রোজার প্রাক্কালে সরকারের সিন্ডিকেটের সদস্য আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে: রিজভী - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ১:১৭, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

রোজার প্রাক্কালে সরকারের সিন্ডিকেটের সদস্য আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, মার্চ ৬, ২০২৪ ৪:৫৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, মার্চ ৬, ২০২৪ ৪:৫৮ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
রোজার প্রাক্কালে সরকারের সিন্ডিকেটের সদস্য আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘গুপ্তহত্যা, অপহরণ, গুম, ক্রসফায়ার নিত্যদিনের ঘটনার পাশাপাশি ডামি সরকার মানুষের জরুরী সেবা বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানী, সুপেয় পানির সংকটকে ঘনীভূত করেছে। এগুলো আজ সাধারণ মানুষের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। ঋণক্লিষ্ট অর্থনীতি, ব্যবসা-বানিজ্যে বিনিয়োগে চরম নৈরাজ্য, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পূরণে চরম নির্যাতন, লুটপাট করা অর্থবিত্ত, আইন শৃঙ্খলার নামে মানুষের স্বাধীনতা হরণ; অত্যাচার, চক্রান্ত, খুন, সন্ত্রাস, বিশ্বাসঘাতকতা, কুৎসাসহ এদের কলঙ্কের তীব্রতা এতটাই বেশী যে, তা কোনভাবেই ছাইচাপা আগুনের মতো আর লুকোতে পারছে না।

বুধবার (৬ মার্চ) বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘এরা (আওয়ামী লীগ) ক্ষমতাসীন হওয়ার পরপর এক কোটি চল্লিশ লক্ষ টাকা ব্যয় করে আমেরিকা, লন্ডন ও সিঙ্গাপুরে ‘রোড—শো’ করেছিল জ্বালানী খাতে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য। যেহেতু তারা দুর্নীতির ভাবধারায় অনুপ্রাণিত, সুতরাং এই খাতে তারা কোন বিদেশী বিনিয়োগ আনতে পারেনি। এরা বিদ্যুৎ খাতকে লোপাট করে আইনের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য ‘ইনডেমনিটি আইন’ তৈরী করেছে।

তিনি বলেন, ‘গত ১৪ বছরে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে ১৩০ শতাংশ, দাম বাড়ানো হয়েছে ১৩ বার। পিডিবি’র তথ্য মতে গত ১৪ বছরে ১৩ দফায় খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে প্রায় ১৩০ শতাংশ। ২০০৯ সালে দেশে বিদ্যুতের দাম ছিল ইউনিট প্রতি ৩.৭৩ টাকা। বর্তমানে দাম বেড়ে হয়েছে ৮.৯৫ টাকা। ইউনিট প্রতি এই দাম ২০০ ইউনিটের নীচে হলে, ২০০ থেকে ৩০০ ইউনিট হলে দাম হবে ইউনিট প্রতি ১২.০৩ টাকা। আর ৬০০ ইউনিটের উপরে কেউ যদি ব্যবহার করে তবে সেটির দাম হবে ইউনিট প্রতি ১৪.৬১ টাকা।

সূত্র মতে, ক্যাপাসিটি চার্জের নামে গত ১৪ বছরে লুটপাট ১ লাখ ৪ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ সালে বিদ্যুৎ খাতে সরকার ৪৩ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা ভতুর্কি বরাদ্দ করেছিল, যার বড় একটি অংশ ব্যয় হয়েছে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘পিডিবি’র তথ্য বলছে, ২০২২-২৩ সালে ক্যাপাসিটি চার্জের জন্য প্রায় ১৭ হাজার ১৫৫.৮৬ কোটি টাকা ছাড়া করা হয়েছে। জাতীয় সংসদে গত বছর প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান-গত ১৪ বছরে ৮২টি বেসরকারী এবং ৩২টি রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ মোট ১ লাখ ০৪ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। জ্বালানী বিশেষজ্ঞরা মনে করেন বিশেষ করে ক্যাপাসিটি চার্জ সংক্রান্ত অব্যবস্থাপনা, লুটপাট ও বিদ্যুৎ খাতে পুকুর চুরির কারণে সরকার বিদ্যুতে বিপুল ভতুর্কি দিতে বাধ্য হচ্ছে।

রিজভী বলেন, ‘সরকার কমিশন ও লুটপাট করার জন্য তুলনামূলক কম টাকায় নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন না করে কয়লা, তেল, গ্যাস-ইত্যাদি পরিবেশ দূষণকারী ফসিল ফুয়েল ব্যবহার করে দেশের পরিবেশের বিপর্যয় ডেকে আনছে। কয়লা, গ্যাস, তেল-ইত্যাদি আমদানির নামে দেশ থেকে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা পাচার করছে। গ্যাস সংকটে দেশের শিল্প-কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বাড়ীতে বাড়ীতে চুলা জ্বলছে না। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে রমজান মাসে ভয়াবহ দুর্ভোগের মধ্যে পড়বে সাধারণ মানুষ।

তিনি বলেন, ‘রোজার প্রাক্কালে সরকারের সিন্ডিকেটের সদস্য আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পরিকল্পিতভাবে নানা অঘটন ঘটিয়ে এরই মধ্যে বাড়িয়ে দিয়েছে চিনির দাম। শুল্ক কমানোর পরদিন থেকেই দাম তো কমেইনি বরং বৃদ্ধি পেয়েছে। খেজুরের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে অস্বাভাবিক গতিতে, এত দাম বৃদ্ধি হয়েছে যে, মানুষ আর খেজুর কিনতে পারছে না। প্রতি কেজিতে খেজুরের দাম ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। শিল্পমন্ত্রী বলছেন ‘খেজুরের বদলে বরই দিয়ে ইফতার করুন, আঙ্গুর-খেজুর লাগবে কেন ?’। এই ধরণের বক্তব্য ধর্মপ্রাণ মুসলমানের প্রতি এক ধরণের রসিকতা। খেজুর দিয়ে ইফতারীর যেমন সায়েন্টিফিক ব্যাখাও আছে তেমনি একইভাবে মহৎ অনুভুতিও রয়েছে। কারণ আমাদের প্রিয় নবী (সঃ) খেজুর দিয়ে ইফতারী করতেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, ‘সবজীর ভরা মৌসুমেও পিঁয়াজসহ সব জিনিসের দাম এখন আকাশচুম্বী। বাংলাদেশের ইতিহাসে ভরা মৌসুমে পিঁয়াজের চড়া মূল্য নজীরবিহীন ঘটনা। এই সময় পিঁয়াজের মূল্য থাকার কথা ১৫/২০ টাকা, কিন্তু এখনও ১০০ টাকার নীচে কোন পিঁয়াজ পাওয়া যায় না। রোজার আগে ডিম, মাছ-মাংসসহ সকল নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির মূল কারণ হলো সরকারদলীয় সিন্ডিকেটের লুটপাট। ডামি সরকারের মন্ত্রীরা গরীব সাধারণ মানুষের সাথে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য আচরণ করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা: আব্দুস কুদ্দুস, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সহ-প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামিমুর রহমান শামিম, সহ-অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুল হক সুমন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ