রাষ্ট্র মেরামতে তারেক রহমানের ঘোষণা এখন ইতিহাসের অংশ - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১:৫৫, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

রাষ্ট্র মেরামতে তারেক রহমানের ঘোষণা এখন ইতিহাসের অংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, ডিসেম্বর ২১, ২০২২ ৩:১১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, ডিসেম্বর ২১, ২০২২ ৩:১১ অপরাহ্ণ

 

আমিরুল ইসলাম কাগজী

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর পরপরই একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করার মধ্য দিয়ে বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে উঠে আসেন বৃটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল। রাজা ষষ্ঠ জর্জ ১৯৪০ সালের ১০ মে চার্চিলকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই অ্যাডলফ হিটলারের জার্মান সেনাবাহিনী নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম ও লুক্সেমবার্গ আক্রমণ করে যেটা ছিলো মিত্রবাহিনীর ওপর প্রথম বড় আক্রমণ। এরও দুদিন পর জার্মান বাহিনী ফ্রান্সে প্রবেশ করে। ব্রিটেন তখন হিটলারের জার্মান সেনাবাহিনীকে একাই প্রতিহত করে চলেছে। এরফলে রক্তক্ষয়, সৈন্য ক্ষয়, সম্পদ ক্ষয় হচ্ছে দেখে যুদ্ধ থেকে বৃটেনকে সরে আসার জন্য হাউস অব কমন্সে চার্চিলের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। তখন তিনি সাবওয়েতে টিউবে চড়ে এবং শপিং মলে প্রবেশ করে সাধারণ মানুষের কাছে জিজ্ঞেস করতে থাকলেন, বৃটেনকে যুদ্ধ করা উচিৎ নাকি বিরত থাকা উচিৎ। সেখানে তিনি বৃটেনবাসীর কাছ থেকে যুদ্ধের পক্ষে মত পেলেন। কালবিলম্ব না করে তিনি হাউস অব কমন্সে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। তৎক্ষণাৎ গঠন করলেন সর্বদলীয় মন্ত্রিসভা। বুদ্ধিমান ও প্রতিভাবানদের নিযুক্ত করলেন গুরুত্বপূর্ণ সব পদে।
আর প্রখর বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তিনি জার্মানির নাৎসি বাহিনির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়াকে মিত্র বাহিনিতে সম্পৃক্ত করতে সক্ষম হন। ফল সবার জানা।
এই চার্চিল বলতেন, একজন রাজনীতিবিদের ভিশন থাকতে হবে। তাকে আগামীকাল, পরের সপ্তাহে, পরের মাসে এবং পরের বছর কি হতে চলেছে সে সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বানী করার ক্ষমতা থাকতে হবে। এবং যদি সেই ঘটনা নাও ঘটে তবে তার ব্যাখ্যা করারও ক্ষমতা থাকতে হবে।
ডিসেম্বর ১৯, ২০২২, ঢাকার ওয়েস্ট ইন হোটেলে সরকার বিরোধী আন্দোলনে শরিক দলের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে জাতির সামনে ‘রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের রূপরেখা’ উপস্থাপন করে ঠিক এমনই এক ঐতিহাসিক রাজনীতিবিদের দায়িত্ব পালন করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে যেখানে গণতন্ত্রের লেশমাত্র নেই, সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবরুদ্ধ, নিত্যপণ্যের আকাশ ছোঁয়া মূল্যের কষাঘাতে জীবন ওষ্ঠাগত এর বিপরীতে সীমাহীন দুর্নীতি করে টাকার পাহাড় নির্মাণ, ব্যাংক বীমা লুট করে একটি গোষ্ঠীর হাতে দেশের ৯৫ ভাগ সম্পদ গচ্ছিত, বিদেশে হাজার হাজার কোটি ডলার পাচার করা হচ্ছে। বিরোধীদলকে সভাসমাবেশে বাধা প্রদান করা, শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বিনা নোটিশে গ্রেপ্তার করা, বিরোধী নেতাকর্মীদের হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি-ধমকি দিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রতিবাদ করলে পিঠে পড়ে পুলিশের লাঠি-গুলি। এখানে সত্য বলা কঠিন, সত্য বললে দেওয়া হয় ডিজিটাল আইনে মামলা।
কবি গুরু রবি ঠাকুরের ভাষায় বলতে হয় —
রক্তের অক্ষরে দেখিলাম
আপনার রূপ,
চিনিলাম আপনারে
আঘাতে আঘাতে
বেদনায় বেদনায়;
সত্য যে কঠিন,
কঠিনেরে ভালোবাসিলাম,
সে কখনো করে না বঞ্চনা।
সত্য কথা গুলো বলে যেতে হবে, যত বাধা আসুক দলের করণীয় লিখে রেখে যেতে হবে জাতির সামনে। সেই প্রতিজ্ঞায় তারেক রহমান বহু বাধা বিঘ্ন অতিক্রম করে দেশের বর্তমান বাস্তব অবস্থা তুলে ধরে আগামী দিনে সরকারে গেলে দলের করণীয় নির্ধারণ করেছেন। রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারে তুলে ধরেছেন বিএনপির ২৭ দফা কর্মসূচি।
শহিদ প্রেসিডন্ট জিয়াউর রহমান ঘোষিত ‘১৯ দফা কর্মসূচি এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’ এর আলোকে প্রনয়ন করা হয়েছে এই রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের রূপরেখা।
ভূমিকায় বলা হয়েছে; বর্তমান কর্তৃত্ববাদী সরকার বাংলাদেশ রাষ্ট্রকাঠামোকে ভাঙ্গিয়া চুরমার করিয়া ফেলিয়াছে। এই রাষ্ট্রকে মেরামত ও পুনর্গঠন করিতে হইবে। দেশের জনগণের হাতেই দেশের মালিকানা ফিরাইয়া দেওয়ার লক্ষ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে জয়লাভের পর বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকার হটানোর আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলসমূহের সমন্বয়ে একটি ‘জনকল্যাণমূলক জাতীয় ঐকমত্যের সরকার’ প্রতিষ্ঠা করা হইবে। উক্ত ‘জাতীয় সরকার’ এই ২৭ দফা রাষ্ট্র রূপান্তরমূলক সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করিবে।
এমন জাতীয় সরকারের দাবি উঠেছিলো সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বছরেই। যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী দলগুলো জোটবদ্ধ হয়ে দাবি তুললেও তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকার প্রধান শেখ মুজিবর রহমান আমলে নেননি। যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশের পুনর্গঠনে সব দল অবদান রাখতে চাইলেও তাদের অগ্রাহ্য করা হলো। ফল কী দাঁড়ালো? চুরি, চামারি, ব্যাংক ডাকাতি, লুটপাট, দুর্নীতিতে আকন্ঠ নিমজ্জিত বাংলাদেশ পরিণত হয় তলাবিহিন ঝুড়িতে। দীর্ঘ ৫০ বছর পর এবার সেই আওয়ামীলীগ সরকারের দুর্নীতি, অপশাসন, নির্যাতন, নিপীড়ন, গুম, খুন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে জোট বেঁধেছে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোট এবং গণতন্ত্র মঞ্চ। বিএনপির পক্ষ থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা দিয়েছেন,আন্দোলনের মাধ্যমে এই ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটিয়ে একটি দলনিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের পর সব দল নিয়ে গঠিত হবে ‘জাতীয় সরকার’।
দেশকে এগিয়ে নিতে সেই জাতীয় সরকার যেসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে তার একটা পরিকল্পনার নাম ‘রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখা’।
এই রূপরেখা যারা ভালো মনে করবেন, তারা সবাই শামিল হতে পারেন চলমান সরকার বিরোধী আন্দোলনে। এ রূপরেখার প্রধান আকর্ষণ জগণের ভোটের অধিকার আদায় করা। রাষ্ট্রের মালিক জনগণ, সেই জনগণ আজ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে না। কখনও তাদের ভোট ছাড়াই সরকার গঠিত হয়ে যায়, আবার দিনের ভোট আগের রাতেই কেটে ছিড়ে বাক্স ভরে সরকার গঠন করা হয়ে যায়। এই ভোট চুরি, ভোট ডাকাতি এবং বিনা ভোটের সরকার গঠনের পথ বন্ধ করতেই ঐতিহাসিক এই দলিল জনসমক্ষে হাজির করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান।
রূপরেখা হয়তো ইতিমধ্যে সবাই পড়েছেন, বিশ্লেষন করেছেন,তারপরও এর কয়েকটি দফা বিশেষভাবে ব্যাখ্যার দাবি রাখে। সেদিকে সামান্য দৃষ্টিপাত করছি।
প্রথম দফায় বলা হয়েছে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্য সংবিধান এমন ভাবে কাঁটাছেঁড়া করেছে যা জনকল্যাণে বেমানান। একটি ‘সংবিধান সংস্কার কমিশন’ গঠন করে বিতর্কিত ও অগণতান্ত্রিক সংশোধনী ও পরিবর্তনসমূহ পর্যালোচনা করে সংশোধন করা হবে।
বলা হয়েছে, প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির বিপরীতে সকল মত ও পথের সমন্বয়ে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতিমূলক ‘রেইনবো নেশন’ প্রতিষ্ঠা করা হইবে। এই জন্য অব্যাহত আলোচনা, মতবিনিময় ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎমুখী এক নতুন ধারার সামাজিক চুক্তিতে পৌঁছাইতে হইবে। এই জন্য একটি ‘ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ গঠন করা হইবে।
গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় এবং স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে স্থায়ী সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে একটি ‘নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থা প্রবর্তন করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
জনগণ সকল ক্ষমতার উৎস। তাদের মতামতের ভিত্তিতে গঠিত হবে সরকার। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকার গঠনে জনগণের সেই অংশগ্রহণ আজ আর নেই। বিগত ৩০ বছরের অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত সত্য যে কোনো দলীয় সরকারের অধীনে জনগণ অবাধে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে না। এজন্য এই রূপকল্পে ‘নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ তত্তবাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা’ স্থায়ীরূপ দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এই অঙ্গীকার বাস্তবায়িত হলে জনগণ যুগ যুগ ধরে স্মরণ করবে তারেক রহমানকে ।
ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভার নির্বাহী ক্ষমতার পূণর্বিন্যাস অঙ্গীকার করা হয়েছে। জনগণের কল্যানে রাষ্ট্রের এই তিনটি বিভাগকে যে স্বাধীনভাবে কর্তব্য পালন করা উচিৎ ক্ষমতাসীনরা সেটা বেমালুম ভুলে যায়। এই তিন প্রতিষ্ঠান যদি স্বাধীনভাবে কাজ করে তাহলে কোনো সরকার ফ্যাসিস্ট হতে পারে না। রাষ্ট্রের অন্য দুটি অঙ্গ সরকারের লাগাম টানতে সক্ষম। সেদিক থেকে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার এ অঙ্গীকার নিঃসন্দেহে যুগান্তকারী।
‘পরপর দুই টার্মের অতিরিক্ত কেউ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করিতে পারিবেন না। আমাদের বর্তমান সংবিধানে রাষ্ট্রপতির দুই টার্মের পর দায়িত্ব পালন নিবারিত কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর বেলায় নিরব। প্রধানমন্ত্রীকে দুই মেয়াদে আটকাতে পারলে তাঁর স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ রোধ করা কিঞ্চিত সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ‘উচ্চকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার কথা বলা হয়েছে। বিলম্বে হলেও এই চিন্তা মাথায় আসা প্রাজ্ঞ রাজনীতির সূত্রপাত বলা যায়। এব্যবস্থা প্রবর্তন করতে পারলে জাতীয় সংসদের এবং সরকারের একচেটিয়া ক্ষমতাচর্চায় লাগাম টানা সম্ভব হবে।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বর্তমানে যে অবস্থায় আছে তা আক্ষরিক অর্থে একজন সংসদ সদস্যের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ। এটা সংশোধন করা উচিত।
নির্বাচন কমিশনকে একটি স্বাধীন শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করার পক্ষে আইনে সংশোধনী আনার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এজন্য রাজনৈতিক দলসমূহের মতামত এবং বিশিষ্টজনের অভিমতের ভিত্তিতে স্বাধীন, দক্ষ, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও দৃঢ়চিত্ত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি কার্যকর নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
এই দফায় ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার বাতিল করা হইবে’ বলা হয়েছে যা খুবই জরুরি। গ্রাম পর্যায়ে রাজনীতির দাপট দেখানোর কোনো যুক্তি থাকতে পারে না। এই প্রতীক থাকার কারণে দ্বন্দ্ব ফ্যাসাদ পরিবারকেও আক্রান্ত করেছে। পারিবারিক শান্তি বিনষ্ট করেছে। এই আইন বাতিল করলে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন তারেক রহমান।
পাঁচ বছর পরপর বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ভোটদানের সুযোগ পায়। সেটাকে তারা উৎসব হিসেবে নিতে চায়। ফলে সেই উৎসব হতে হবে সহজ সরল প্রক্রিয়ায়। সেখানে কেন ইভিএম নামক মেশিনের ঝামেলা থাকবে? ইভিএম বাতিলের চিন্তা দেশবাসী সানন্দচিত্তে গ্রহণ করবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
দশম দফা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে বাংলাদেশের সংবিধান ও মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। বর্তমান বিচারব্যবস্থার সংস্কারের জন্য একটি ‘জুডিশিয়াল কমিশন’ গঠন করা হবে। জুডিশিয়াল সার্ভিসে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ, বদলি, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরিসহ চাকুরীর শৃঙ্খলাবিধান সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক পরিচালিত হবে। বিচার বিভাগের জন্য সুপ্রিম কোর্টের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি পৃথক সচিবালয় থাকবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অভিশংসন প্রশ্নে সংবিধানে বর্ণিত পূর্বেকার ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল’ ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করা হবে। এই জন্য সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনয়ন করা হবে। দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠিয়া কেবল জ্ঞান, প্রজ্ঞা, নীতিবোধ, বিচারবোধ ও সুনামের কঠোর মানদণ্ডে যাচাই করে বিচারক নিয়োগ করা হবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগের লক্ষ্যে সংবিধানের ৯৫(গ) অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট যোগ্যতা ও মানদণ্ডসম্বলিত ‘বিচারপতি নিয়োগ আইন’ প্রণয়ন করা হইবে।
মিডিয়ার সার্বিক সংস্কারের লক্ষ্যে একটি ‘মিডিয়া কমিশন’ গঠন করার কথা বলা হয়েছে। যেখানে থাকবেন সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি, মিডিয়া সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী এবং বিজ্ঞ, অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য মিডিয়া ব্যক্তিরা। সৎ ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হইবে; এই লক্ষ্যে আইসিটি অ্যাক্ট ২০০৬–এর প্রয়োজনীয় সংশোধন ও ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট ২০১৮ বাতিল করার অঙ্গিকার আছে। চাঞ্চল্যকর সাগর-রুনি হত্যাসহ সকল সাংবাদিক নির্যাতন ও হত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে।
দুর্নীতির ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না। বিগত দেড় দশকব্যাপী সংঘটিত অর্থ পাচার ও দুর্নীতির অনুসন্ধান করে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা এবং শ্বেতপত্রে চিহ্নিত দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দেশের বাহিরে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফেরত আনার প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন ও দুর্নীতি দমন আইন সংস্কারের পাশাপাশি পদ্ধতিগত সংস্কারের মাধ্যমে ‘দুদকের’ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। সংবিধান অনুযায়ী ‘ন্যায়পাল’ নিয়োগ করা হবে।
সর্বস্তরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করা হয়েছে। মানবিক মূল্যবোধ ও মানুষের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং অমানবিক নিষ্ঠুর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে। গুম খুন বাংলাদেশে একটি আতঙ্কের নাম। কখনও পোশাকধারী কখনও সাদা পোশাকে তুলে নেওয়ার পর তাকে আর খঁজে পাওয়া যায় না। আইনপ্রয়োগকারি কোনো সংস্থা গুমের কথা স্বীকার করে না। এটা যে কত বেদনাদায়ক তা কেবল ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বুঝতে পারে। গত এক দশকের এমন গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের বিচারের অঙ্গিকার করা হয়েছে।
শহিদ প্রেসিডন্ট জিয়াউর রহমানের নীতি অনুসরণ করে বলা হয়েছে বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ভূখণ্ডের মধ্যে কোনো প্রকার সন্ত্রাসী তৎপরতা বরদাশত করা হবে না এবং কোনো সন্ত্রাসবাদী তৎপরতা আশ্রয়-প্রশ্রয় পাবে না। সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহারের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বিরোধী শক্তিকে দমন করে চলেছে। তারা প্রকৃত সন্ত্রাসবাদ দমন না করে বিরোধীদলের গায়ে সন্ত্রাসবাদের তকমা লাগিয়ে জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে। সরকারের এই অপতৎপরতা বন্ধ করা গেলে প্রকৃত সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করা এবং আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান করা সম্ভব হবে।
গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গিকার করা হয়েছে অন্যান্য ধর্মে মানুষদের জন্য। বলা হয়েছে প্রত্যেক ধর্মাবলম্বী নিজ নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ অধিকার ভোগ করবেন। পাহাড় কিংবা সমতলের ক্ষুদ্র বৃহৎ জনগোষ্ঠী সমান অধিকার ভোগ করবে।
‘রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখার’ ২৭ টি দফার সব কটি যদি আন্তরিকতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হয় তাহলে জনগণ গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিল তাদের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে। এই রূপরেখা উপস্থাপন অনুষ্ঠানে যারা উপস্থিত হয়েছিলেন তাদের অনেকেই ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, কেউ ছিলেন রণাঙ্গনের লড়াকু বীর মুক্তিযোদ্ধা। তারা ইতোমধ্যে বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলনে শরিক হওয়ার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন।
তারেক রহমানের ‘রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতে ২৭ দফা’ কর্মসূচি ঘোষণার পর আওয়ামীলীগ নেতারা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ।এর ফলে বুঝা যায় ২৭ দফা কর্মসূচি আওয়ামীলীগ নেতাদের গাত্রদাহ ঘটাতে সক্ষম হয়েছে। এ প্রসঙ্গে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের একটি বিখ্যাত উক্তি উদ্ধৃত করার লোভ সংবরণ করতে পারলাম না। তিনি বলতেন, যদি দেখতাম আনন্দবাজার পত্রিকা আমার বক্তব্য সমর্থন করে সম্পদকীয় প্রকাশ করেছে তাহলে বুঝতাম আমি সঠিক পথে হাটছি না। আর সমালোচনা করলে বুঝতাম সঠিক পথে আছি।
অতএব তারেক রহমানের স্বপ্নের ২৭ দফা কর্মসূচি সঠিক লক্ষে পৌছঁবে বলে মনে হয়।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ