখি প্রাইভেটের কারের ছড়াছড়ি। ঢাকা শহরের আর নিশ্বাস ফেলার জায়গা নেই। বাংলাদেশের প্রতি ইঞ্চি জায়গার পরিকল্পনা দরকার।
বিএনপির সহ স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক নিলোফার চৌধুরী মনি বলেন, অসম্ভব সম্ভাবনার দেশ বাংলাদেশ। কোন কিছু হয় না। চাঁদা তুলে অন্যায় কাজ করতে দেখেছি, কিন্তু গাছ লাগাতে দেখিনি। রাজনীতিবিদদের সব দোস অস্বীকার করবো না, হাট বাজার, ঘাট, নদী, বিল সব দখল করে কিন্তু এটির বুদ্ধি দেয় কে? তারা তো বিচারের আওতায় আসে না।
আমাদের পরিবেশ উপদেষ্টাকে দেখছি, পলিথিন নিয়ে কথা বলতে, ৯ মাসে কোন কার্যক্রম দেখিনি পরিবেশ বান্ধব করতে। রাজনীতিবিদরা রাজনীতিক বক্তব্য দেন, তবে তাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখে দিলে তারা সেটি দেখে এবং সিদ্ধান্ত নেয়। আওয়ামী রেজিম শুধু গাছ কেটেছে, গাছ লাগায়নি।
তিনি বলেন, ৯ মাসে কোন কাজ করেনি উপদেষ্টারা, আওয়ামী লীগের টাকা পয়সা সেফ করার জন্য কিন্তু ৫ আগস্ট আসেনি, এজন্য আমাদের সন্তানরা রক্ত দেয়নি।
আমার বাংলাদেশ ( এবি) পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার সানী আব্দুল হক বলেন, ইমারত সম্প্রসারণের নামে উঁচু নীচু ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, যেটি অপরিকল্পিত বোঝাই যায়। ইকোলজিকাল বাফার একটা জোন করা দরকার। জনবসতি পূর্ণ নগরে কোন বন নাই, অথচ বিশ্বের অন্য দেশে আছে। আমাদের নগর সবুজায়ন করতে ভাবনা কি, তার কোন দৃশ্য নেই। নগরের পিতার দোষ দিলেই হবে, আপনাকে নগরের প্রতি দরদ দেখাতে হবে, মনস্তাত্বিক পরিবর্তন আনতে হবে।
হিউম্যান এইড রিসার্চ ল্যাব এন্ড হাসপাতাল এর চেয়ারম্যান ডা শেখ মঈনুল খোকন বলেন, আমাদের মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নেই বললেই চলে। সমস্যা সমাধানে হিরোজম আছে, আপনারা ( রাজনৈতিক দল) যদি ভালো কাজ করেন ভোট দিয়ে মানুষ আপনাদের দ্বিধা করবে না।
অ্যাডভোকেট রাশেদুজ্জামান বলেন, ২০০ মমতো আইন আছে পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে, যা দক্ষিণ এশিয়ার কোন দেশে নেই। তার প্রয়োগ নেই।
সাংবাদিক ফয়সাল খান বলেন, রাজনীতিকে দল গুলো যদি সিদ্ধান্ত নেয় আমরা চাঁদা নিবো না, তাহলেই নগরের পরিবেশ ঠিক করা সম্ভব। পরিবেশ নষ্টের পেছনে শিল্প বর্জ্য, এটি খালের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। যার পেছনে রাজনৈতিক নেতারাই দায়ী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, দেশে ৫০ শতাংশ বিদেশি। বিদেশি গাছ দেশে যত বাড়বে, ততো পরিবেশের উপর ক্ষতি হচ্ছে। বিদেশি গাছের তো পরিচয় আমরা দিতে পারি না। অথচ একটি ছাতেন গাছ এটি আমাদের। ঢাকা শহরে উদ্যান গুলো দেশী পাখি দেখা যায় না, কারণ এই গাছ গুলো তাদের পরিবেশ বান্ধব নয়। এ দেশে তো গবেষকদের কোন দাম নেই। এতো কর্মসূচি নেয়, অথচ গবেষণা করা হয় না। বিজ্ঞানকে মূল্যায়ন না করলে কোনোভাবে পরিবেশ বান্ধব নগর করা সম্ভব নয়। বিজ্ঞানকে অবহেলা করে শুধু রাজনীতিবিদরা পরিবেশকে ঠিক করতে পারবে না।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা আব্দুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচন হয়নি, তবে পরিবেশ দেখেন তো? ফুটপাত দিয়ে হাঁটা যায়? তাহলে কীভাবে পরিবেশ ঠিক করা সম্ভব। পরিবেশ নিয়ে কাজ করার দায়িত্ব নগর পিতার, নগর পিতার নির্বাচিত হলেই পরিবেশ ফিরে আনতে কাজ করবে, আমরা সহযোগিতা করবো।
গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, ঢাকা শহরে দেখলেই বাস্তবিকতা বোঝা যায়, সামগ্রিক অবস্থা কেমন? পৃথিবীর অন্যদেশে যারা গিয়েছেন তারা পার্থক্য বুঝতে পারবেন। সকালে বের হলেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়, রাস্তায় জ্যামের কারণে। শুধু কি তাই, বায়ু দূষণ, পানি দূষণ, নিরাপদ পানি এই শহরে মানুষ পায় না। ৫৩ বছরে দেখছি শুধু লোপাট, লুটপাট, স্থানীয় প্রতিনিধিরা শুধু ভোট নিয়ে গেছে। ফুটপাতের দোকান ও রিকশা ডাম্পিং করা ওই সমস্যার সমাধান নয়। এক্ষেত্রে জবাবদিহি ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে।
মিশন গ্রীন বাংলাদেশ নির্বাহী পরিচালক আহসান রনি বলেন, পরিবেশ বান্ধব নগর কি ভাবে করতে পারি, সেটি কিন্তু নগর পিতারা ভাবেন না, কথা বলেন না। তারা মানুষরা উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেন, তবে মানুষ যদি না বাঁচে তবে সেই মানুষের হয়ে কাজ করবে কি করে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন বলেন, পরিবেশ পুরো ব্যাপারটা একটা রাজনৈতিক ব্যাপার। এটাকে আমরা একটা সেমিনারে সীমাবদ্ধ করে ফেলছি। যারা পরিবেশবান্ধব না থাকায় যারা ক্ষতি গ্রস্ত হচ্ছে তাদের কাছে বার্তা পৌঁছনো দরকার, যেমন বস্তি ও তৃণমূল এলাকায়। রাজনৈতিক দল গুলোর চাঁদাবাজি দুর হলেই পরিবেশ ফিরবে। যে বাস গুলো এই শহরে চলে পৃথিবীর খুব দরিদ্র দেশে চলে না। এগুলোও কিন্তু রাজনৈতিক নেতাদের ইশারায় চলে, এটা মুক্ত করা দরকার।
পরিবেশবাদী সংগঠন মিশন গ্রীন বাংলাদেশ এর পরিচালক সাংবাদিক কেফায়েত উল্লাহ শাকিল বলেন, আসন্ন বর্ষাকাল, এই ঢাকা শহরে জলাবদ্ধতার সম্মুখীন হচ্ছি প্রতিনিয়ত, গত ১৬ বছর ধরে এ বিষয় নিয়ে কথা বলে আসছি। কিন্তু কোন সমাধানের পথ আসেনি। তাই, বলা যায়, রাজনৈতিক নেতাদের সদিচ্ছা থাকলে পরিবেশ রক্ষা করা যাবে। শহর হবে দখল মুক্ত খাল, ফুটপাত ও প্লাস্টিক মুক্ত।
জনতার আওয়াজ/আ আ