রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি নাহিদ ইসলামের
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩০, ২০২৬ ১০:০৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩০, ২০২৬ ১০:০৬ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
জাতীয় সংসদে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি রাষ্ট্রপতির নৈতিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কড়া সমালোচনা করেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব বক্তব্য দেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
নাহিদ ইসলাম বলেন, তিনি রাষ্ট্রপতির ভাষণ শোনেননি কিংবা পড়েননি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সেই ভাষণ এবং ভাষণ দেওয়ার সুযোগকেও তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানান।
তিনি দাবি করেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবনে অবস্থান করা কিংবা জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।
রাষ্ট্রপতির অতীত ভূমিকার সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, দুদকের কমিশনার হিসেবে তাকে তিনটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় শাস্তি নিশ্চিত করা, পদ্মা সেতু দুর্নীতির অভিযোগ থেকে আওয়ামী লীগকে অব্যাহতি দেওয়া এবং ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দিন সরকারের সময়ে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো বাতিল করাই ছিল সেই উদ্দেশ্য।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নির্দেশে সাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে একটি বিচারিক তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়, যা ২০০১ সালের সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন দেয়। ওই প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল এবং আওয়ামী লীগ তা রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতি ইসলামী ব্যাংককে দুর্বল করার প্রক্রিয়ার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন, যার ফলে বিপুলসংখ্যক আমানতকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এ ছাড়া তিনি জুলাইয়ের গণহত্যার সময় রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এই দুর্নীতিবাজ, অপদার্থ ও মিথ্যুক রাষ্ট্রপতিকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।’
বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি প্রশ্ন তোলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রপতির অপসারণ দাবি করেছিল। তখন বিএনপি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার কথা বলে তার পক্ষে অবস্থান নেয়। এখন যখন একটি নির্বাচিত সরকার রয়েছে, তখন কেন তাকে অপসারণ করা হচ্ছে না—সেই প্রশ্নও তোলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ।
জনতার আওয়াজ/আ আ