রাষ্ট্রপতির চেয়ারে বসে থাকার অধিকার চুপ্পুর নাই: মাহমুদুর রহমান - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৬:৪৯, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

রাষ্ট্রপতির চেয়ারে বসে থাকার অধিকার চুপ্পুর নাই: মাহমুদুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, নভেম্বর ৯, ২০২৪ ৮:৫৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, নভেম্বর ৯, ২০২৪ ৮:৫৪ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক

রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ্য করে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে গেছেন, আবার পরবর্তীতে তিনি বলেন, তার পদত্যাগ পত্র তার কাছে নাই বা তিনি পান নাই । মিথ্যা কথা বলে সে সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। সে তার শপথ ভঙ্গ করেছে। ওই চেয়ারে থাকার তার আর কোন বৈধতা নাই।

শনিবার (১১ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে নাগরিক ফোরামের উদ্যোগে সংবিধান অনুলিখন: সংশোধন: জাতীয় ঐক্যমত শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মাহমুদুর রহমান বলেন, যেদিন স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা চুপ্পুকে রাষ্ট্রপতি বানিয়েছেন সেই দিনই সংবিধান নষ্ট হয়ে গেছে। একজন রাষ্ট্রপতি যখন বলে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে গেছেন, আবার পরবর্তীতে তিনি বলেন, তার পদত্যাগ পত্র তার কাছে নাই বা তিনি পান নাই । যে এত বড় মিথ্যা কথা বলতে পারে তাহলে সে সংবিধান লংঘন করেছেন এবং তার শপথ ভঙ্গ করেছেন। ওই চেয়ারে তার থাকার আর কোন বৈধতা নেই। এই সংবিধান একটি পরিবারের পক্ষের দলিল। এই সংবিধান শুধুমাত্র একটি পরিবারের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এই সংবিধানে বলা হয়েছে এই সংবিধান অপরিবর্তনীয়। এই সংবিধানে বলা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী সারাজীবন ক্ষমতায় থাকবে। তার মানে বাংলাদেশে তার পিতা শেখ মুজিব যেমন ৭২ সালে বাকশাল কায়েম করেছিলো, তেমনি তার কন্যাও এই সংবিধান অনুযায়ী অঘোষিত বাকশাল কায়েম করেছিলো।

তিনি বলেন, এই সংবিধানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্সিয়াল করা হয়েছিল; আবার হয়ে গেল পার্লামেন্টারি সংবিধান যাহা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। ভুয়া নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ভয়ানক ফ্যাসিস্ট সরকার গঠন করে দীর্ঘদিন বাংলাদেশে রাজত্ব কায়েম করেছেন। বাংলাদেশের এখন প্রেসিডেন্সিয়াল সরকারে ফিরে যাওয়ার সময় এসেছে।

তিনি আরো বলেন, আমেরিকায় চার বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়, সেটি দুই বারের বেশি নয়। আমাদের বাংলাদেশেও ২ ট্রামের বেশি কোন ব্যক্তি নির্বাচন করতে পারবেন না। সেজন্য বাংলাদেশেও প্রেসিডেন্সিয়াল বিষয়টি নিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশে পার্লামেন্ট অর্থাৎ ক্ষমতা বিভাজনের বিষয়টি এখন সময়ের দাবি। যারা এক্সপার্ট আছেন তারা এগুলি স্টাডি করবেন, আমেরিকা কিভাবে চলে-ফ্রান্স কিভাবে চলে সেই বিষয়গুলি সামনে নিয়ে আসতে হবে।

মাহমুদুর রহমান বলেন, এখন বাংলাদেশে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে হবে, এটি রাজনৈতিক দলের নেতারা মানবেন কিনা সেটা জানি না। জিয়াউর রহমান বলেছিলেন সংবিধানে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস এবং আস্থা এবং ধর্মীয় বিশ্বাস সংবিধানে আমাদের থাকতে হবে। সেটা যদি না থাকে তাহলে কিসের সংবিধান। বাংলাদেশের ৯৫ ভাগ মানুষ মুসলিম, আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস যদি না থাকে সেই সংবিধান আমাদের নয়। অনন্তকাল প্রধানমন্ত্রী একজন ব্যক্তি থাকবেন, এটি বাদ দিতে হবে। সংসদে ৬০০ জন এমপি সেটিও বাতিল করতে হবে। বর্তমান সংবিধানকে হাসিনার পার্লামেন্ট বলা হয়। তাহলে নতুন সংবিধান করতে বাধা কোথায়। যে রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন যে প্রস্তাবগুলো বলা হলো প্রেসেন্টিয়াল সরকার সংবিধান করবেন কিনা জানি না।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে একটি বিপ্লবী সরকার হতে পারে বা বিপ্লবী রাজনৈতিক সরকার হতে পারে। তাহলে দেশের সকল রাজনৈতিক দলগুলি ঐক্যের ভিত্তিতে হতে পারে। তাহলে আগামীতে একটি চমৎকার সরকার বাংলাদেশে হবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। সেটি সকল দলের ঐক্যের ভিত্তিতে হতে হবে তা না হলে সম্ভব হবে না।

সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাড, আবেদ রেজা বলেন, নাগরিক ফোরাম একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জাতি একটি সুস্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করতে পারবে এই আলোচনার মাধ্যমে। ১৬ টি বছর বিএনপির ১০০০ এর মতো মানুষ শহীদ হয়েছেন বিএনপি নেতা ইলিয়াস সহ এক হাজারের বেশি মানুষ গুম হয়েছে। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা- শ্রমজীবী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকার ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। পৃথিবীর অনেক দেশে সংবিধান হয়েছে সেখানে পরিবর্তন হয়েছে আমাদের দেশে সংবিধান নানাভাবে বিগত সরকার কাটাছেঁড়া করেছে।

তিনি আরো বলেন, ছাত্র-জনতা বর্তমান রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ চেয়ে রাজপথে আন্দোলন করেছেন কিন্তু বিএনপি বলেছেন এই রাষ্ট্রপতি অপসারণ হলে কিভাবে রাষ্ট্র চলবে এই প্রশ্নটির কিভাবে সূরাহা হবে। এই বিষয়ে জাতীয় ঐক্যের রূপরেখা করেছেন ছাত্র-জনতা আলোচনা হয়েছে। সংবিধান সংস্কার করতেই হবে এ বিষয়ে কোনো দিমত নয়-বিভক্ত নয়।

সভাপতির বক্তব্যে সাবেক বিচারপতি এ এফ এম আব্দুর রহমান বলেন, ৫ই আগস্ট আমাদের বিপ্লব হয়েছে, সংবিধান কি নতুন প্রণয়ন করতে চান, না সংস্কার করতে চান। যদি সংবিধানে থাকে, তাহলে সংবিধান সংস্কার করতেই হবে। আর যদি না থাকে তাহলে সংবিধান নতুন করে প্রণয়ন করতে হবে। যখন দেশে একটি স্বাধীনতা বা লিবারেশন হয় সেখানে নতুন করে সংবিধান প্রণয়ন করতে হয়। কারণ পাঁচ আগস্ট বিগত স্বৈরাচারী সরকার পালিয়ে গেছে। দেশের সংসদ শূন্য হয়েছে, এখানে নতুন করে সংবিধান প্রণয়ন করা প্রয়োজন। আপনারা একটি কমিটি তৈরি করেন, নতুন সংবিধান প্রণয়ের জন্য এবং সেই সংবিধানের আলোকে আগামী নির্বাচন হবে।

সাবেক বিচারপতি এএফএম আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাড আবেদ রেজা, বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিশেষ সহকারী অ্যাড. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সাবেক সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্টার ও জেলা জজ ইফতেদার আহমেদ প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ