রাজাকারের ছেলের শোরুম উদ্বোধন করলেন আ’লীগ এমপি - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ২:৪১, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

রাজাকারের ছেলের শোরুম উদ্বোধন করলেন আ’লীগ এমপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, মার্চ ২৬, ২০২৩ ১১:২৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, জুন ১০, ২০২৩ ৭:৫৮ অপরাহ্ণ

 

স্বাধীনতা দিবসে রাজাকারের সন্তানের শোরুম উদ্বোধন করলেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক। দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার নুরজাহানপুরের কুখ্যাত রাজাকার মমতাজের ছেলে সিঙ্গাপুর প্রবাসী জনির বাটা জুতার শোরুম উদ্বোধন করেন তিনি।

রবিবার (২৬ মার্চ) মহান স্বাধীনতা দিবসে ভক্ত-সমর্থকদের নিয়ে শোরুম উদ্বোধনকালে দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন যে, জনি তার অত্যন্ত কাছের ছোট ভাই। জাতীয় দিবসে এমন ঘটনায় সচেতন মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উদ্বুদ্ধ তরুণ প্রজন্মের সকলেই এর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন সংসদ সদস্য হয়ে স্বাধীনতা দিবসে রাজাকার রাজ্জাকের নাতি ও রাজাকার মমতাজের ছেলের শোরুম কীভাবে উদ্বোধন করলেন, প্রশ্ন রেখেছেন তারা।

মুক্তিযোদ্ধাদের বক্তব্যে জানা যায়, বিহারি পরিবারের সন্তান জনি। ১৯৭১ সালে বিহারি অধ্যুষিত নুরজাহানপুরে তাদের বাড়িতেই রাজাকারদের সবধরনের মিটিং ও আপ্যায়ন করা হতো। পাক বাহিনীর আরেক ক্যাম্প ছিল জনির দাদা রাজ্জাকের বাড়ি।

তার দাদা ও বাবা উপজেলা ও এর আশেপাশের এলাকায় ব্যাপক যুদ্ধাপরাধ সংগঠন করেছিল। এজন্য মুক্তিযুদ্ধের সময় জনির দাদা রাজ্জাক রাজাকার মুক্তিবাহিনীর হাতে নিহতও হন। মমতাজ রাজাকার মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সাথে থেকে এলাকার হিন্দু ও উপজাতিদের উপর নৃশংস মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধ সংগঠন করেছিল।

এ ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের অনেক নেতাকর্মী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখালেও সাংবাদিকদের কাছে কিছু বলতে সাহস পাননি।

বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ঘোড়াঘাট উপজেলার একজন নেতা জানান, জনির বাপ-দাদা একাত্তরে কী করেছে তা আমরা মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্মরা স্বচক্ষে না দেখলেও তাদের নৃশংসতার অনেক কাহিনী ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি। উপজেলার একটি খসড়া রাজাকার লিস্টে জনির বাবার নামও দেখেছি। এ ঘটনার বিষয়ে তিনি উপজেলা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে কথা বলবেন বলে জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জানান, রাজাকার পরিবার ও জামাত-শিবির-বিএনপি থেকে আসা নতুন নেতাদের প্রভাবের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না, কারণ তারা এমপির খুব কাছের মানুষ। ইদানিং এমপির সাথে জনির ঘনিষ্ঠতার কারণে তার পরিবার ও তার বিহারি আত্মীয়-স্বজন এলাকায় খুব পাওয়ারফুল হয়ে উঠেছে। তারা সকলেই জামাতের প্রত্যক্ষ রাজনীতির সাথে জড়িত। বিগত দিনে জনির পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন সব সময় আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে সকল সহিংসতায় জড়িত ছিল।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এক যুবলীগ কর্মী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, এমপির এই বিষয় নিয়ে কেউ কথা বললে তাকে মিথ্যা মামলায় জেলে যেতে হবে নয়তো এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে হবে। ইতোপূর্বে এমন ঘটনার কয়েকটি নজির রয়েছে। তিনি খুব প্রভাবশালী এমপি, এর আগেও তার জুলুম ও অনিয়মের বিষয় নিয়ে কথা বলে বিচার চেয়ে কখনো দল থেকে কোন বিচার পাওয়া যায়নি, উল্টা মিথ্যা মামলা মারধর ও হয়রানির শিকার হতে হয়। আমাদের বউ-বাচ্চা, মা-বাবা পরিবার নিয়ে এলাকায় থাকতে হলে এখন আমরা এমপির কোন বিষয় নিয়ে কথা বলা বাদ দিয়েছি।

আওয়ামী লীগের আরেক নেতা জানান, দল যদি সঠিকভাবে তদন্ত করে তবে বিহারিদের সাথে শিবলী সাদিকের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও তারেক জিয়ার বিশ্বস্ত বাদশা সরকারের গোপন মিশনের বিষয়টিও সামনে আসবে। সেই সাথে রাজাকার পুত্র সিঙ্গাপুর প্রবাসী বিহারি জনির সাথে এমপির কীসের আন্তরিকতা সেই বিষয়টিও সামনে আসবে। খোঁজ নিয়ে দেখুন ঘোড়াঘাট উপজেলায় অনেক রাজাকারের সন্তান এমপি শিবলীর ঘনিষ্ঠজন হয়ে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা হয়ে বসে আছে। রাজাকার সন্তানরা এমপির আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে দলের দুর্দিনের আসল নেতাকর্মীদের উপর স্টিমরোলার চালাচ্ছে, ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারছে না।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার নিজস্ব তত্ত্বাবধানে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন বলে সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ