রূপগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীদের দোকান বন্ধ করে দিয়েছে আ’লীগ ও যুবলীগ - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ১:৫৯, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

রূপগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীদের দোকান বন্ধ করে দিয়েছে আ’লীগ ও যুবলীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৩ ৮:৪১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৩ ৮:৪১ অপরাহ্ণ

 

এম আর কামাল, নিজস্ব প্রতিবেদক
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিএনপির পদযাত্রায় অংশ নেওয়ায় ওই দলের নেতা-কর্মীদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় আ’লীগ ও যুবলীগের সন্ত্রসীরা। বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিএনপির নেতা-কর্মীদের মারধর করে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অন্তত পাঁচটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলতে বাধা দিয়েছেন। এর মধ্যে টাকা দিয়ে ও ভবিষ্যতে কোনো কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাত দিনে চারটি দোকান খোলা হয়েছে। তবে শনিবার (১৮ জানুয়ারী) দুপুর পর্যন্ত মুড়াপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর হোসেনের একটি করাতকল খুলতে দেওয়া হয়নি।
রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির পাঁচ নেতা-কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১১ ফেব্রুয়ারি মুড়াপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের মুড়াপাড়া বাজারে পদযাত্রা করে। পদযাত্রা শেষে বাড়ি ফেরার পথে ইউপি যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হকের নেতৃত্বে আ’লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ইউপি স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল মিয়া ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী মো. খোকনকে মারধর করেন। এরপর ওই দিন দুপুরে ইউপি যুবলীগের সভাপতি তাওলাদ হোসেন মুড়াপাড়া বাজারে থাকা ইউপি যুবদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. জুলহাস মিয়ার কাঁচামালের দোকান বন্ধ করে দেন। এ সময় তাঁকে মারধর করা হয়। পরে জুলহাসকে আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এদিকে তাওলাদের অনুসারীরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর হোসেনের একটি করাতকলে তালা ঝুলিয়ে দেন। এ ছাড়া ইউপি শ্রমিক দলের সভাপতি শহীদ মিয়ার কাঁচামালের দোকানও বন্ধ করে দিয়েছেন আ’লীগের লোকজন।
ইউপি যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হোসেন বলেন, আমরা ভেবেছিলাম, পদযাত্রার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এমনটা হচ্ছে। কিন্তু পরে দেখা গেল, তারা (আওয়ামী লীগ) এভাবে বাজারে থাকা বিএনপির অন্তত ছয় নেতা-কর্মীর দোকান বন্ধ করে দিয়েছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজের সন্তানকে বিদ্যালয় থেকে আনতে যাওয়ার সময় ইউপি যুবদলের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি সোলাউদ্দিনকে মারধর করে এবং বাজারে থাকা তাঁর হোমিওপ্যাথি ওষুধের দোকান বন্ধ রাখতে বলে। পরে যুবলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের চাহিদামতো টাকা দিয়ে কেউ কেউ দোকান খুলেছেন।’
এ বিষয়ে সালাউদ্দিন বলেন, বিকেলে আমার সন্তানকে বিদ্যালয় থেকে বাসায় নিয়ে আসতে গেলে পথে কয়েকজন যুবক আমার মোটরসাইকেলের গতি রোধ করেন। এ সময় তাঁরা আমাকে বিএনপি ছেড়ে দিতে বলে চড়থাপ্পড় দেন। পরে আমার মোটরসাইকেলটি ভাঙচুর করে বাজারে থাকা আমার হোমিওপ্যাথির দোকানটি বন্ধ রাখতে বলা হয়। ওই যুবকদের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি তাঁদের নাম বলতে চাই না। এতে বিপদ বাড়বে। মারধরের পর দোকান বন্ধ রেখেছিলেন বিএনপির দুই নেতা-কর্মী। পরে তাঁরা টাকা দিয়ে দোকান খুলে নিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁরা এই প্রতিবেদককে বলেন, তাঁরা ১০ হাজার করে টাকা দিয়েছেন। এ ছাড়া ভবিষ্যতে বিএনপির কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়ার শর্তে দোকান খুলতে দেওয়া হয়েছে।
জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব গোলাম ফারুক ওই ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি বলেন, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি তাওলাদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হকের নেতৃত্বে এক সপ্তাহ ধরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ওপর এভাবে অত্যাচার-নির্যাতন চলছে। তাঁরা দোকান বন্ধ করে দিচ্ছেন। পরে টাকা দিলে আবার দোকান খুলতে দিচ্ছেন। রাজনীতির নাম করে মূলত তাঁরা চাঁদাবাজি শুরু করেছেন। কেবল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে ও মারধর করেই তাঁরা থামছেন না। বৃহস্পতিবার ইমদাদুল হক এক কারখানায় গিয়ে হুমকি দিয়েছেন। ওই কারখানায় যুবদলের তিন কর্মী চাকরি করেন। পর ওই হুমকির কারণে যুবদলের কর্মীদের চাকরি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তাওলাদ হোসেন।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এফ এম সায়েদ বলেন, আমরা এমন কোনো ঘটনার খোঁজ পাইনি। কেউ এমন অভিযোগও দেয়নি। খোঁজ নিয়ে ঘটনার সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেব।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ